আজো বিভূতিভূষণ…

ভালো লেগে যাওয়া এক কিশোরীকে বিয়ে করতে পারবেন না বলে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে পালিয়েছিলেন  বিভূতিভূষণ। বড় হয়ে কলকাতা শহরের নিষিদ্ধ পাড়ায়  ছোটবেলায় পাওয়া স্নেহের উৎস এক নারীকে খুঁজতে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন, প্রেমের চিঠি পেতেন নিয়মিত। আবার সেসব চিঠির বিষয়ে গল্প করতেন রসিয়ে। টাকা ধার দিতেন শিবরাম চক্রবর্তীকে।

এ যেন প্রকৃতিতে নিমগ্ন এক অসাধারণ এক কথাশিল্পীর অন্য এক জীবন। লেখা পড়লে কখনো মনে হয় হয়তো প্রকৃতি-ই তাঁকে নির্বাচিত করেছিলো তার সকল অনুষঙ্গ, বোধের বিস্তার আর বৈশিষ্টগুলো লিখিয়ে নিতে। মগ্ন হয়ে লিখেছিলেন তিনি। সামান্য পাতা পড়ার শব্দ, অরণ্যের গাঢ় বেঁচে থাকা, জীবনের ঘ্রাণ, মানুষের বেঁচে থাকার গল্পে উত্থানপতন-কোনো কিছুই   তাঁর সতর্ক কলমকে এড়িয়ে যেতে পারেনি। উপন্যাসে, ভ্রমণ কাহিনীতে, দিনলিপিতে বিচিত্র এক জগতের কথা-শব্দ প্রায় একটানা সুরের মতো ধরা দিয়েছে। আবার তাঁর জীবনের গল্পগুলো ছিলো সত্যিই অদ্ভুত।

বাংলা সাহিত্যের এই অসাধারণ কথাশিল্পীর জন্মের ১২৪ বছর অতিক্রান্ত হলো। ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। অভিন্ন ভারতের নদীয়া জেলার চব্বিশ পরগনার মুরাতিপুর গ্রামে মামার বাড়িতে পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা মৃণালিনী দেবীর সংসারে জন্ম নেন বিভূতিভূষণ।

কাছের বন্ধুদের দৃষ্টিতে কেমন মানুষ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এই অসামান্য লেখক? তাদের লেখা থেকেই এই সংখ্যা প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে রইলো ‘আজো  বিভূতিভূষণ’।

নীরদ চন্দ্র চৌধুরী

নিজেকে নাকি তলস্তয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ উপন্যাসের নায়ক বেজুকভ বলে ভাবতেন বিভূতিভূষণ। তাঁর বন্ধু অধ্যাপক ও লেখক নীরদ চন্দ্র চৌধুরী নিজের লেখায় জানিয়েছেন এমন তথ্য। নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাইরে নরম-কোমল মানুষটি কিন্তু ভেতরে ভেতরে বেশ শক্তই ছিলেন। প্রয়োজনে খুব কাছের মানুষদের ব্যাপারেও অনায়াসে উদাসীন হয়ে যেতেন।

অনেক দিনের বন্ধু বিভূতিভূষণ সম্পর্কে এমনই ধারণা ছিল নীরদ চৌধুরীর। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার বছর তিনেক আগের কথা। কলকাতায় মাঝে মধ্যেই হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা চলছে।একবার রাস্তায় দাঙ্গার মধ্যে পড়ে বিভূতিভূষণ একটি বালির বস্তার আড়ালে লুকিয়ে পড়লেন। সঙ্গে নীরদ চৌধুরী। বস্তার পিছন থেকে কেবলই বন্ধু নীরদচন্দ্রকে বলছিলেন, ‘‘আমাকে ছেড়ে যেয়ো না, ট্রামে তুলে দিয়ো।’’ কিন্তু যে মুহূর্তে ট্রাম এল, নীরদচন্দ্র দেখলেন, তাঁকে রাস্তায় প্রায় ঠেলে ফেলে দিয়ে বিভূতিভূষণ ট্রামে উঠে চলে গেলেন। একবার পেছন ফিরেও তাকালেন না।

