অপরাজিত তামিম ইকবাল

আহসান শামীম

পরিকল্পনাটা এঁটেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। সম্মতি ছিলো বলের আঘাতে কব্জিভাঙ্গা তামিমের। মাশরাফি নিজের ব্যবহৃত গ্লাভস কেটে নিজেই তৈরী করলেন যোদ্ধা তামিমের লড়াই করার সরঞ্জাম। কথা ছিল, মুস্তাফিজ আউট হলে তামিম নামবেন, রান করবেন মুশফিক। টিম ম্যানেজমেন্টের কাউকে কিছুই জানাননি মাশরাফি বা তামিম। কিন্তু মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর অধিনায়ক তার আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এলেন। কিন্তু তখন সবকিছু অগ্রাহ্য করে যোদ্ধা তামিম মাঠে নেমে এলেন ব্যাট হাতে। চোখে মুখে প্রত্যয়, তিনি লড়বেন দেশের জন্য। অবাক হলেন বাংলাদেশের দলীয় কর্মকর্তা  সহ গোটা ক্রিকেট দুনিয়া। তৈরী হলো বিশ্ব ক্রিকেটের এক নতুন ইতিহাস।

ভাঙ্গা হাতে তামিমের লড়াই

ম্যাচের তখন প্রায় অন্তিম মুহূর্ত। স্কোর বোর্ডে ফলাফল ২২৯ রানে ৯ উইকেট। মোস্তাফিজ রান আউট হয়ে গেছেন। শেষ দিকে যখন স্ক্রিনে দেখাচ্ছিল ২২৯ রানে অলআউট বাংলাদেশ ঠিক তখনই ঘটলো এমনি এক অনন্য ঘটনা। রূপকথার গল্পের শুরুটা এখান থেকেই। ধারাভাষ্যকরা তখন লঙ্কানদের জয়ের টার্গেট নিয়ে আলোচনায় করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঠিক তখনই স্টেডিয়াম জুড়ে দর্শকদের উল্লাস। সবার দৃষ্টি গিয়ে আটকালো হাসপাতাল থেকে হাতে প্লাস্টার করিয়ে আসা তামিম ইকবাল এক হাতে ব্যাট হাতে মাঠে প্রবেশ করছেন।

লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওভারে ব্যথা পেয়ে হাতের কব্জি ভেঙ্গে গেছে তার। স্টেডিয়াম থেকে সোজা হাসপাতাল। তারপর আবার স্টেডিয়ামে ফিরে আসা। কেউ ভাবতেই পারেনি এমন দুঃসাহসী কাজটি করবেন তামিম। এই সিদ্ধান্তে ধারাভাষ্যকরা বিস্মিত। চমকে ওঠা গোটা বিশ্বক্রিকেট জগত আর বাংলাদেশের লক্ষ কোটি মানুষের ভালোবাসা, প্রশংসায় সিক্ত হলেন তামিম। মূহূর্তে এক হাতে ব্যাট অন্য হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে ব্যাট করতে আসা তামিমের ছবি ভাইরাল হলো সোশ্যাল মিডিয়ায়।ভাঙা হাত নিয়েই যেই বীরের বেশে তামিম মাঠে নামলেন। চোখের কোণে ভালোবাসার অশ্রু জমলো হয়তো কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের।

পলকেই মুশফিক ফিরে পেলেন মনোবল। বীর তামিমকে দেখে ভাবলেন এবার দেশের জন্য কিছু একটা করতেই হবে। ৪৬ তম ওভারের শেষ বলটা এক হাতে ঠেকালেন তামিম।তারপর বাংলাদেশের জন্য রচিত হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাস।

আহত তামিম

ম্যাচ শেষে মুশফিক বললেন, ‘তামিমকে ব্যাট করতে আসতে দেখে ভেবেছি তাঁর জন্য এবং দেশের জন্য আমার কিছু করা উচিত।’

খেলা শেষে অধিনায়ক মাশরাফি শুধুই বললেন, ‘যোদ্ধা তামিমকে মনে রাখুক ক্রিকেট বিশ্ব।’

বাকী ২২ বলে মুশফিক একাই ৩২ রানের জুটি করেন তামিমের সঙ্গে। ৪ বলে ২ রান করে অপরাজিত তামিম ইকবাল।

ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক তামিমের সামনে হাঁটু ভেঙ্গে তাকে বীরের শ্রদ্ধা জানালেন। ছুটে এলেন লঙ্কান কোচ হাথুরা সিংহে। কাঁধে হাত রেখে আশির্বাদ  দিলেন সাবেক ছাত্রকে। তামিম বন্দনায় মত্ত হলো গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।এখন টুইটার জুড়ে চলছে তামিমের বীরত্বের গল্প। এক তামিমই যেন বদলে দিলেন একটি দলকে, অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বাংলাদেশকে।

এশিয়া কাপে কোন দল কখনও এত বড় বিজয় এর আগে কখনও দেখেনি।আর এই  বিশাল জয় দিয়েই ডেথ গ্রুপে এক ম্যাচ জয় করেই বাংলাদেশ উঠে গেলো পরবর্তী রাউন্ড-গ্রুপ ফোরে।

ছবিঃ ইএসপিএন