জীবন যেমন…

সজীব খন্দকার

(জার্মানী থেকে): আমাদের সময় প্রায় সব ক্লাসেই এরকম একজন থাকতো যার নিকট আত্মীয়ের কেউ প্রায়ই বিদেশ থেকে এটা সেটা পাঠাতো, এবং সেই গিফট নিয়ে সে ক্লাসে এসে সবাইকে দেখাতো। সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখতো, অতি উৎসাহী কেউ আবার হাতে নিয়ে দেখতো। সব ক্লাসেই আবার একজন চোরও থাকতো। যে অবশ্যই সে জিনিস চুরি করে নিয়ে যেতো।

এমন কেউ কী আছে যে জীবনে মুগ্ধ বিস্ময় ভালোলাগা নিয়ে কোন ম্যাডামের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে নি ? সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভাবেনি, ফ্যানটা খুলে পড়লে কার মাথায় গিয়ে পড়বে ? এমন কেউ কী আছে যে স্কুলের অলস দুপুরে বেঞ্চের উপরে কলম দিয়ে নিজের নামখানা লিখে রাখেনি ?? এই পৃথিবীতে মানুষ আসলে নিজের একটা অস্তিত্ব জানান দিতে চায়। সে চায় কোথাও না কোথাও তার একটা অস্তিত্ব জিইইয়ে থাকুক… !!

প্রেমের ব্যাপারে আমরা ভীরু কাপুরুষ ছিলাম, সাহস করে বলতে পারতাম না; যদি অপমানিত হই !! জীবনে কত সুড়ঙ্গ পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছি, কত ঝড় জলোচ্ছ্বাস কত ভুল মানুষের সঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছি- তবু সদ্য গজানো গোঁফ উঠা বালকের কাউকে দেখা মাত্র হার্টবিট কাঁপতে থাকা দিন গুলোই জীবনে শ্রেষ্ঠ রোমাঞ্চকর হয়ে থাকবে !

এখন মাঝে মাঝে সকালে বের হলে, ব্যাগ কাঁধে নিয়ে হাফ প্যান্টে ইন করা শার্টপরা ছেলেদের দেখতে পাই। দেখলে মনে পড়ে- এক সময় আমিও এরকম কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। চুল আঁচড়িয়ে আগের দিন রাতে গুছিয়ে রাখা ব্যাগ কাধে নিয়ে বের হতাম। রোল কলের সময় চিৎকার করে ‘ প্রেসেন্ট স্যার ‘ বলা অন্যরকম এক জীবন ছিল। যে জীবন স্কুল পালিয়ে খাঁ খাঁ রোদে শহরের রাস্তায় চষে বেড়িয়েছে। যে জীবন বল্টু ভাইয়ের এক টাকার চানাচুর পয়সা না দিয়ে খেয়ে এসেছে …! আচমকা প্রেমে পড়েছিল, যে জীবন।

এখন তাদের সঙ্গে দেখা হলে আমি পালিয়ে যাই। কিছু মানুষ কেবলই স্মৃতিতে সুন্দর। কেবলই স্মৃতিতে!

ছবি: সজল