একদিন মন্ট্রিয়েল মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস-এ

মাসুদুল হাসান রনি

( কানাডা থেকে): এক বিকেলে গিয়েছিলাম গাই কনকোর্ডিয়া। সেখান হতে হাটতে হাটতে গেলাম রুয়ে শেরব্রুকে। উদ্দেশ্য বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী দেখা। ঘড়িতে তখন চারটা বাজে। মিউজিয়াম বন্ধ হবে ঠিক পাচটায়।তাই তড়িঘড়ি করে ঢুকতে হলো মন্ট্রিয়েল মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টসের মুল চত্বরে। দুর্ভাগ্য শেষ মুহুর্তে ঢুকে বেশীক্ষন থাকা হলো না, ভাল করে দেখা সম্ভব হলো না পিকাসোর জগৎবিখ্যাত চিত্রকর্মগুলোর মাস্টারপিস। অল্পসময়ে আসলেই কিছু দেখা হলো না। যা দেখেছি তাই বা কম কি!
মন্ট্রিয়েল শিল্প সাহিত্য নগরী হিসেবে খ্যাত।এ শহরে রয়েছে ৫৯ টি বড় বড় আর্ট মিউজিয়াম এবং অসংখ্য ছোট বড় গ্যালারী। কানাডার সেরা মিউজিয়ামগুলোর মধ্যে মন্ট্রিয়েল মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস অন্যতম। ১৮৬০ সালে বিশপ ফুলফোর্ড মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করেন।তখন নাম ছিল ‘ দ্যা আর্ট এসোসিয়েশন অফ মন্ট্রিয়েল।তার মূল উদ্দেশ্য ছিল
encourage the appreciation of fine arts among the people of the city. ৫২২,৩৫০ স্কয়ার ফিট আয়তনের এ মিউজিয়ামটি নর্থ আমেরিকার অন্যতম বড় মিউজিয়ামগুলোর একটি।
১৯৪৯ সালে মিউজিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে “মন্ট্রিয়েল মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস ” রাখা হয়।
১৯৭২ সালে মিউজিয়ামটি আধা সরকারী প্রতিষ্ঠান ঘোষিত হলেও এখন মুলত সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
এই মিউজিয়ামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরি সংঘটিত হয় ১৯৭২ সালের চার সেপ্টম্বর ।বলা হয়ে থাকে এটি কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ধষ শিল্পকর্ম চুরি। ১৮টি মহামুল্যবান পেইন্টিং,স্বর্নদ্বারা নির্মিত ভাস্কর্য চুরি হয়। সেইসময় যার মুল্যমান ১১ মিলিয়ন ডলার ছিল।
ঘুরে ঘুরে পিকাসোর অনেকগুলো চিত্রকর্ম দেখলাম।আহা ক্যানভাস জুড়ে কত উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি। কিউবিক, কোলাজ চিত্রশৈলির একেকটা ছবি কি অপূর্ব!
স্পেনে জন্ম নেয়া পাবলো রুইজ ই পিকাসো । যিনি পাবলো পিকাসো হিসেবে পরিচিত।তিনি ছিলেন একাধারে চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, প্রিন্টমেকার, মৃৎশিল্পী, মঞ্চ নকশাকারী, কবি ও নাট্যকার। বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত ও অত্যন্ত প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে তিনি কিউবিস্ট আন্দোলনেরসহ-প্রতিষ্ঠাতা, গঠনকৃত ভাস্কর্যের উদ্ভাবক, কোলাজের সহ-উদ্ভাবক, এবং চিত্রশৈলীর বিস্তৃত ভিন্নতার কারণে অধিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে প্রোটো-কিউবিস্ট লেস ডেমোইসেরেস ডি’আভিগনন (১৯০৭) এবং স্পেনের গৃহ যুদ্ধের বিরুদ্ধে আঁকা গোয়ের্নিকা (১৯৩৭)।
পিকাসো, হেনরি মাতিস এবং মার্সেল ডচাম্প এই তিনজন শিল্পী বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্লাস্টিক আর্টে বৈপ্লবিক উন্নতর মাধ্যমে চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, প্রিন্টমেকিং এবং মৃৎশিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান।
২০১৫ সালের ১১ই মে স্পেনের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা ‘উইমেন অব আলজিয়ার্স’ ছবিটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি শিল্পিকর্মে পরিণত হয়েছিল। নিলামে চিত্রকর্মটি রেকর্ড ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল । বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ।

ছবি: লেখক