মালিঙ্গার ঝড়ঃ জয়টা কিন্তু টাইগারদের

আহসান শামীম

ঠিক ১৬ মাস পর দলে ফিরে লঙ্কান বোলার মালিঙ্গার ভয়ংকর বোলিং তান্ডব আর টাইগারদের ডিপেন্ডেন্ট ব্যাটসম্যান মুশফিকের ১৫০ বলে ১৪৪ রানে ইনিংস। শেষ পর্যন্ত জয়টা টাইগারদের।লঙ্কানদের বিপক্ষে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ৮৯ বল হাতে রেখেই ১৩৭ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।ম্যাচ সেরা হন মুশফিক।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এবারের এশিয়া কাপে সম্প্রতি পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সব দল নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষক এবং ভারতীয় ধারাভষ্যকার হার্শা ভোগলে।ক্রিকবাজের সেই ব্লগে এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ভয়ঙ্কর দল বলে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে মাশরাফি বাহিনী খুবই ভাল দলে পরিণত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ভোগলের কথাটাই প্রমান করলো বাংলাদেশ।
শূন্য রানে সাকিব তাঁর ক্যারিয়ারে ৯ বার সাজঘরে ফিরেছেন।প্রথম বলেই শূন্য রানে ফিরেছিলেন ২ বার আর সেই দুইবারই ম্যাচ জয় করেছিল বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।আজও সাকিব প্রথম বলে শূন্য রানে মালিঙ্গার বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
দিনে গরমের বাগড়া। রাতে শিশিরের ঝামেলা।এমন পরিস্থিতির মাঝে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত মাশরাফির।ব্যাট হাতে মাত্র ১ তখন চার বল খেলে কোন রান না করে লাসিথ মালিঙ্গার বলে ফিরে গেলেন লিটন দাস।একই ওভারে মাঠে নেমেই আউট হলেন সাকিব।অন্যদিকে হাতের কব্জিতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন তামিম ইকবাল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে পুল করতে চেয়েছিলেন তামিম। ব্যাটে বলে হয়নি,বল লাগে তামিমের কব্জিতে।মাঠ থেকে সরাসরি তামিমকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। মুষড়ে পড়া বাংলাদেশকে পথ দেখালো মিথুন-মুশফিকের ১৩১ রানের ইনিংস।৬৪ রানে মিথুন আউট হলে টাইগার ব্যাটসম্যানদের একের পর এক মাঠে আসা যাওয়া।
মুশফিকুর রহীম ব্যাট হাতে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলে দল কে ২৬১ রানের পুজি করে দেন।মুস্তাফিজ মুশফিকে ভালই সঙ্গ দেন। ১০ বলে ১০ রান করে মুস্তাফিজ আউট হলে সবাইকে চমক দিয়ে এক হাতে প্লাষ্টার নিয়েও ব্যাট মাঠে ফেরেন তামিম।তামিম এই সময় এক হাতে ব্যাট ধরে এক বল মোকাবিলা করেন। অবশ্য তামিমকে সঙ্গী পেয়ে মুশফিক একাই এসময় ব্যাট হাতে ৩৩ রানের একটা ঝড়ো রান তোলেন।
দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ২ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম।ইঞ্জুরির কারণে এশিয়া কাপে এটাই তামিমের শেষ ম্যাচ।
২৬২ রানের জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে, টাইগারদের বোলিং তোপে কোণঠাসা শ্রীলঙ্কা।শুরুতেই মুস্তাফিজের আঘাত।এরপরই অধিনায়ক মাশরাফির আঘাতে বিপদে পরে যায় শ্রীলঙ্কা।মাশরাফির দ্বিতীয় আঘাত ৩২/৩ উইকেট ৩.২ ওভারে।এবার মিরাজের শিকার পেরেরা।রান আউটের শিকার শানাকা।২৫.২ ওভারে মুস্তাফিজের আঘাতে হারের পথে শ্রীলঙ্কা ৯৮/৮।৪৪ বলে ২৯ রান করে ৩৪.১ ওভারে দলীয় ১২০ রানে সৈকতের বলে স্ট্যাম আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন দিলরুয়ান।
বাংলাদেশ দলের সব বোলাররাই আজ উইকেট পেয়েছেন।

ছবিঃ ইএসপিএন