বয়স রূপের শত্রু নয়

বয়স বাড়া নয়।বুড়িয়ে যাওয়া এড়ানো যায় কিভাবে এ নিয়েই আমাদের এবারের বিষয়।তুমি বুড়ো হচ্ছো নাকি তুমি আরও ভালো হচ্ছো বা যত বয়স বাড়ছে তত বুড়িয়ে যাওয়ার বদলে আরো বেশি আকর্ষশনীয হয়ে উঠছো তা নির্ভর করে দৃস্টিভঙ্গির ওপর।আর তাও নির্ভর করে জীবনের প্রতি দৃস্টিভঙ্গি্ বদলানোর ওপর।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণী দেখানোর জন্য নয়,সুন্দর দেখানোর জন্যই সৌন্দর্য। যৌবনে ফরাসী দেশের একজন মহিলা যদি নিজের ত্বক নিয়ে এবং ত্বক চর্চা নিয়ে গর্ববোধ করে, তা ক্রমে তার সারা জীবনের অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।ফলে যখন তার বয়েস হয় ৫০ কিংবা ৬০ তখন তিনি হয়ে ওঠেন আশ্চর্য সুন্দর।আমাদের দেশের নারী হলে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের বিশেষ বিশেষ রকমের ত্বক চর্চার প্রয়োজন আছে। তাপমাত্রা,প্রচন্ড রৌদ্রালোক(আলট্রাভায়োলেট-এ  এবং আলট্রাভায়োলেট-ভি রশ্নি সম্বলিত),দূষন, প্রাকৃতিক এবং মানুষের সৃস্টি মানসিক চাপ-এ সমস্ত গড়ে তোলে একটা সাংঘাতিক ত্বক চর্চা পরিবেশ। জেনেটিকসও একটা প্রভাব ফেলে মহিলাদের বুড়িয়ে যাওয়া প্রক্রিয়্র ওপর। যদিও আজকের নারী ‘এজিং প্রসেসের ওপর অনেক নিয়ন্ত্রন রপ্ত করতে পেরেছে। আপনার গাত্রবর্ণের চেহারাটা কেমন হবে, তা অনেকটাই আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে, নিয়তির ওপর ততটা নয়। যুগ যুগ ধরে মানুষের ধারণা ছিলো যে,ত্বক হলো মানুষের শরীরের অভ্যন্তরের ওপর একটা ঢাকনার মতো।একটা স্বচ্ছ সেলোফেন জাতীয় কিছূ। এর চেয়ে ভুল আর কিছুই হতে পারে না। ত্বক হলো শরীরের সবচেয়ে বড় জৈব সংগঠন। এবং যেহেতু রক্তের ধারার মাধ্যমেই শরীরর তার সমস্ত পুস্ঠি লাভ করে- চার কোটি ক্যাপিলারি দ্বারা মূল শরীরের শিরা উপশিরার সঙ্গে যার যোগ।ত্বকই সেই জৈব অঙ্গ ,যা সবচেয়ে শেষে তার প্রয়োজনীয় পুস্ঠি পায়। এটা এখন সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করা গিয়েছে যে,ভিটামিন -বিশেষত যখন তা সুষম ভাবে গচ্ছিত থাকে-সবজিভিত্তিক ফোসো লিপিড(লিপসং)যেমন ভিটামিন এ, ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং পুস্টি দ্বারা সারিয়ে তুলতে পারে ত্বকের কোষ সমূহকে।ইচ্ছ করলে আমরা ভিটামিনের অনুপ্রবেশে এই মাত্রকে পরীক্ষাগারে মেপেও দেখতে পারি এবং বুঝতে পারি কী করে তা ত্বকের স্বাস্থ্য গড়ে তুলে এবং বাধ্যর্কের পথ রুদ্ধ করে।

 স্বাগতা জাহ্নবী                                                                                    

                                                                              নির্জীব ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করুন সহজ ৫টি প্যাক দিয়ে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। বয়সের ছাপ, বলিরেখা পড়া সহ নানা সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে এই সময়। শুধু বয়স নয়, দূষণ, স্ট্রেস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা সবকিছু দায়ী ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানোর জন্য। ত্বকের উজ্জ্বলতা  একবার হারিয়ে গেলে তা আর সহজে ফিরে পাওয়া যায় না। তাই শুরু থেকে এর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন পড়ে। প্রতিদিনকার ব্যবহৃত ফেসপ্যাকের সাথে এই প্যাকগুলো রাখুন, এই প্যাকগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

১। পেঁপে

pranerbanglaA4s

পেঁপে এবং মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পেঁপের আলফা-হাইড্রোক্সি উপাদান প্রাকৃতিক স্ত্রাবের কাজ করে, ত্বকে পুষ্টি যুগিয়ে থাকে।

২। কমলার খোসা

শুকনো কমলার খোসা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে বেশ কার্যকর। শুকনো কমলার খোসা, দুধ অথবা গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এটি এক্সফলিয়েটর হিসেবে ব্যবহার করুন। কম

কমলার খোসার সাইট্রিক এসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে।

৩। আভাকাডো এবং মধুর ফেসপ্যাক

তিন টেবিল চামচ পরিমাণে ফ্রেশ ক্রিম, এক চতুর্থাংশ আভাকাডোর পেস্ট এবং এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি ত্বকে ব্যবহার করুন। কমপক্ষে এক ঘন্টা এটি ত্বকে রাখুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া রোধ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ময়োশ্চারাইজ করে থাকে। Dr. Ordon বলেন রোগীরা এই প্যাকটি বেশ পছন্দ করে থাকে, কারণ এটি দ্রুত ত্বকে কাজ করে থাকে।

৪। তরমুজের রস এবং শসার রস

সমপরিমাণ তরমুজের রস, শসার রস এবং লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি নিন। এবার এটি ত্বকে ব্যবহার করুন। তরমুজের লিকোফেইন উপাদান ত্বকের বলিরেখা, চোখের চারপাশে বয়সের ছাপ পড়া রোধ করে দিবে।

৫।কলা

পাকা কলা, অলিভ অয়েল এবং মধু মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বক নরম কোমল করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর।

কান্তা আহমেদ