স্বপ্নে পাওয়া গল্প

স্বপ্নে পাওয়া গল্পগুলো কেমন? আধভাঙ্গা, খানিকটা মোচড় খাওয়া, ঘুম আর জাগরণের মাঝখানে বয়ে যাওয়া অস্পষ্ট রহস্যের মতোন। এবার ফেইস বুকে পোস্টবক্সের কাছে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিলো স্বপ্ন নিয়ে গল্প লেখার আহ্বান। লেখকরা অণুগল্প লিখেছেন স্বপ্নে দেখা সেইসব ঝাপসা হয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলো জোড়া দিয়ে। প্রাণের বাংলার সাহিত্য বিভাগে এবার গল্প পর্ব-স্বপ্নে পাওয়া গল্প।

সা’দ জগলুল আববাস
লেখক

জেটল্যাগ

এবার বিদেশ ঘুরে আসার পর মনে হচ্ছে জেট ল্যাগটা দারুন ভাবে চেপে বসেছে, ভাবসাব দেখলে মনে হবে সাহেব এক বছর পরে সফর করে ফিরেছেন।এটা নিয়ে স্বজনদের মাঝে বেশ কানাঘুষাও হচ্ছিলো ; অথচ ছিলাম সোমে সোমে মাত্র একমাস ! তার আগেরবার ছিলাম দু’মাস কিন্তু দু তিনদিনেই সামলে উঠেছিলাম। এবার কপাল ভালো অফিস নেই ইস্তফা দিয়েছি, আর কতো দাসখত!!!।থাকলে বিপদেই পড়তাম! দুপুর দু’টোর দিকে চোখ ভেঙ্গে রাজ্যের ঘুম নামতো!

এই বেড়াছেড়া অবস্থায় পড়ে প্রথম ক’দিন কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম! প্রায়শ: বিদেশ ভ্রমণকারী এবং জেট ল্যাগ নিয়ে রিসার্চ করা অনেক নামি দামী মানুষের আদেশ- উপদেশ মেনে চলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু আমার অবস্থা একই।

যা’হোক, এরই মাঝে একদিন দুপুরে খাওয়ার পর ভাবলাম , আজ কোন ভাবেই জেট ল্যাগের কাছে আত্মসমর্পন করবো না, ল্যাপটপটা নিয়ে বসলাম …অনেকদিন হলো বিভিন্ন সময় তোলা ছবিগুলো এলোমেলো হয়ে আছে, কিছু আছে কার্ডে, কিছু পেন ড্রাইভে…বড় অংশটা আছে ল্যাপটপে সেভ করা, যে কারণে ওটারও মাঝে মাঝে জেট ল্যাগের ঝিম ধরে! এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভ কিনেছিলাম একটা, ওটাতে সব ফোল্ডার করে সাজিয়ে নেবো,তাতে পোয়াতী ল্যাপটপটার মাঝে মাঝে লজ্জা পেয়ে আঁচল চাপা দেয়া থেকে রেহাই পাওয়া যাবে ! কার্ড রীডার, পেন ড্রাইভ, কার্ড, হার্ড ড্রাইভ এক যায়গায় করে ল্যাপটপটা খুললাম! সঙ্গে নিলাম এক মগ কড়া কফি! হুম, ব্যাটা জেট ল্যাগ, তোর নিকুচি করি! গুন গুন করে গাইছি, “মানবো না হার মানবো না…” !

প্রথমে হার্ড ড্রাইভে কিছু ফোল্ডার তৈরি করে পেন ড্রাইভের ছবিগুলো ট্রান্সফার করলাম; তারপর কার্ড গুলো ধরলাম..তিনটা কার্ডের ছবিগুলোরও গতি হলো! এখন সবচে’ বড় কাজ , ল্যাপটপ থেকে ছবিগুলো সরিয়ে নেয়া! অনেক ফাইল এফ ড্রাইভে, বেশ সময় নেবে! দুটো ড্রাইভের ফোল্ডারগুলো কপি করে এক্সটারনালে পেষ্ট করলাম; সময় দেখলাম ৪০ মিনিট লাগবে!এতো মরনপণ এবং কড়া কফির মাঝেও চোখ দুটো মনে হচ্ছিলো বুঁজে আসছিলো!

