ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ফেসবুক

সাইফ তনয় (টেক ব্লগার)

নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি আনার পরিকল্পনা করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানায়নি সামাজিক মাধ্যমটি। তবে, প্লাটফর্মটিতে লেনদেন সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন এই মুদ্রা চালু করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রযুক্তি সাইট ভার্জ।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি?
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরণের সাংকেতিক মুদ্রা। যার কোন বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব। যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি মার্কেটি পরিণত হয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরণের পিয়ার টু পিয়ার ব্যবস্থা। এতে তৃতীয় পক্ষের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই কে কার কাছে এই ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় করছে তা অন্য কেউ জানতে পারে না। আবার পরিচয় গোপন রেখেও এটা দিয়ে লেনদেন করা যায়। তবে এর এনক্রিপটেড লেজার সব লেনদেনকে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রিপ্টোকারেন্সির ভ্যালুর উপর কোন দেশের সরকারেই হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই। তাই পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ডিজিটাল মুদ্রার উপর সে দেশের সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সারা পৃথিবীতে প্রায় হাজারেরও উপরে সাংকেতিক মুদ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিটকয়েন , ইথেরিয়াম, লাইটকয়েন, রিপল, মোনেরো, ড্যাশ, বাইটকয়েন, ডোজকয়েন ইত্যাদি। তবে এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবার পূর্বসূরি ও সবচেয়ে পরিচিত। মূলত এর সফলতার কারণেই আরো প্রতিদ্বন্দী কারেন্সির জন্ম হয়।

ফেসবুকের এমন উদ্যোগ নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেসবুকের বিশাল সংখ্যক গ্রাহক এবং বর্তমান কেনাকাটার বিভাগটি এর মাধ্যমে পণ্য কেনাবেচা করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। ‘টোকেনাইজড ডিজিটাল কারেন্সি’ আনার জন্য অন্যান্য পথও খুঁজে দেখছে ফেসবুক। প্লাটফর্মজুড়ে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহারও বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড মারকাস। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফেসবুকের নতুন ব্লকচেইন বিভাগের নেতৃত্ব হাতে নিয়েছেন তিনি। ‘শুরু থেকে কীভাবে ফেসবুকজুড়ে ব্লকচেইন প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায়’ তা নিয়ে কাজ করছে এই বিভাগটি।

ছবি: গুগল