গোপন কথা…

মানুষ জানতে চায়। রহস্যে মোড়া এই পৃথিবীতে তার বেঁচে থাকার জন্যই জানা প্রয়োজন। কতকিছু জানতে চায় মানুষ! মৃত্যুর রহস্য, নিজের ইতিহাস, ভবিষ্যত, জটিল অঙ্কের সমাধান, মহাকাশের রহস্য, মনের জটিল আবর্ত। কিন্তু পুরোটা কি জানা সম্ভব? মানব প্রজাতির ইতিহাস বলে, একটু একটু করে নিজের জানার পরিধি বাড়িয়েছে মানুষ। জোগাড় করেছে তথ্য, জোড়া দিয়েছে অভিজ্ঞতা। কিন্তু সব তথ্য এই পৃথিবীতে মানুষ করায়ত্ত করতে পারেনি। যেমন সে জানতে পারেনি তার পাশে ঘুমিয়ে থাকা সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর মনের কথাও। সাহিত্যিকরা বলেন গোপনীয়তা সুন্দর। তা যেন নারীর সৌন্দর্য্। আড়ালেই সে ফুটে ওঠে আরো সুন্দর হয়ে। কিন্তু মানুষের অন্বেষণ, জ্ঞানের চর্চা আর প্রযুক্তির ব্যবহার গোপনীয়তার নিজস্ব নির্জনেও আলো ফেলতে শুরু করেছে। আর তাই বোধ হয় ‘ফাঁস’ শব্দটি গোপনীয়তার বিপরীতে আজ এতো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। গবেষকরা মানুষের মনের মধ্যে নানা কৌণিকে আলো ফেলে জানিয়েছেন, একজন মানুষ ১৩টির বেশী গোপন কথা মাথায় আশ্রয় দিতে পারে না। এর মধ্যে ৫টি গোপন তথ্য মানুষ কখনোই প্রকাশ করে না।  মানুষের সেই গোপন কথার গোপনে খানিকটা আলো ফেলতেই এই সংখ্যা প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজন ‘গোপন কথা’।

গোপন ততক্ষণ গোপন যতক্ষণ সে প্রকাশিত নয়। ‘জার্নাল অফ পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি’ নামে একটি গবেষণাপত্রে মানুষের মনের গোপনীয়তার নানা দিক নিয়ে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা প্রায় ২০০ জন মানুষকে ৩৮ বিষয়ে প্রশ্ন করেন যা সাধারণত একজন মানুষ গোপন রাখতে চায়। এর মধ্যে মাদক সেবন, মিথ্যে কথা বলা, গোপন যৌন সম্পর্ক ইত্যাদি প্রসঙ্গ ছিলো। সেই পরীক্ষায় দেখা গেছে গড়ে সেই ১৩টি বিষয়ই প্রত্যেকে গোপন রেখেছেন। গবেষকরা বলছেন, গোপন কথার সংখ্যা নয়, শেষ পর্য্ন্ত মনের মধ্যে চেপে বসা গোপন কথার ভারই তাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে বাধ্য করে।

অন্যের মন পড়তে চেয়েছে মানুষ। পড়তে চেয়েছে তার সঙ্গের মানুষটির মনের বারান্দায় জমা হওয়া গোপন ভাবনা-মেঘের অনুবাদ।আর এই বিদ্যাটি প্রত্যেক মানুষ একাই করায়ত্ত করতে চায়। কিন্তু গোপন কথা এমন এক বিষয় যা অন্যে জেনে গেলে সমাজের কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে। মন নিয়ে কারবার করা বিজ্ঞানীরা অন্তত তাই বলেন। সমাজের কাঠামোকে ধরে রেখেছে এক ধরণের মিথ্যার প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা। অনেক সত্য জানা হয়ে যাবার পরেও আমরা সে তথ্যটুকু ভুলে যেতে চাই। বিশ্বাস করতে চাই না। সব সত্য যদি নিজেকে সমাজের গভীরে সমূলে প্রতিষ্ঠিত করে তাহলে হয়তো এই সভ্যতারই সংকট দেখা দেবে। মানুষ হয়তো তখন এমন এক যন্ত্র বানাতে চাইবে যা অন্যের হৃদয় পাঠ করার ক্ষমতাকে বাধা দেবে।আসলে গোপন আর প্রকাশিত-এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সবসময়ই চলছে এক নাটকের মঞ্চায়ন। একদিকে জানার প্রাণান্তকর চেষ্টা অন্যদিকে জেনে গিয়েও ভুলে থাকার আকুতি।

