‘আমি আমার দল এবং দেশের কথা ভেবে নেমেছিলাম’-প্রাণের বাংলাকে বললেন তামিম

আহসান শামীম

শ্রীলংকার পেসার লাকমলের ঘাতক বাউন্সারই এশিয়া কাপে তামিমের খেলা থামিয়ে দিলো। ইনজুরির কারণে আগামী তিন-চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তামিমকে। স্বপ্নের এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিয়ে আজ মঙ্গলবার  দেশে ফিরছেন দেশ সেরা এই ওপেনার।

প্রাণের বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে মুঠো ফোন তামিম তার দেশে ফেরার বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এশিয়া কাপে তাঁর স্বপ্ন ছিল অন্যরকম।সেখান থেকে মাত্র ৪ বল খেলে দেশে ফিরে আসতে হবে সেটা কখনও কল্পনা করেননি। তামিম জানালেন, মঙ্গলবার দেশে ফিরে বিশ্রাম নিয়ে দ্রুতই তিনি মাঠে ফিরতে চান। শনিবারের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রাণের বাংলাকে তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয়না  জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়েছে। আমি সবার প্রতিক্রিয়া দেখছি,  আমি যখন ব্যাট করতে নামছিলাম এসব কোন কিছুই তখন আমার মাথায় ছিল না। আমি শুধু আমার দল এবং দেশের কথা ভেবে নেমেছিলাম।’

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ওপেন করতে নেমে  শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ৩ বলে ২ রান করার পরেই কব্জি ভেঙ্গে তামিম ফেরেনে সাজঘরে।

শনিবারের ঘটনার পর বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই ওপেনার ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘আমি ওই ১০ সেকেন্ডে মাঠে নামার পর লাকমলের দৌড়ে আসার সময় সাহস পাচ্ছিলাম। মাঠে নামার সময় চিৎকার আমাকে সাহস যোগাচ্ছিলো। আমি হয়তো আউট হয়ে যেতে পারতাম বা যে কোন কিছুই হতে পারতো। কিন্তু  ওই মুহূর্তে আমি দল এবং দেশের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম।’

তামিম বলেন, ‘মুস্তাফিজ যখন আউট হলো, তখন পর্যন্তও নিশ্চিত ছিলাম না নামবো কিনা। আমি কিছু চিন্তা না করেই নেমে পড়েছিলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি নিশ্চিত কিনা, আমি দ্বিধাহীন ছিলাম।’

তামিম আরও বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে খুব ঝুকিপুর্ন ছিল কাজটা। আঘাতপ্রাপ্ত হাতটা আমার পেছনে ছিল। যদি লক্ষ্য করে থাকেন শট খেলার সময় হাত সামনে চলে এসেছিলো আর বলটা মিস করলেই আমার ওই হাতেই আবার লাগতো। রুবেল যখন ক্রিজে ছিলো আমি তখন প্যাড-আপ করা শুরু করি। মাশরাফি ভাই আমার গ্লাভস কেটে দেয়। জীবনে প্রথম আমাকে কারো গার্ড পড়িয়ে দিতে হয়েছে! মমিনুল এবং অন্যরা আমাকে প্যাড পড়তে সাহায্য করে।’

লাকমলের বলে আহত তামিমের কব্জির হাড়ে চির ধরে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর হাতে প্লাস্টার বেঁধে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তামিম। তারপর অধিনায়ক মাশরাফির পরামর্শে দলের দুঃসময়ে ভাঙ্গা হাত নিয়ে আবার খেলতে নেমে শেষ ব্যাটসম্যান হিসাবে সেই লাকমলেরই শেষ বলটা একহাতে খেলে অপরাজিত থাকেন।তামিমের এই বীরোত্তম আচরণে অনুপ্রাণিত মুশফিক একাই ১৬ বলে ৩২ রান করে তৈরী করেন নতুন ইতিহাস। এই নাটকীয় ঘটনায় ক্রিকেট বিশ্বে প্রধান শিরোনামে পরিণত হন তামিম আর মুশফিক।

ছবিঃ গুগল