আফজাল হোসেনের পাঁচটি কবিতা

দীর্ঘশ্বাস/০১

যখন বিগতদের বাহাদুরি বাতাস কাঁপায়
ছাঁইয়েরাও উড়ে ঘুরে হাসে
তখন বাদ্য বাজিয়ে পথে ঘাটে নাচে পাপ
অশ্লীল কাতুকুতুতে কাতর পূন্য 
নাটাইয়ের হাত খুঁজে হয়রান রোজ-
কোথাও কেউ নেই, নেই কেউ
কালো দস্তানা হাসে খেলে মানুষবাগানে,
একদার লেপা পোছা সমৃদ্ধ উঠোন
তুমিও নিঃসঙ্গ হলে নিশ্বাসে, শাপে ?

 

দীর্ঘশ্বাস/০২

নত হওয়া মানে গত হওয়া
চলো, নত হই
চলো, গত হই।

 

দীর্ঘশ্বাস/০৩

বনের বাঘ থেকে লুডোর ছক্কা
সকলেই সীমাহীন অনুগত তোমার ও তোমার প্রেমের।

অহরহ ময়না পাখির মত বলে চলেছো,
তোমার মত আর কেউ চেনে নাই প্রেম।

এমন নির্বিষ দাবী, সর্পকূলেও রয়েছে গন্ডায় গন্ডায়।
তাদেরই মানায়, ফনা তুলে হেলে দুলে হিশ হিশ,
ভয় ছড়ানো রুদ্রছোবল, সর্পস্বভাবে তাও নয় বেমানান।

তুমি তো মানুষ হে-
ফনা বা ছোবলের দাপট যে দেখাও, তা তামাশার মত
চোখ রাঙানো মুখে দূর্দান্ত প্রেমের বাণী,
সুরভিত প্রেমময় দাবী
ইলিশ পান্তার মত, খুবই গোঁজামিল-
বড় বেশী বোকা সোকা কারবার।

দীর্ঘশ্বাস/০৪

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে
কথাটা গোলমেলে নাকি নির্ভেজাল!
প্রমান মিলছে না কোনও
চোখ কান খাড়া আছে,
বাড়াবাড়ির লক্ষন পড়ে না চোখে।

পোড়া কপালে তাদের পালানো নেই
তারা চোর থেকে হচ্ছে ডাকাত
বুদ্ধি বেড়ে চনমনে দেখাচ্ছে তাদেরই।

 

দীর্ঘশ্বাস/০৫

ছোটকালে কান ধরে উবু হয়ে থাকেনি কে হে ?
সেই সব অপমান ধুয়ে মুছে আসে আসে বড়কাল,
বড়কাল এসেছিল-
সকলেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে দেখেছিল,
দেখেছিল রঙধনু, কীর্তিমান, মুখর আকাশ।

তারপর-
আবার আবার
দিন গেলে যেমন ফিরে আসে রাত
ফিরে আসে শাষনের ছোটকাল
কান ধরে উবু হয়ে থাকা
আবার, আবার….