আমি আবার আসবো ইম্ফল

হামিদ কায়সার

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ইন্ডিগো-তে উঠতেই কবি এ কে শেরাম যেন আমার মনোবাসনা পড়তে পারলেন। আপনার কি জানালার কাছে বসতে ইচ্ছে করছে? আমি মনে মনে বললাম, আবার জিগায়? মুখে সম্মতির একটা হাসি ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করলাম। এর আগে শুধু একবার থাই এয়ারওয়েজে ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিলো। কিন্তু জানালা মেলেনি কপালে। এবারও আগরতলা থেকে ইম্ফল আসার পথে জানালার পাশে বসে বেশ মজায় মজায় মেঘের ভেলায় ভেসেছেন কবি শেরামদা আর আমি শুধু আক্ষেপে পুড়েছি। তাই বিমানের জানালাটা আমার কাছে এখনো সোনার হরিণ হয়ে আছে। আমার মুখের ভাষা পড়তে পেরেই কিনা এ কে শেরামদা ঠেলে ঠেলে আমাকে সেই বিমান-জানালার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু দেখুন কাণ্ড! এত আকাঙ্ক্ষা আর শখের সেই জানালার কাছে গিয়ে কিনা আমি মজে গেলাম আকাশ বালিকাদের নিয়ে। কী সুন্দর সুন্দর একেকজন আকাশবালিকা, প্রজাপতির মতো বিমানের ভেতর উড়ছে আর ঘুরছে। আমি আর ওদের দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারি না। ওদিকে প্লেনটা কখন রানওয়ে ছেড়ে উঁচু থেকে আরো উঁচুয় ওঠে একটা জায়গায় থিতু হয়েছে, আর চলা শুরু করেছে আগরতলার পথে। আমার সেদিকে কোনো খেয়ালই হয় না। হঠাৎ বিমানটা কেমন যেন একটা ধাক্কা খায়। আমার সম্বিৎ ফিরে। কে যেন আমাকে বলে, তোমার জন্য আজ প্রকৃতি নারীর কাছে হেরে গেল, হেরে গেল। আমি তার উদ্দেশে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠলাম, না!!! তারপর আকাশ বালিকাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। আহা! কী অপরূপ অপার্থিব দৃশ্য। নীল আকাশটা যেন সব অভিমান ভুলে আমাকে অতি দ্রুতই আপন করে নিল। আর প্রবোধ দিয়ে যেন বললো, হাওয়ার জন্য আদম যদি স্বর্গ ছাড়তে পারে, তুমিতো আকাশ বালিকাদের জন্য আমাদের মেঘেদের প্রতি অবহেলা একটু করতেই পারো। আমি লজ্জায় একেশেষ হয়ে বললাম, আর আমাকে লজ্জা দেবেন না ভাবী মেঘমালতী। মেঘমালতী তার অতি শুভ্র দাঁত বের করে হাসির দ্যুতি ছড়িয়ে বললো, হ্যা, এবার মন ভরে দেখে নাও আমাকে। আমি দেখার জন্যে আমার মুখটা আরো একটু জানালা দিয়ে বাড়িয়ে দিই বাইরের দিকে। অমনি দেখি, মেঘের আচল ছাড়িয়েও নিচে বহু নিচে ইম্ফলের মাটি দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের সবুজ দেখা যাচ্ছে, আর দেখা যাচ্ছে, একটা সরু নদী, নদীটা যেন গান গাইতে গাইতে বলে উঠলো, আবার ইম্ফলে এসো তুমি। স্নান করো আমার হৃদয়ে। আমি সে গানে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বিড়বিড়িয়ে বলে ওঠলাম, আমি আবার আসবো ইম্ফল। তুমি ভালো থেকো। অনেক অনেক ভালো থেকো ইম্ফল, বেশি বেশি ভালো থেকো তুমি।