তাঁর বয়স তখন চার কী পাঁচ। বাবার হাত ধরে প্রথম কলকাতায় এলেন। বাবা দরিদ্র ব্রাহ্মণ। কলকাতা শহরের ভাল পাড়ায় বাড়ি ভাড়া করে থাকার মতো অবস্থা নেই তাদের। অগত্যা বাধ্য হলেন শিশুপুত্রকে নিয়ে এক ‘নিষিদ্ধ’ পাড়ার বস্তিতে ঘর ভাড়া নিতে। সে ঘরের পাশেই এক মহিলা প্রায়ই ছোট্ট বিভূতিকে ডেকে গল্প করতেন। কখনও চকলেট দিয়ে আদর করে গালও টিপে দিতেন। মা-ছাড়া বাড়িতে খুব তাড়াতাড়ি শিশু বিভূতি মহিলার স্নেহের কাঙাল হয়ে উঠেছিলো। সেই মহিলার ভালোবাসার স্মৃতি তাঁর মনে রয়ে গিয়েছিলো বহু বছর।

মধ্যবয়সে মেসে থাকার সময় একদিন বিভূতির মনে পড়লো ওই মহিলার কথা। ঠিক করলেন সেই পুরনো পাড়ায় মহিলাকে খুঁজতে যাবেন তিনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সোজা চলে গেলেন সেই নিষিদ্ধ এলাকায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে পড়লেন বিপদে। তিনি যত বলেন খুঁজতে এসেছেন সেই মহিলাকে, এ ছাড়া আর অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাড়ার অল্পবয়সি যুবতী মেয়েরা তার কথা শুনতে নারাজ। একসঙ্গে চার-পাঁচ জন মেয়ে নাকি তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো খদ্দের ভেবে।

শিবরাম চক্রবর্তী

সকলের একটাই অবদার-তাদের ঘরে যেতে হবে। শেষে সেদিন দৌড়ে পালিয়ে কোনো ক্রমে রক্ষা পান বিভূতিভূষণ। এ কথা মেসে এসে প্রাণের বন্ধু নীরদচন্দ্রকে বলতেই তিনি নাকি প্রথমে একচোট হেসে ছিলেন। তারপর বন্ধুকে একচোট ভৎসনা করেন।

নীরদচন্দ্র তাঁর লেখায় বলেছেন, এতো ঝামেলায় পড়ার পরেও সতর্ক হতেন না বন্ধু বিভূতি। একবার এক বন্ধু বলেছিলেন সন্ধ্যাবেলা কলকাতার ওয়েলিংটন স্ক্যোয়ারে গেলে নাকি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বেশ্যাদের দেখা যায়। বন্ধু প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিভূতিভূষণকে সেখানে যেতে। কথা ছিলো তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন।বিভূতিভূষণের বয়স তখন চল্লিশের বেশি। বন্ধুর কথা মতো নির্দিষ্ট সময়ে তিনি সেখানে গিয়ে হাজির। নভেম্বর মাস। শীতকাল। বহু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বন্ধু অথবা অ্যাংলো বেশ্যা কারো দেখা না পেয়ে মেসে ফিরেছিলেন সেদিন তিনি । নীরদচন্দ্রর মতে, আসলে লেখার রসদ খুঁজতে তিনি জীবনটাকে এমন করেই চেখে দেখতে চাইতেন। তাই-ই এ সব কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতেন।

প্রায়শই বিভূতিভূষণ তাঁর মুগ্ধ পাঠিকাদের কাছ থেকে প্রেমপত্র পেতেন এবং বন্ধু নীরদচন্দ্র চৌধুরীর মতে, তিনি এ সব বেশ উপভোগ করতেন।  সেই সব চিঠির কথা বেশ রসিয়ে গল্পও করতেন।

মির্জাপুর স্ট্রিটের মেসে আসার আগে হরিণাভির স্কুলের চাকরিটা ছেড়ে দেন বিভূতিভূষণ।চাকরিটি ছাড়ার পেছনে একটা রোমান্টিক ঘটনা জড়িয়ে ছিলো। ওই সময় তিনি স্কুলের কাছে একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাদের বিবাহযোগ্যা তরুণী কন্যা ছিলো। সে আড়ালে-আভাসে বিভূতিভূষণকে খেয়াল রাখতো। বিভূতিভূষণ স্কুলে চলে গেলে মেয়েটি মাঝে মাঝে এসে তাঁর এলোমেলো ঘরদোর গুছিয়ে দিতো। বিভূতিভূষণ সব বুঝতে পারতেন। কিন্তু কিছু বলতেন না। কারণ,  মেয়েটিকে তাঁরও ভালো লেগেছিলো। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার মন-মেজাজও বেশীরভাগ সময় বিক্ষিপ্ত থাকতো। মেয়েটি নিজেকে ‘আমি আপনার দাসী’ সম্বোধন করে বেশ কয়েকটি চিঠিও লিখেছিলো তাঁকে। সে-চিঠি নীরদচন্দ্র দেখে বলেছিলেন, ‘‘এমন পবিত্র পত্র তিনি দেখেননি  আগে।’’

