ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে জয়ী টাইগাররা

আহসান শামীম

১২ বছর পর বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়। শেষ ম্যাচে বৃষ্টি সহায় হয়ে হাত ধরলেও খেলেই জিতেছে বাংলাদেশ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়েই টাইগাররা ধরাশায়ী করেছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। 

বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোনো দেশের বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজ বিজয়। চূড়ান্ত ফলাফল ২-১। আজকের ম্যাচ সেরা লিটন দাস।ম্যান অব দ্য সিরিজ অধিনায়ক সাকিব।

২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৩ রানের জয় দিয়ে বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টির শুরু। এরপর বাংলাদেশ খেলেছে মোট ৮১ টা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।জয় ২৪টাতে আর হার ৫৫ ম্যাচে। ফল হয়নি ২ ম্যাচের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে ২০১২ সালের  তিন ম্যাচে সিরিজের সবকটিতেই আইরিশদের হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় আর হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগারররা। সেটাই শেষ ।

এমন এক ইতিহাসের সামনে আজ ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় বারের মত সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ফ্লোরিডায়ার মাঠে নামে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে এই মাঠে সর্ব্বোচ ১৬১ রানের রান সাফল্য ভাবে তাড়া করে জয়ের একমাত্র রেকর্ড।সেখান সিরিজ জয়ের যুদ্ধে ওয়েষ্ট উইন্ডিজকে দেওয়া বাংলাদেশর ১৮৫ রানের লক্ষ্যটা বেশ বড়ই ছিল।ব্যাট হাতে পাওয়ার প্লেতে,বাংলাদেশের বোলিং তোপে দিশেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৩/৩ উইকেট হারায়। মুস্তাফিজ,সৌম্য আর সাকিব তুলে নেন ফ্লেচার,ওয়েলিটন আর স্যমুয়েলসের উইকেট।১২ তম ওভারে রুবেল সাজঘরে ফেরান ২১ রান করা রামাদান দলীয় ৮৪ রানের মাথায়।১৩ তম ওভারে মুস্তাফিজের তৃতীয় ওভারে ফিরতে হয় ইনফর্ম পাওয়েলকেও। শেষের দিকে ব্যাট করতে নামা বাড়ন্ত রান রেটের সাথে পাল্লা দিয়ে রান বাড়াতে থাকেন আন্দ্রে রাসেল। তাঁকে সঙ্গ দেন আরেক হার্ড হিটার ব্র্যাথওয়েট।অবশ্য ১৭ তম ওভার শেষে রনি ব্র্যাথওয়েটকে সাজঘরে ফেরান। ১৭ তম ওভারে শেষে ওয়েষ্ট উন্ডিজ দলীয় ১৩৭/৬।১৭.১ ওভারে উইন্ডিজের জয়ের স্বপ্ন দেখানো আন্দ্রে রাসেল ২১ বলে ৪৭ করে মুস্তাফিজের বলে দলীয় ১৩৫ রানে আউট হওয়ার পর বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।

বল করতে এসে আহত হয়ে আহত হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন অপু। জানা গেছে ইনজুরি আক্রান্ত অপুকে এরই মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে তাঁর হাতের অবস্থা কেমন সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টস জয়ের পর বাংলাদেশ ব্যাটিং টাই বেছে নেয়।শুরুটা ছিল দারুন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ২২ বলে দলীয় পঞ্চাশ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের দ্রুততম পঞ্চাশ রানের ইনিংস। দুই ওপেনার তামিম ও লিটন মাত্র ৩.৪ ওভারে লিটনের দাসের ১২ বলে ৩৫ ও তামিম ইকবালের ১০ বলে ১৭ রানে ইনিংসের ২২ তম বলেই ৫২ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

ভালো সুচনার পরেও অগোছালো ব্যাটিংয়ে ১৩ বলে ২১ রান করে ব্রাথওটের বলে সাজঘরে ফিরে যান তামিম। তামিম আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ বলে ৫ রান করে আবারো ব্যর্থ হন সৌম সরকার। কিমো পলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।সৌম্যের আউটটা দ্বিতীয় ম্যাচের রিপ্লের মতই।ঐ ম্যাচেও তিনি একই বোলারের বলে একই ফিল্ডারের হাতে ১৪ রানে আউট হয়েছিলেন। সৌম্যের পর ডিপেন্ডেবল মুশফিকও ১৪ বলে ১২ রানে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন।ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ৭১ রান তুলে নিলেও ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৯৭/৩।

এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারালেও আরেক প্রান্ত আগলে রেখে ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন লিটন। ৩২ বলে ছয় চার ও তিন ছক্কায় ৬১ রানে সাজঘরে ফেরার আগে এই লিটনের ব্যাটে ইনিংসের ১১তম ওভারে দলীয় একশ পার হয় বাংলাদেশ দল। লিটনের বিদায়ে মাহমুদউল্লাহ-সাকিব দলের হাল ধরেন। সাকিব ব্যক্তিগত ২৪ রানে সাকিব ফিরে গেলে ভাঙ্গে তাদের ৪২ রানের জুটি।এরপর তিরিশ মিনিট বৃষ্টির কারনে খেলা বন্ধ থাকার পর আরিফ-মাহমুদুল্লাহর ব্যাটিং এ ভর করে বৃষ্টি শেষে  ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ পাঁচ উইকেটে ১৮৪ রান।

ছবিঃ ইএসপিএন