এক সময় শেষ হলো। এরপর ভাবলাম, প্রায় ভরে আসা একটা কার্ড খালি করি…সামনে ছবি তোলার প্ল্যান! কি মনে করে ফরম্যাট করার ইচ্ছে হলো, চালু করে দিলাম, সামান্য সময় লাগলো! এবার আরাম করে কফিতে চুমুক দিয়ে এক্সটারনাল ড্রাইভটা খুললাম। ইচ্ছে, ফোল্ডার গুলো আরো ভালো ভাবে সাজানো।

মনে হলো ভুল দেখছি , ল্যাপটপ ফকফকা, পরিষ্কার ইংরেজীতে লেখা, ‘No files in this drive’ ভাবলাম ভুলে মনে হয় তখনো ল্যাপটপের সঙ্গে লাগানো ফরম্যাট করা কার্ডটা খুলেছি! আবার হার্ড ড্রাইভটা ক্লিক করলাম, কিন্তু সেই ধূ ধূ বালুচর।  এবার কার্ডটা খুললাম, তখন সব জলবৎ তরলং হয়ে গেলো। আমি ভুলে এক্সটারনালটা ফরম্যাট করে ফেলেছি!মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো , চোখে অন্ধকার দেখতে দেখতে  চেয়ারটা থেকে পড়ে গেলাম।

চোখ খুলে দেখি আমি ফ্লোরে। ধড়মড়িয়ে  উঠে দাড়ালাম ; ট্রান্সফার হচ্ছে, ৪০ মিনিট এখনো শেষ হয়নি ! কপাল ভালো , মেঝেতে কার্পেট ছিলো আর কামরায় কেউ ছিলো না।

আজমেরী সুলতানা ঊর্মি
লেখক

স্বপ্নাবিষ্ট

ঘন জঙ্গল আর জলাভূমি পেরিয়ে সেই গ্রাম,ওখানেই তার বাস।ভারী মিষ্টি সেই গ্রামটি।কাঠ আর মাটি দিয়ে বানানো বাড়িঘর ভীষণ ছিমছাম।সবার উঠোনভর্তি  স্বাস্থ্যবান সব্জী আর লতানো ফুলের গাছ।পাশের জঙ্গলটিও ছবির মতো।সারি সারি পাইন,ওক,সেগুন আর আপেল গাছ।গাছের ডালে ডালে সুদৃশ্য কাঠবেড়ালীরা লাফিয়ে বেড়ায়।আয়েশী ভঙিমায় আধেক আপেল খায়।আবার লাফিয়ে বেড়ায়।

সেই গ্রামের দারুণ সুখী আর নিরীহ  মানুষেরা বিশাল  ক্ষেত জুড়ে আঙুর ,বেদানা আর কমলার চাষ করে।কেউ কেউ করে যব আর ভুট্টা।

মেয়েটি হাঁটছিল যব ক্ষেতের আল ধরে।

পা টিপে টিপে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।তার পায়ের তালুতে কিছু একটা হয়েছে ..তীব্র ব্যথা দাঁতে দাঁত চেপে আটকে রেখে সে কেবল এক টুকরো ছায়া খুঁজছিল।

এই গ্রামে সব পাওয়া যায়।ছায়াও পেলো মেয়েটি। ওক গাছের ছায়ায় বসে সে তার মাথার স্কার্ফটি খুলে ফেলে,এক ঢাল সোনালী চুল তার কোমর ছাপিয়ে যায় ঠিক একটা সোনালী ঝর্ণার মতোই।