সেই যে ছোটবেলার শোনা গল্পের নাপিত রাজার গোপন কথা জেনে ফেলে বিপদে পড়েছিলো। গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনতে না পেরে তার পেট ফুলে উঠছিলো ক্রমাগত। শেষমেশ নাপিত এক গাছের কাছে গিয়ে সিব কথা বলে মনকে মুক্তি দিয়েছিলো গোপনীয়তার চাপ থেকে। কিন্তু তারপর সে তথ্য কি গোপন ছিলো? সেই গাছের কাঠ দিয়ে বানানো বাদ্যযন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছিলো রাজার গোপন কথা। গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিড়ম্বনা অনেক। ঝড় ওঠে মনে, ঝড় ওঠে রাজনীতির অলিগলিতে, ঝড় ওঠে রাজপথে। নদীর একুল ওকুল ভেসে যায়, সত্য হেমন্তের অরণ্যে পাতা ঝরিয়ে নগ্ন হয়ে দাঁড়ায় গাছের মতোন। সত্যকে আমরা নিতে পারি না সবসময়। তাই তো গোপনের আয়োজন এতো গাঢ়।

গোপনকে জানার ইচ্ছাটা যেন এক কাঠঠোকরা পাখি।দুপুরের নির্জনতা থেকে রাত্রির হাত-পা মেলা অন্ধকারেও চলে অন্বেষণ, জানার ইচ্ছের নিভু নিভু প্রদীপকে হাতের আড়ালে বাঁচিয়ে কেউ পথ চলে। এই কেউটা-ই আমাদের মন। পথ চলা তার ক্লান্তিহীন। খুঁজে ফেরাও তার অনন্তকালের। আর নিজের মনের মধ্যে সেই খোঁজের প্রক্রিয়াটা যখন জাঁ পল সার্ত্রের অস্তিত্ববাদের দর্শনের রাস্তা ধরে তখন চমকে দিয়ে মাথা তোলে সত্য, ভাঙ্গে গোপনীয়তার আবরণ। এই তো কিছুদিন আগে হলিউডের নায়িকারা প্রায় দলবেঁধেই মনের মধ্যে চেপে রাখা নিগ্রহ আর নিপীড়নের করুণ বাষ্প ঠেলে বের করে দিলেন। সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে সুযোগের জন্য কিশোরীবেলায় তাদের শিকার হতে হয়েছে পুরুষের অভব্য প্রস্তাবের। সইতে হয়েছে যৌন নির্যাতন।হলিউড অভিনেত্রী উইদারস্পুন বলেছেন, যৌন নিপীড়নের স্মৃতি মনের মধ্যে গোপন রেখে তিনি রাতের পর রাত ঘুমাতে পারেননি। সেই সময়টা ছিলো তার জীবনের সবচাইতে বিষন্ন সময়। গোপন তথ্য মনের মধ্যে চাপ তৈরী করে। সত্য বেশীরভাগ সময়ই প্রকাশিত হতে চায়। তাদের প্রকাশিত সত্য দুনিয়াজুড়ে জন্ম দিয়েছে স্ক্যান্ডালের। সেই গোপন প্রকাশিত হয়ে বিপাকে ফেলেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকেও।

গোপন ব্যাপারটা রাজনীতির ব্যারোমিটারে লাল দাগেই চিহ্নিত। বিরোধী দলের অফিসে আড়িপাতার যন্ত্র বসিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন। সে গোপন আলোর মুখ দেখলে পতন ঘটে তার। ভিয়েতনামে মার্কিন সেনা অভিযানের গোপন দলিল পত্রিকায় ফাঁস হয়ে গেলে কেঁপে উঠেছিলো গোটা বিশ্ব। তেমনি পৃথিবীর মানুষ হতবাক হয়েছিলো বিল ক্লিন্টনের যৌন কেলেঙ্কারী ফাঁস হওয়ার খবরে।

