রাজহাঁসের ডিমের হালুয়া

সাব্বিরুল হক

রাজহাঁসের ডিম পাওয়া ওতো সহজ ছিলো না।যদিও সেই ডিমটা মায়ের বেশি পছন্দের।মাঝে-মাঝে রাজহাঁসের ডিম জোগাড় করে দিত গ্রামের একলোক।বিশাল আকারের এক-একটা।এমনিতে হাঁস মুরগীর ডিম খেতে দেখিনি মা-কে,বরং কড়া ভেজে ভুনা ছাড়া অন্য কিছু করলে গন্ধ পেয়ে অসহ্য হতেন।তবে হালুয়া আমার প্রয়াত মায়ের খুব পছন্দের নাস্তা ছিল,সুযোগ পেলেই বানিয়ে খাওয়াতেন।সেই হালুয়ায় ঘি ব্যবহার করতেন খাঁটি গাওয়া।ফলে অপূর্ব মজাদার ঘ্রাণ আর স্বাদে ভরে যেত মন।মাঝে মাঝে হালুয়া বানাতে গিয়ে ঘেঁটে,নেড়ে অন্য আরেকটা জিনিস বনিয়ে ফেলতেন,তাঁর ভাষায় সে মিষ্টান্নের নাম ছিল-মিহিদানা।ডিমের হালুয়া সবারই প্রিয়।বহু রকমের হালুয়া বানানো হয়,তবে এই পদটি অন্যতম বিশেষ।খুব সহজ উপকরণ,বানাতেও খুব বেশী সময় লাগে না।

মাকে যেভাবে বানাতে দেখতাম:

ডিম- ৪টি/রাজহাস হলে ২ টা 

চিনি- ১-১.৫০ কাপ

ঘনদুধ- ৩-৪ কাপ

ঘি- ১ কাপ

এলাচ- ২টি

দারচিনি- ২ টুকরা

গোলাপজল- ২ টেবিল চামচ

জাফরান- সামান্য।

গোলাপজলে জাফরান ভিজিয়ে রাখতে হবে।ডিম ভালো করে ফেটিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে মেশাতে হবে।এবার হাল্কা আঁচে কড়াইতে মিশ্রণটি ঢেলে সাবধানে নাড়তে হবে যেন তলায় লেগে না যায়।ডিম জমাট বেঁধে ‘মিহিদানার’ মতো হলে হালুয়া থেকে ঘি বের হবে।এবার চুলা থেকে নামিয়ে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে মাওয়া বা পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করলেই মজার স্বাদের ডিমের হালুয়া।

বাড়িতে মেহমান আসলে হাসিমুখে ডিমের হালুয়া তৈরি করতে দেখতাম মাকে।আর মেহমান চলে যাওয়ার অপেক্ষা ছোটবেলায় ছিল ভীষণ উত্তেজনার!গেলেই হামলা অবশিষ্ট হালুয়ার উপর।সেইসব দিন আর মজার ডিমের হালুয়া,নিদেন মায়ের সেই মিহিদানা;কই কাউকে তো বানিয়ে খেতে দেখিনা এখন।