রঙ বেরঙের বাহারি মিঠাই

সাব্বিরুল হক

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

সিলেটে দুই ধরণের মিষ্টি ছিল ভারী মজার।বিয়ে আর ইফতারির।বিয়ের মিষ্টি,’বিয়াবাড়ির মিঠাই’ দারুণ ব্যাপার।বিয়ের আগে কয়েকদিন ‘দামান্দ’ ‘কন্যা’-র বাড়িতে মিঠাই মণ্ড খাওয়ার সে কি ধুম!আত্নীয়-স্বজন যে যেখান থেকে পারতো নিয়ে আসতো মিষ্টির হাঁড়ি।দইয়ের পাতিল।বেশিরভাগ মিষ্টিতে গরুর দুধ ব্যবহার করা হতো।সেসব হাঁড়ি ভেঙ্গে মিষ্টি লুটে খাওয়া কি যে রোমাঞ্চকর ছিল,মনে পড়লে এখনকার ছেলে- মেয়েদের জন্য দুঃখই হয়।

কাকার চবি

আমাদের ছোটসময়ে সিলেটি বিয়ের রেওয়াজ রীতি ছিল আরেকরকম।রমজানের মিঠাই ছিল ঘরে বানানো ঘরোয়া আইটেমের;মূলত মিষ্টান্ন দ্রব্যাদি।সেসব অবশ্য আশির দশক কিংবা তারও আগের ছেলেবেলার কথা।

পরে একসময় দেখেছি রমজান আসলেই সিলেটের মিষ্টির দোকান তাদের জনপ্রিয়তা জানান দিতো!সকাল-বিকাল মানুষের ভিড় লেগেই থাকতো।মেইন রোডে রাস্তায় দীর্ঘ লাইন দিয়ে ইফতারি মিষ্টি কিনতে লোকজনের ভিড়।মিষ্টিওয়ালারা হিমসিম খেতেন আর ক্রেতা সাধারণও মিষ্টি কিনতে গুনতে হতো অপেক্ষার প্রহর।

সিলেট কয়টাই বা মিষ্টির দোকান তখন!জিন্দাবাজারের কাকলী কিংবা আম্বিয়া মিষ্টিঘর,বন্দর বাজারের নীরা রেস্টুরেন্ট বা মুসলিম সুইট বা আশরাফিয়া কিংবা আলাউদ্দিন এরকম হাতেগোনা ক’টা মিষ্টির দোকান।তাই মেহমানরা স্থানীয়ভাবে তৈরি দই মিষ্টি নিয়ে আসতেন সঙ্গে করে।

তা-ই সই।মনে পড়ে বড়বোনের বিয়েতে ভীষণ মজা করেছিলাম বিয়ের মিঠাই নিয়ে।সিলেটের ঝরনার পাড়ে খালার বাসায় গুদাম হয়ে গিয়েছিল আত্নীয়দের আনা মিষ্টিতে।মজাটা ছিল সেই মিষ্টি বোঝাই ঘরে ঢুকে মুখ বাঁধা হাঁড়ি থেকে মিষ্টি মেরে দেওয়া।বেশ চালিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা ছেলেপেলেরা।আমাদের টার্গেট ছিল শুধুই রসগোল্লার হাঁড়ি।বিষয়টা যে বড় কারো নজরে চলে গেছে টের পাইনি।পেলাম নিজের পালা আসার পর।

যথারীতি মিষ্টিঘরের আধোঅন্ধকারে হাত চালিয়ে দিলাম হাঁড়ির ভেতরে।না,কোনো মিষ্টি লাগলো না হাতে।এরপর আরেকটা হাঁড়িতে চালিয়েও তা-ই!পরপর কয়েকটা হাঁড়ি পরীক্ষা করে বিস্ময়ে অবাক হলেও পোলাপানদের দেখানোর জন্য নিয়ে বেরিয়ে এলাম আস্ত একখান হাঁড়ি।বাহবা পেলাম ছেলেমহলে।গোটা হাঁড়িটাই নিয়ে এসেছে!

কিন্তু হাঁড়ির মুখ খুলে হতবাক হয়ে সবাই দেখতে পেলো একটাও রসগোল্লা নেই, হাঁড়ি ভর্তি প্যাঁচওয়ালা জিলিপি! রসগোল্লার হাঁড়ি সবগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ জায়গায়,অন্যত্র।

মিষ্টি কিনতে এখনো দোকানে যাই।গুনগত মান সঠিক পর্যায়ে আছে কি-না এ নিয়ে তর্কও করি।রমজান মাসে বা বিয়ে উপলক্ষে সিলেটিদের মিষ্টি কেনার হিড়িক নতুন নয়।চোখ ধাঁধানো প্যাকেটের মিষ্টি কিনে ঘরে ফিরি।কিন্ত সেসব দিনের  ঘরে বানানো বা হয়তো নাম না জানা কারিগরের তৈরি রঙ বেরঙের বাহারি মিঠাই খুঁজে পাইনা কোথাও কোনোখানে!

ছবি: গুগল