প্রাচীন রেড ইণ্ডিয়ান প্রবাদ আছে, অবৈধ প্রেম, ধোঁয়া আর গর্ভাবস্থা লুকিয়ে রাখা যায় না। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের গোপন কথাও লুক্কায়িত থাকেনি।রাজকুমারী ডায়না প্রকাশ করে দিয়েছিলেন যুবরাজ চার্লসের গোপন প্রণয়-কথা। আর এই প্রকাশিত গোপনীয়তা ঝড় তুলেছিলো বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে। ফলাফল করুণ বিচ্ছেদ। রাজকুমারী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাবার আগেই ১২ ঘন্টার এক গোপন ফুটেজে ফাঁস করে দিয়েছিলেন স্বামী চার্লসের বাথরুমে গিয়ে প্রেমিকা ক্যামিলার সঙ্গে ফোন সেক্সের কাহিনি। এই পর্দা উন্মোচন ডায়না করেছিলেন এক সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে ১৯৯৭ সালে। সম্প্রতি এই তথ্য বৃটেনের বিখ্যাত ‘দ্য সান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞান বলছে, মেয়েদের মধ্যে কথা গোপন করার ক্ষমতা পুরুষের তুলনায় কম। ইংল্যান্ডের একটি ব্রিটিশ ত্বক পরিচর্যা বিষয়ক কোম্পানি আরেকটু গভীরে নেমে নারীর মনের তারল্য আঁচ করতে সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় দেখা যায়, মেয়েরা কোনও একটি গোপনীয় কথা ৩২ মিনিটের বেশি গোপন রাখতে পারে না। সেই জায়গায় একজন পুরুষ একটি কথা প্রায় ৫৪ মিনিট গোপন রাখতে সক্ষম।কিন্তু কেন মেয়েদের এই প্রবণতা? আমেরিকার টাফটস বিশ্ববিদ্যালের গবেষকরা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিলেন। তারা বলছেন, আধুনিক যুগের আগমনের আগে পর্যন্ত মেয়েরা ছিলেন মূলত গৃহজীবনে আবদ্ধ এবং সেখানে মূলত মেয়েদের সঙ্গেই মেয়েদের মেলামেশা বেশী হতো। তারা একে অপরের সঙ্গে নিজেদের গৃহজীবন অথবা ব্যক্তিকেন্দ্রীক কথা আলোচনা করতো। ফাঁস হতো বহু গোপন কথা। এই আধুনিক যুগের মেয়েরা সেই উত্তরাধিকারকেই বহন করে চলছেন বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ তার গানে গোপনীয়তা নিয়ে সেই শ্বাশ্বত কথা বলে গেছেন-গোপন কথাটি রবে না গোপনে। মানুষ আসলে জানার প্রয়োজনেই অবগত হতে চায়, তথ্যের অধিকার চায়। মানুষের এই চাওয়াকে সত্যে পরিণত করতে চেয়েছিলেন পৃথিবীতে তুমুল আলোচিত মানুষ জুলিয়াস অ্যাসাঞ্জ আর তার প্রতিষ্ঠিন গোপন সংস্থা ‘উইকিলিকস’। তাদের উদ্দেশ্যই ছিলো পৃথিবীর যত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান যে সব তথ্য আর নথি গোপন করে রাখে তা প্রকাশ্যে নিয়ে আসা। কম্পিউটারে হ্যাকিংয়ের সহায়তায় অ্যাসাঞ্জ ফাঁস করে দিয়েছেন ইরাকে মার্কিন বাহিনীর নির্যাতনের গোপন কাহিনি। উল্টে দিয়েছেন সুইস ব্যাংককে ঘিরে নানা জালিয়াতি আর অবৈধ কর্মকাণ্ডের ঝুলি। উইকিলিকস প্রকাশ করেছে ইরাক যুদ্ধের ওপর ৪ লক্ষ গোপন নথি। যা এখন পর্য্ন্ত কোনো সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য ফাঁসের বৃহত্তম নজির।