কিন্তু হঠাৎই বিভূতিভূষণ ওই চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে এলেন। কারণ ওই মেয়েটির উপর তিনি যতই মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে উঠছিলেন ততই বুঝতে পারছিলেন, পরিবারটি কুলীন ব্রাহ্মণ, মেয়েটি তাঁর সমগোত্রীয় নয়। কাজেই কোনও সম্পর্ক হলে তাঁর পরিবার খুশি হবে না। আশেপাশেও অনেক কথা হবে।

এই সব ভেবে তিনি কাউকে না জানিয়ে প্রায় লুকিয়েই কলকাতায় চলে আসেন। ফিরে এসে স্কুলে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

এই ঘটনা পেরিয়ে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার তেইশ বছর পর বিভূতিভূষণ দ্বিতীয় বিবাহ করেন। আর সেই বিয়ে করার গল্পটিও বেশ বিচিত্র।

ইছামতী নদীতে স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মারা গেলো তাঁর বোন জাহ্নবী। আকস্মিক এই ঘটনায় বিভূতিভূষণ ভেঙ্গে পড়লেন। এর কয়েকদিন পরেই একটি অল্পবয়সী মেয়ে এলা তাঁর কাছে অটোগ্রাফ নিতে। হঠাৎ করেই মেয়েটিকে খুব ভাল লেগে গেলো তাঁর। ধীরে, ধীরে দুই অসমবয়সির মাঝে তৈরী হলো বন্ধুত্ব। এক বছরের মাথায় দু’জনে বিয়ে করলেন।

পরে বিভূতিভূষণ সেই অসম বন্ধু ও স্ত্রী কল্যাণী দেবীকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘‘এখন মনে হচ্চে হয়তো অনেক জন্মের বন্ধন ছিল তোমার সঙ্গে— নয় তো এমন হবে কেন? কল্যাণী, তুমি আমার অনেক দিনের পরিচিতা, এ বার এত দেরীতে দেখা হল কেন জানি নে, আরও কিছুকাল আগে দেখা হলে ভাল হতো।”

বাংলা সাহিত্যে আরেক অসাধারণ কথাশিল্পী ও মানুষ শিবরাম চক্রবর্তীও ছিলেন বিভূতিভূষণের কাছের বন্ধু। একবার টাকাপয়সার টানাটানিতে আছেন শিবরাম। ঠিক করলেন কাবুলিওয়ালার কাছে টাকা ধার নেবেন। আর তখনই ঘটনাস্থলে হাজির বিভূতিভূষণ। বন্ধুর পকেটের করুণ দশা দেখে দেখে ৫০ টাকা ধার দিলেন। সলজ্জ শিবরাম বললেন, ‘‘আপনার এই ঋণ আমি জীবনে শুধতে পারব না।’’

যথারীতি শুধতে পারেনওনি। দু’জনে দেখা হলে বিভূতিভূষণ তার প্রাপ্য টাকার কথা কখনই তুলতেন না। শিবরাম যদিও বা কখনও বলতেন,

বিভূতিভূষণ বলে দিতেন, ‘‘আরে থাক থাক সেসব কথা। পরে দেবেন।’’

‘‘বেশ তাহলে সুদটাই নিন। বলে টাকার বদলে দু’চার পয়সার তেলে ভাজা কিংবা চিনেবাদাম তুলে দিতেন বিভূতিভূষণের হাতে।’’ বিভূতি তাতেই খুশি।

আধ্যাত্মিকতা, পরলোকচর্চায় খুবই আগ্রহ ছিল বিভূতিভুষণের। ‘দেবযান’ উপন্যাস নিয়েও তাঁর সঙ্গে অনেক কথা হয়েছিল শিবরামের। পুনর্জন্মে খুব বিশ্বাস করতেন।

শিবরামকে বলেছিলেন, ‘‘তুমি তো আর বিয়েথা করলে না। তোমার ছেলে মেয়ে নেই। আর সেই জন্যই তোমার পূর্বপুরুষরাও পূনর্জন্ম নিতে পারছেন না। আর তাদের পূনর্জন্ম না হলে তোমারও নতুন জন্ম নেওয়ার সুযোগ নেই। সবাই পর পর লাইনে আছেন কিনা। তাই তুমি বে থা না করে নিজে তো বটেই, তোমার আগের সাতপুরুষও বায়ূভূত হয়ে ঘুরবে। আমি বিয়ে করব এবার। ফিরতি বার্থ রিজার্ভেশন করে রাখা চাই বুঝলে ভায়া।’’

‘‘সে কি দাদা আপনি এই বয়েসে বিয়ে!’’

