সিলেটি নরম খিচুড়ি

সাব্বিরুল হক

সিলেটি নরম খিচুড়ির একটা ঐতিহ্য আছে।এই ‘লেটকা খিচুড়িকে’ শুধু জাউ বলা যাবে না।কেননা এতে আনুসাঙ্গিক বেশ কিছু ভাজা-পোড়াও থাকে।সবসময়ই চলে খাবারটা।প্রায় সব খাবারের দোকানে বানিয়ে রাখতে দেখা যায়।সিলেট ছাড়া অন্যান্য জেলার লোক খিচুড়ি বলতে ভুনা খিচুড়িকে বুঝে।এ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে অনেক তর্কও হয়।সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি খেতে যাদের পছন্দ,বানাতে পারেন যেকোনো বেলায়।

 

উপকরণ:

৫-৬ জনের জন্য খিচুড়ি করতে আনুমানিক কেজি চাল এবং ২৫০ গ্রাম মসূর ডাল নেওয়া যায়।২টি পেঁয়াজ লম্বা করে কাটা।অর্ধেক কাপ তেল/ঘি,যেটা পছন্দ। মেথি ২ চিমটি,১ইঞ্চি সাইজের আদা কাটা। লবন স্বাদমতো।

 প্রণালী:

চাল এবং ডাল ভালভাবে ধুয়ে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।পাতিলে চাল থেকে ১ইঞ্চি পরিমান উপরে পানি রেখে ২টি পেঁয়াজের ১টি, কাপের অর্ধেক তেল এবং উপরের সব উপকরণ একসঙ্গে দিয়ে পুরো আগুনে চুলায় বসাতে হবে।৮-১০মিনিট পর পানি ফুটতে শুরু করলে আগুন মিডিয়াম করে ১০মিনিটের জন্য রেখে দিয়ে ঢাকনা কিছুটা সরিয়ে ফাঁক করে রেখে দিতে হবে।কারণ ঢাকা থাকলে পাতিল বেয়ে পানি পড়ার সম্ভাবনা থাকে তাই কিছুটা ফাঁক রাখা ভাল তাতে বাস্প বের হয়ে যায়।১০মিনিট পর আগুন একদম কমিয়ে আরো ২০মিনিট রেখে কিছুক্ষণ পর-পর নেড়ে আবার ঢেকে রাখতে হবে।যত নাড়া হবে ততো ভাল, আস্তো চাল ভেঙে যাবে এবং পাতিলে লাগবে না। চাল ভাঙলে খিচুড়ি আরো মাজাদার হয়।এবার অন্য একটি ফ্রাইংপ্যানে অবশিষ্ট পেঁয়াজ ও তেল প্যানে ভেজে খিচুড়ির উপর ঢেলে ভাল করে মিক্স করে আগুন বন্ধ করে দিতে হবে।ব্যাস হয়ে গেল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি। প্লেটে ছোলা এবং পিয়াজুর সাথে সাজিয়ে পরিবেশন্ করুন। ইচ্ছে হলে এই খিচুড়িতে আপনি সব্জীও ব্যবহার করতে পারেন।এই খিচুড়ি সিলেটে রোজার দিনে ইফতারীতেই বেশী খাওয়া হয়।