হাত পা ছড়িয়ে বসে সে তার পায়ের পাতাটির দিকে নজর দেয়।মস্ত একটা কাঁটা ঢুকে আছে ওখানে।কি মিষ্টি মৃদুমন্দ বাতাস বয় চারপাশে।তবুও মেয়েটির কপাল জুড়ে ঘাম।হাত কেঁপে যায়।একটানে তাকে কাঁটাটি তুলে আনতে হবে।আয়ত দু’চোখ বন্ধ করে কাঁটার কিনার ধরে একটা হ্যাচকা টানে তুলে আনলো সে।গলগল করে অনেকটা রক্ত বেড়িয়ে যায় তবুও আরাম বোধ হয় তার।সেই সঙ্গে স্বস্তি। তার সাদা ধবধবে গাউনের মতো জামাটিকে ছড়িয়ে দেয় সে।তারপর নরম সবুজ মখমলের মতো ঘাসের উপর শুয়ে পরে।

পাশের আঙুর ক্ষেতে সে কাজ করে।বাড়িতে মা বাবা আছেন।সবাই হয়তো তার জন্য অপেক্ষা করছে ….করুক ..সে এখন উঠতে পারবে না।রোদ আর ছায়ার মিষ্টি আদরে তার চোখ জুড়ে গাঢ় গভীর ঘুম নেমে আসে। হঠাৎই তার মনে হয় সে বুঝি তলিয়ে যাচ্ছে গভীর কোন তলহীন কুয়োয়।তার ভয় হয় …ফিসফিসিয়ে তার মা কে ডাকতে শুরু করে,”মাম্মাহ”…

হঠাৎ ভীষণ সুন্দর শান্ত কিন্তু বিশাল জলরাশির সামনে নিজেকে আবিষ্কার করে।জলের কাছে গিয়ে নিজের দিকে তাকায়।এ কি!এ কার মুখ!কি সুন্দর কালো ছিপছিপে ধারালো একটা মুখ। নাকে একটা গয়না ..মাথার কালো চুল উঁচু করে বাঁধা।চোখের গাঢ় কাজল লেপ্টে আছে। নিজের গায়ে জড়ানো পোশাকটিও কী সুন্দর! নিজেকে মুগ্ধ হয়ে দেখে সে।

রাই ! ও রাই …! এই যে এইদিকে তাকাও রাইকমল।মেয়েটি উল্টো হয়ে ফিরে তাকায় …

আরেকজন মানুষকে দেখতে পায় ! 

কে জানে কেনো,ভীষণ খুশী আর আনন্দে অভিভূত হয় সে! শান্তি লাগে তার ! বড় কোন গাছের ছায়ায় হেলান দিলে যে শান্তি সেইরকম শান্তি ! সে অভিমান ভরা গলায়  বলে ওঠে তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে শ্যাম? আমি একা একা সাঁতার কেটে এলাম।হাওড়ের উত্তর দিকটায় চলো এক্ষুনি যাই। মাছেরা সব ঘাই দিচ্ছে, বেলা পড়ে এলো জলদি চলো,বলেই সে হাত ধরে টানতে থাকে যুবকের।

একটু দাঁড়াও,হাটে গিয়েছিলাম,জানো! এই দেখো কি এনেছি, রাই!হাতের বালা।

রাইকমল মুখ গোঁজ করে বলে, লাগবে না।আমাকে শুধু  জলের ওই পাশ থেকে বেগুনী ফুলটা তুলে এনে খোপায় গুঁজে দাও।

হা হা হা করে শ্যাম হেসে উঠে ..হাওরের জলের মতোই তরঙ্গ তুলে সেই হাসি।…কোথায় একটা নাম না জানা পাখি শিষ বাজিয়ে ডেকে যায়। তারা দুজন নৌকায় গিয়ে বসে।পেছন পেছন দু’টি হাঁস দৌড়ে আসে। যুবক বৈঠা তুলে নেয়।  মেয়েটি ক্লান্ত গলায় বলে, উঠে আমার এতো ঘুম পাচ্ছে কেন শ্যাম ?

রাইকমল তুমি ঘুমাও।আমি আছি তোমার পাশে।

হঠাৎই রাইকমলের মনে হয় সে তলিয়ে যাচ্ছে তলহীন কোথাও। ভয় হয়।সে যুবকটির গায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে যেতে যেতে ভাবে, আমি আসলে কে ? আমার সত্যিকারের পরিচয়টাই বা কি?

তার ঘুমভাঙে।

পেছন থেকে ভীষণ মিষ্টি রিনরিনে একটা ছোট্ট কন্ঠ ডেকে উঠে মা,ও মা ওঠো। আমি এখন চা দিয়ে ভিজিয়ে ভিজিয়ে পরোটা খাবো।খিদে লেগেছে।

দু হাতে এই পৃথিবীর সব চাইতে মিষ্টি বাচ্চাটাকে  জড়িয়ে  সে অবাক হয়ে চারপাশে তাকায়।

সে এখন কোথায় ? সে আসলে কে ?

যব আর আঙুর ক্ষেতের পাশের সেই সুখী গ্রামের জন্য তার মন কেমন করে!

আবার, হাওরের জলের শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠা  মানুষটির জন্যও তার বুকে কষ্ট আটকে থাকে।

সে আরও শক্ত করে তার ছোট্ট ছানাটিকে জড়িয়ে রাখে।

তার  দু’চোখ ভেসে যায়।

ফিসফিসিয়ে সে বলে উঠে, কে আমি ? আমি আসলে কে?

 

নুসরাত নাহিদ
লেখক

মেরুন স্যান্ডেল শ্যু

রঙ বেরঙের গজা’র স্টলটার সামনে এসে চোখ ধাঁধিয়ে যায় শুভমিতার। এতোদিন জানতো গজা বড়জোর দু’রঙের হয়। গুড়ের হলে লালচে আর চিনির হলে সাদাটে। অথচ এই রোডসাইড স্টলটায় হলুদ, নীল, সবুজ, লাল সব রঙের সরু ফিতার মতো গজা হাওয়ায় উড়ছে। কিন্তু স্তুপ করে রাখা গজার প্রথম স্তরের জন্যে পেছনের উড়তে থাকা গজাগুলি ভালো করে চোখেই পড়ছে না। অটোওয়ালাকে একটু থামতে বলে অটো থেকেই মুখ বার করে শুভমিতা চেঁচিয়ে গজাওয়ালাকে বলে সামনের স্তুপ ছোট করে আনতে। গজাওয়ালার ছেলেটি স্তুপ নামায় আর জিজ্ঞেস করে ‘হয়েছে দিদি’? বার কয়েকের চেষ্টায় পেছনের ঝিলমিল করে হাওয়ায় উড়তে থাকা গজাগুলি সাধারণের নজরে আসার মতো হলে শুভমিতা হেসে জানায় এবার হয়েছে! অটো তখন ভিড় ঠেলে সামনে এগুনোর জন্যে স্টার্ট দেয়।

শুভমিতা সকাল থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি নিয়ে ভাবতে বসে। আজ খুব সকাল সকাল ও পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা হাসপাতালে গিয়েছিলো। ঝলমলে রোদ্দুর মাখা সময় তখন। হাসপাতালের সামনে নানা রঙের ফুলে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। সেগুন কাঠের টেম্পার্ড কাঁচের বিশাল বিশাল দরজা জানালায় এক চিলতে দাগ নেই। সব ঝকঝকে তকতকে। খুব বেশি সময় লাগেনি ডক্টর দেখাতে। কিন্তু বিপত্তিটা বেঁধেছে যখন চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে দেখে ওর মেরুন স্যান্ডেল শ্যু’র বদলে কেউ একজন অন্য এক জোড়া স্যান্ডেল রেখে গেছে। শুভমিতার শ্যু’টা হাল আমলের, ব্লক হিলের, লেদারের। আঙুলের গোড়া বরাবর একটা স্ট্র‍্যাপ। বেল্টটা গোড়ালি ঘুরিয়ে ডানে এসে বাকলের খাঁজে বসে যাওয়া। ডক্টরের চেম্বার থেকে বেরিয়ে শুভমিতা যা পেলো সেটা ঠিক লেদারের নয়, যদিও রঙটা একই। কিন্তু এটায় আঙুল থেকে পায়ের পাতার সন্ধিতে তিনটি স্ট্র‍্যাপ, ওভাল শেইপের। হিলটাও ব্লক হিলের পরিবর্তে ফ্রেঞ্চ হিল।

শুভমিতা নার্সকে ডেকে জিজ্ঞেস করে কেউ রুগীদের খুলে রেখে যাওয়া জুতো সরিয়েছে কী না। নার্স মাথা নাড়ে, সরায়নি কেউই। এগুলি এমনই ছিল। শুভমিতার ডক্টরের চেম্বারের পাশে বাকি সবগুলি চেম্বারে খোঁজ করে দেখে কেউ ভুলে ওর স্যান্ডেল পরে চলে গেছে কী না, কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায় না। নার্স বেচারি হয়রান হয়ে যায় খুঁজতে খুঁজতে। শুভমিতা রিসেপশনে বসে অপেক্ষা করতে থাকে। অনেকটা বেলা গড়িয়ে যায় কিন্তু কোনও তথ্য পাওয়া যায় না কে স্যান্ডেল বদলে দিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজেও কিছু পাওয়া যায় না। অগত্যা খালি পায়ে না থেকে শুভমিতা ওই রেখে যাওয়া স্যান্ডেল পরে বেরিয়ে আসে। ওর খুব মন খারাপ হয়। কিন্তু আরেকটু পর না কি এই পথে আর কোন ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে না, এজন্যে দ্রুত পা চালায়। পায়ের সামনে তিনটি ফুলে থাকা স্ট্র‍্যাপে বেশ অস্বস্তি হয় ওর। হিলটাও কেমন ঢাউস। কিন্তু এসব না ভেবে অটো খোঁজায় মন দেয় ও। খানিক বাদে একটি অটো পেয়ে যায় । অটোওয়ালার কাছে জানতে পারে পূজা বিসর্জনের জন্যে শহরের নানান পথ বন্ধ। বেশ খানিকটা ঘুরেই শহরের অন্য মাথায় থাকা ওর কোয়ার্টারে পৌঁছতে হবে ওকে। এরই মাঝে এই গজার স্টলের দেখা পায় শুভমিতা। এই পথটা খোলা থাকলেও উৎসবের কারণে রাস্তাজুড়ে নানান স্টল বসে গেছে। একটি স্টলে কয়েকজনকে দেখে গানের তালে তালে ফায়ার স্পিনিং এর কসরত করছে কয়েকজন। শুভমিতার ঝক করে মনে পড়ে যায় অনুপমের সঙ্গে সেই সন্ধ্যায় ফায়ারস্পিনিং দেখবার কথা। কোমর ঘিরে জড়িয়ে থাকা অনুপমের বাহুটাও অনুভব করে যেন এখানে ঠিক এই সময়ে অনুপম ওর সঙ্গেই।

ভাবতে ভাবতে হুট করেই শুভমিতার কোয়ার্টার এসে যায়। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়ে ওঠা কোয়ার্টারের ভীষণ সবুজ ঘাসের মাঠটা জুড়ে স্টীলের রেলিং ঘেরা। এখানেও চলছে পূজার আপ্যায়ন। কোয়ার্টারের সবাই নানান পদের খাবার সাজিয়ে তাঁবুতে তাঁবুতে পরিবেশন করছেন অতিথিদের। শুভমিতা দ্রুত পা চালায় ওর বাসা থেকে খাবারগুলি নিয়ে আসার জন্যে। এরই মাঝে শিরিন বৌমনি ওকে জাপটে ধরে থামায়। আদর করে পুলি পিঠা খাইয়ে দেয়। খেতে খেতে শিরিনকে খুব মন খারাপ নিয়ে স্যান্ডেলের কথা বলতে বলতেই শুভমিতার ঘুম পাতলা হয়ে আসে। যেন ওর কানে কেউ এসে বলে যায় ওর তো মেরুনরঙা স্যান্ডেল শ্যুই ছিলো না ইদানিং। যা কখনোই তার ছিলো না, সেটা হারিয়ে যাবারও কিছু ছিলো না। আর তা নিয়ে তাই মন খারাপ করারও কিছু নেই!

ঘুমের মাঝেই হেসে ফেলে শুভমিতা।

ছবিঃ গুগল