কি সন্ধানে যাই সেখানে কি সন্ধানে যাই…

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশী এলাকার বাজারে  হাঁটছি। ভাইবৌ নিরা ইসলাম গাড়ি পার্ক করছে।একজন ভদ্র মহিলা এগিয়ে এলেন। আলাপ করার মানুষ পাননা হয়তো। সালাম দিলাম। পথচারীদের যেমন কুশলাদী বিনিময় হয় তেমন কিছু কথাবার্তা চলছিল। উনি এবার হাঁড়ির খবর নিচ্ছিলেন! কাগজ আছে? (কমন ইনভেস্টিগেশন) বললাম নাই।আসলেন কেমনে? বললাম ভাই নিয়ে আসে।তাই? ভাই টিকিট দেয়? বললাম দেয় তো! ভিসা কই পান? বলি এই দাঁড়ালেই পেয়ে যাই আরকি।আমার কথায় তার প্রচ্ছন্ন অবিশ্বাস।এবার উপদেষ্টা বনে যান।বলেন শোনেন, ভাই কি আর সারাজীবন টিকিট দেবে? তার বালবাচ্চা বৌ ঠিকই একসময় আপিত্তি করবে।এর বদলে কাগজ করেন।কাগজ না করলে জীবনের দাম থাকে? প্রেস্টিজ তো আরো থাকেনা। আমি বলি কাগজ কি? উনি হতভম্ব! এতক্ষণ কোন বেকুবের সঙ্গে কথা বলছিলেন  ভেবেই তিনি বিরক্ত হলেন বোধহয়! নিরা পার্কিংয়ের জায়গাও পায়না আমিও এই চাপাবাজি থামাতে পারছিনা! তারপর উনি আনমনে বলছিলেন “কত স্বপ্নের দেশ কত সাধনার কাগজ, কত লম্বা সময় ধরে হইলো, এখন আমার দম আটকায় আসে।কথা বলার লোক পাইনা।সারাদিন ঘরে থাকু।ছেলে ছেলের বৌ জবে যায়।ঘরে বিশাল কুত্তা হের ভয়ে পানি খাইতে বসার ঘরে যাওয়ার জো নাই।এখন ছেলের বৌ বলে হিজাব এর বাক্স নিয়ে জ্যাকসন হাইটসের ফুটপাতে বসতে।এতে নাকি সময় কাটবে! এই কাজ আমার করা সম্ভব? আমি বললাম আপনি না বললেন স্বর্গরাজ্য! এবার তার অশ্রু আগল খোলে।আমেরিকা নিয়ে আসবে বলে ছেলে অনেক জমি বেঁচাইলো! তাতে অন্য সন্তানদের কিছু বঞ্চিত করলাম।এখন আমার এই দশা।সারাদিন ঘরে থেকে এই একটু বের হইলাম, কিন্তু ছেলে ছেলের বৌ আসতে রাত পার হবে।মরার ঢাউস কুত্তাটারে জান হাতে নিয়া আমারেই খাউন দিতে হয়।আল্লাহর কাছে দোয়া করি আপনি এই ফান্দে পইড়েন না যেন।আমি বললাম তাহলে আমি কাগজ করাবো না? মহিলা কেঁদে দিলেন। বললেন সারা গায়ের লোক জানে খোনকার বাড়ির বড় মেয়ার কত কপাল! আমেরিকা যায়! দামি গাড়ি ভাড়া নিয়া ধুলি উড়ায়া গ্রাম থেকে অহংকারের সঙ্গে এয়ারপোর্ট আসছি।তারপর আমেরিকা। এখন কি নিদারুণ কষ্টেই না পড়ছি! ছেলে কিনা বলে হিজাব বেঁচতে!মেয়ে থাকে ওহাইও, সে সায় দিয়ে বলে মা! এখানে কাজ তো কাজই রাজী হয়ে যাও! জাস্ট ফর টাইপ পাস! আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকলে কাগজ টাগজ ছিঁড়ে বাড়ি চলে যেতাম! নিরা গাড়ী পার্কিং পেয়েছে। বলে আপা চলেন, আপনার সব্জিমান্ডি এই যে সামনেই।পরিচিত এক ভাবী এসে বলেন আরে কনকচাঁপা তুমি কবে এসেছো? কোথায় উঠেছো? মহিলা এবার আমার হাত চেপে ধরেন! আশ্চর্য! আপনি শিল্পী বলেননি কেন? আমি হেসে বললাম আপা, সে সুযোগ আমি পাইনি। জীবনে আসলেই কখনো নিরবচ্ছিন্ন শান্তি কেউই পায়না! এই দুনিয়াতে তা একদমই নাই।ওই দুনিয়াতে? তা তো জানিনা!!

ছবি: প্রাণের বাংলা