মানুষ তথ্য গোপন করতে চায়। বলা ভালো লুকাতে চায় সত্য। সেই সত্য অথবা তথ্য গোপন রাখার জন্য প্রাচীনকাল থেকে নানা ধরণের পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্রিপ্টলজি। সব তথ্য সরবরাহ করা যায় না, জানানোও সম্ভব নয়। তথ্য সরবরাহে গোপনীয়তা অন্যতম। কিছু তথ্য জনসাধারণের জন্যে নয়। এইসব তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।একদা এমটিই ভাবা হতো। আর তথ্য গোপন করার যে বিজ্ঞান তাকে ক্রিপ্টোলজি বলা হয়।আর এর ব্যাবহারিক শাখা হচ্ছে ক্রিপ্টোগ্রাফি। ক্রিপ্টো শব্দের অর্থ গুপ্ত বা লুকানো কোন কিছু। ক্রিপ্টোগ্রাফির সূচনা হয়েছে সেই আদি যুগ থেকে। লেখার আবিষ্কার, তথ্য আদান-প্রদান এর মাধ্যম আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রশ্ন আসে তথ্য নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষা প্রসঙ্গে। এছাড়া কোন গোপন জ্ঞান নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য বিশেষ সাংকেতিক ভাষার প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করে। শুরু হয় সংকেতের ব্যবহার। ক্রিপ্টোলজির শিকড় সন্ধান করতে ফিরে যেতে হবে প্রায় ৩০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে, ব্যাবিলনিও সভ্যতার যুগে। তারাই প্রথম সামরিক কাজে তথ্য আদান-প্রদান করার জন্যে ক্রিপ্টোলজির সূচনা করে। তবে সেই সময় ক্রিপ্টোলজি ব্যাপারটা ছিলো অনেকটা আজকের ধাঁধাঁর মত। রূপকের ব্যবহার হতো বেশি। ঠিক সেই সময় মিশরীয়রাও ক্রিপ্টোলজির ব্যবহার শুরু করে। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো তাদের পিরামিডের উপর আঁকা ছবি যাকে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিকস।

এতো গেলো গোপন কথা গোপনে রাখার কৌশলের গল্প। কিন্তু হাতের রেখা বলে, বুড়ো আঙুলকে নাকি মানুষের চরিত্রের আয়না। মানব দেহের ওই আঙুলের কাঠামো দেখেই একজন ব্যক্তির অনেক গোপন কথা বুঝে ফেলা যায়। বোঝা যায় তার অর্থনৈতিক অবস্থা, যৌন সম্পর্ক এবং রোগ সম্পর্কে৷

* বলা হয়ে থাকে, যার বুড়ো আঙুল লম্বা হয় সে বুদ্ধিমান এবং উদার হয়৷ এঁরা শৌখিনও হয়ে থাকে৷ যদি এই আঙুল তর্জনীর দ্বিতীয় দাগ পর্যন্ত পৌঁছয় তাহলে সেই মানুষটি সৎ। সে কারোও ক্ষতিসাধন করেনা৷
* এই আঙুলটি ছোট হওয়া শুভ লক্ষণ নয়। এদের পারিবারিক জীবন সুখের হয় না এবং অনেক সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এরা৷
* বুড়ো আঙুলটি বেশি চওড়া হলে মনে করা হয় সেই মানুষ খরুচে। আর এই ধরনের মানুষেরা অনেকসময়ই খারাপ স্বভাব বা সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে৷
* এই আঙুলটি নিচে সরু এবং ওপরের দিকে মোটা হলে, সেই ব্যক্তির কাজে বিভিন্ন সময়ে বাধা আসতে পারে।
* এই আঙুল সরু এবং লম্বা হলে ব্যাক্তি শান্ত স্বভাবের হয়৷ এমন ব্যক্তি নিজের কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে৷ এঁরা ভাবুকও হয়ে থাকে৷

মানুষের মন আলোতে যায়, আঁধারে যায়। ছায়াঘেরা অস্বচ্ছ কোনো অংশে জমিয়ে রাখে মনের গোপনতম কথাটি। সব কী বলা যায়? বলবো বলবো করে বেলা চলে যায় অবেলার দিকে। চারা গাছ বড় হয়, কুঁড়িতে সাজায় নিজেকে। মনের কলতলায় নিঃশব্দে বাড়ে গোপন কথার ছত্রাক। কত কথার বসন্তের দিন নিজেকে চৈত্রে পোড়ায়। বলা হয় না, বলা হয়ে ওঠে না গোপন কথাটি তাকে। শুধু কবিতার খাতায় লেখা হয় চরণ-গোপন তুমি আরো সুন্দর হও।

ইরাজ আহমেদ

ছবি: প্রাণের বাংলা

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট