উন্মোচিত হলো নতুন তিন আইফোন

সাইফ তনয় (টেক ব্লগার)

নতুন সংস্করণের তিনটি আইফোন ও একটি অ্যাপল ওয়াচ (ঘড়ি) উন্মুক্ত করেছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল । এগুলো হলো আইফোন এক্সএস, আইফোন এক্সএস ম্যাক্স এবং আইফোন এক্সআর। নতুন আনফোনে রয়েছে আরও ফাস্ট প্রসেসর আরও উজ্জ্বল ছবি তোলার ক্ষমতা। তিনটি ফোনেই রয়েছে টপ নচ। আর এই প্রথম আইফোনে ব্যবহার করা যাবে ডুয়েল সিম।

আইফোন টেনএস
এই ফোনটি পানিরোধক। এর ওএলইডি ডিসপ্লেটির আয়তন ৫ দশমিক ৮ ইঞ্চি। অর্থাৎ গত বছর উন্মোচিত হওয়া আইফোন টেনের সমান। দ্রুত কাজের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে এ১২ বায়োনিক প্রসেসর। এর স্টোরেজ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত। আইফোন টেনের তুলনায় ৩০ মিনিট বেশি চার্জ থাকবে এটিতে।

এর ডুয়াল ক্যামেরা সিস্টেমেও পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে এটি আরও প্রানবন্ত ছবি তুলতে সক্ষম। সেই সঙ্গে এর সামনের ক্যামেরা আরও উন্নত করা হয়েছে ফলে এটি আরও কম সময়ে ব্যবহারকারীর মুখমণ্ডল সনাক্ত করতে পারবে এবং আনলক হবে । আইফোন টেনএসের পেছনে রয়েছে ১২+১২ মেগাপিক্সলের ডুয়াল ক্যামেরা এবং সামনে ৭ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে আইওএস ১২। ডিভাইসগুলো ৬৪, ২৫৬, ৫১২ জিবি স্টোরেজ এবং ৪ জিবি র‌্যামের এই ফোনগুলো পাওয়া যাবে গোল্ড, সিলভার ও স্পেস গ্রে ভ্যারিয়েন্টে।

আইফোন টেনএস ম্যাক্স  
আইফোন এক্সএস ম্যাক্স এখন পর্যন্ত সব থেকে বড় ডিসপ্লে ওয়ালা আইফোন। নতুন আইফোনে এ১২ বায়োনিক চিপ ব্যবহার করেছে অ্যাপেল। যাতে ব্যাবহার হয়েছে ৭ ন্যানোমিটার টেকনোলজি। একটি চিপে মোট ৬৭০ কোটি ট্রানজিস্টর রয়েছে। আরো আছে রয়েছে ৬ কোর সিপিইউ। যার মধ্যে ২টি কোর হাই পারফর্মেন্স। সঙ্গে ৪ কোর জিপিইউ ব্যবহার করেছে অ্যাপল। আইফোন এক্সএস ম্যাক্সে আছে ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা সেট আপ। একটি টেলি ও একটি ওয়াইড ক্যামেরা ব্যবহার করেছে অ্যাপেল। দুটিই ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এই ক্যামেরার মাধ্যমে দুর্দান্ত সব ছবি তোলা যাবে।

এবারে আইফোনে ফেস আইডিকে নতুন করে রিব্রান্ডিং করে ফেসলিফট আনার কথা বলে হলেও তা এখন ফেস আইডি নামেই চলবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। আরও রয়েছে স্টোরিও স্পিকার সুবিধা। যার ফলে ইয়ারফোন ছাড়াই গেইমিং, মিউজিক ও মুভি দেখা হবে আরও উপভোগ্য। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে আইওএস ১২। ডিভাইসগুলো ৬৪, ২৫৬, ৫১২ জিবি স্টোরেজ এবং ৪ জিবি র‌্যামের এই ফোনগুলো পাওয়া যাবে গোল্ড, সিলভার ও স্পেস গ্রে ভ্যারিয়েন্টে।

আইফোন টেনআর
অ্যালুমেনিয়াম বডির এই ফোনটির ডিসপ্লে ৬ দশমিক ১ ইঞ্চি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এজ টু এজ এলসিডি ডিসপ্লে। এই প্রথম অ্যাপল নিয়ে এলো প্রায় ৫টি রঙ-এ নতুন আইফোন টেন আর। এর ডিসপ্লের দৈর্ঘ ৬.১ ইঞ্চি। এতে এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হলেও অ্যাপেল এই ডিসপ্লেকে ‘লিকুইড রেটিনা’ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ফোনে ব্যবহৃত এলসিডি ডিসপ্লেগুলোর মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির এলসিডি। এই ফোনটিতে আইফোন এইট প্লাস থেকে দেড় ঘণ্টা বেশি চার্জ থাকে। ১২ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে আইফোন টেনআরে। এটি পাওয়া যাবে ৬৪, ১২৮ ও ২৫৬ জিবির স্টোরেজসহ আর এতে র‌্যাম থাকছে ৩ জিবি।

এবার অ্যাপল সফটওয়ারের দিকেও ভালো গুরুত্ব দিয়েছে । ছবি তোলার পর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ডেফথ অব ফিল্ড। যা বিশ্বে প্রথম বলে দাবি অ্যাপলের। সামনে রয়েছে ৭ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। সঙ্গে ফেস রেকগনিশনের যাবতীয় সরঞ্জাম। ভিডিও রেকর্ডিংয়েও বিশেষ জোর দিয়েছে অ্যাপল। নতুন আইফোনে তোলা যাবে ফোরকে মানের ভিডিও। এজন্য ফোনের চারদিকে থাকা চারটি মাইক্রোফোনকে কাজে লাগিয়েছে অ্যাপল। এছাড়া ফোনের স্পিকারের আওয়াজ আরও ব্যাপ্ত ও শ্রুতিমধুর হবে বলে জানিয়েছে তারা।

মেশিন লার্নিং ও আগমেন্টেড রিয়্যালিটির জন্যও এই চিপ বিশেষ ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। ব্যাটারির ক্ষমতা পুরনো সংস্করণের চেয়ে কিছুটা উন্নত। আইফোন টেন-এর চেয়ে টেনএস-এর ব্যাটারিতে চার্জ থাকবে ৩০ মিনিট বেশি। অন্যদিকে টেনএস ম্যাক্স-এ ব্যাটারির চার্জ থাকবে দেড় ঘণ্টা বেশি। এটি আইপি-৬৮ রেটিংয়ের। অর্থাৎ এটি ধুলা ও পানিরোধী।

আইফোন এক্সএস ও আইফোন এক্সএস ম্যাক্সের ফ্রেম তৈরি হয়েছে ইস্পাত দিয়ে। অ্যাপলের দাবি, যথাসম্ভব পরিবেশবান্ধবভাবে তৈরি করা হয়েছে নতুন আইফোন। এখন শুধু অপেক্ষার পালা, ১৯ অক্টোবর থেকে আইফোন টেনআর প্রিঅর্ডার করা যাবে। ২৬ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে এটি। টেনএস এবং টেনএস ম্যাক্স পাওয়া যাবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে।

ছবিঃ গুগল