‘‘কেন সামান্য চল্লিশ বছর তো বয়স আমার।’’

শিবরাম  কিন্তু জানতেন তখন বিভূতিভূষণের বয়স চল্লিশের অনেক বেশি।

বিয়ে করলেন বিভূতিভুষণ। তারপর অনেক দিন বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ নেই শিবরামের। একবার দুর্গাপুজোর সময় শিবরাম গেলেন বিভূতিভুষণের ঘাটশিলার বাড়ি। পুজোর ছুটি ওখানেই কাটাবেন এমন ইচ্ছে।

গিয়ে দেখেন বেশ স্বাস্থ্যবান একটি বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বিভূতিভুষণ বাগানে ঘুরছেন। শিবরাম বুঝলেন, শিশুটি বিভূতিরই। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তা আপনার ঘাড়ে কি সেই ফেরবার টিকিট?’’

‘‘একদম ঠিক ধরেছ। ওর নাম দিয়েছি কাজল। ওর মাধ্যমেই তো আবার আমাকে ফিরতে হবে।’’

বিভূতিভুষণের সেই পারলৌকিক বিশ্বাস যে কতটা তীব্র ছিল, বারেবারে টের পেয়েছেন শিবরাম নিজে। মৃত্যুর কিছু দিন আগে এক শ্মশানে নিজের মৃতদেহকে নাকি নিজের চোখে দেখতে পেয়েছিলেন বিভূতিভুষণ। সে-ঘটনাও জানতেন শিবরাম। আর মৃত্যুর পর? তা নিয়েও এক মজার গল্প আছে শিবরাম চক্রবর্তীর।

একদিন রিপন কলেজের বেশ কিছু ছেলে এসে শিবরামকে জানালেন, ‘‘আমরা এই বছর বিভূতিভূষণের জন্মদিন পালন করব, আপনাকে সভাপতি হতে হবে।’’

‘‘বেশ হব। কিন্তু অতিথি সৎকারের ব্যবস্থা থাকবে তো? মানে একটু ভাল মন্দ।’’

‘‘অবশ্যই। স্বয়ং বিভূতিবাবুও আসবেন ওইদিন।’’

ছাত্রদের উত্তর শুনে খাবি খেলেন শিবরাম।

‘‘মানে? উনি আবার কী করে আসবেন? উনি তো পরপারে।’’

‘‘আজ্ঞে উনি আমাদের ত্রিকোণ চক্রে মাঝেমাঝেই আসেন। আমরা প্ল্যানচেট করে ডেকে আনি তাঁকে। কথাবার্তাও হয়।’’

‘‘বলো কি! তা জীবিত আর কাকে কাকে ডাকছ ওইদিন?’’

ছেলেরা জানালো, ‘‘ভেবেছিলাম অনেককেই ডাকব, কিন্তু শেষ প্ল্যানচেটে বিভূতিবাবুই বললেন যাকেই ডাকো, কেউ আসবেন না।’’

‘‘তার মানে পরলোকে গিয়ে উনি তাঁর লেখকবন্ধুদের ভালমতই চিনেছেন। বেশ বেশ।’’

শিবরামের সোজা উত্তর।

‘‘সেইজন্যই আমরা আপনার কাছে এলাম। আপনি অন্তত যাবেন আশা করি।’’

‘‘হ্যাঁ যাব বইকী। খাবার দাবারের ব্যবস্থা রাখবে বলছ যখন!’’

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওইদিন সেখানে গিয়েও যাননি শিবরাম। বাড়ির দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে এসেছিলেন। এই বিষয়ে শিবরামের যুক্তি ছিল, বিভূতিবাবু যখন ভেবেই নিয়েছেন তাঁর জন্মদিনে কোনও বন্ধু আসবেন না, তখন তাঁর সেই বিশ্বাসে আঘাত করা ঠিক নয়। আর দ্বিতীয়ত সেই যে পঞ্চাশ টাকা ধার রয়ে গিয়েছিল সেটা এখন যদি তার অনুগত ভক্তদের মধ্যে বলে ফেলেন, সে ভারী লজ্জার ব্যাপার হবে।

তাই বিদেহী বিভূতিবাবুর সঙ্গে দেখা করার চেয়ে স্বদেহে ফিরে আসাটাই ঢের ভাল বলে মনে করলেন শিবরাম!

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল