একজন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা…

সজিব খন্দকার

প্রিয় মা,

কেমন আছো???
যদিও জানি তোমার শরীরটা আজকাল ভালো যাচ্ছে না,তবুও কেনো জানি তোমার মুখ থেকে সেই মিথ্যে কথাটা “”ভাল আছি বাপ”” শুনতে খুব ইচ্ছে করে,
শরীরটা নাকি খুব একটা ভালো নেই তোমার,এখন ডাক্তারের ওষুধেও কাজ হয় না শুনলাম,,,
বয়সের ভারে ভেঙে গেছে দেহটা,

আমি এখানে বেশ আছি মা
প্রতিদিনের ৪-৬ ঘন্টা ক্লাস করার পর আলিশান ফ্লাটে এসির মাতাল হাওয়ায় রাত কাটাই,,
বাহারি সব খাওয়া দাওয়া র্জামানে,
চারিদিকে লাল/নীল ঝমকালো বাতির চমকানো আলোর ভিড়ে কেটে যায় সময়গুলো আমার

এতোসব আলোর ভিড়ে থেকেও কেনো জানি নিজেকে অন্ধকার বৃত্তের বাসিন্দা মনে হয়…কারন এখানে তো তোমার ঐ মুখখানা নাই মা

জানো মা
তোমার যে ছেলেটা একা একা বাথরুমে যেতে পারতো না সে আজ দিব্বি একা একা ভিন দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়,
তোমার যে ছেলেটা একটা দিন তোমাকে ছেড়ে শহরে গিয়ে থাকতে পারতো না,আজ
প্রবাসনে তুমি ছাড়া ,

মা,এখন তোমার ছেলে রাধতেও পারে,
আলু ভর্তা,
ডাল,
ভাত,
তরকারি সব সব কিছুই… কিন্তু
তৃপ্তিমতো খেতে ইচ্ছে করে না রে মা,
কারন এগুলোতে যে তোমার হাতের ছোঁয়া নেই…

মা-গো মনে আছে তোমার???
গোসল করে এসেই ভেজা প্যান্টটা ছুড়ে ফেলে দিতাম,আর তুমি তা সুন্দর করে ধুইয়ে রোদ্রে শুকিয়ে দিতে কিন্তু
এখন আর তোমার সেই আদরের ছেলে
ভেজা কাপড় ছুড়ে ফেলে না-মা…সে এখন নিজের সব কাপড় নিজেই ধোয়,

মা-গো,
এই প্রবাসে মনটা আর কারো জন্য না কাদলেও তোমার জন্য প্রতিনিয়ত মনটা হু হু করে কেঁদে উঠেরে মা।

মা-গো
ইচ্ছে করে উড়ে গিয়ে ঝাপটা দিয়ে তোমার বুকে পরি মা…
ইচ্ছে করে অতীতের ভয় পাওয়া রাতের মতো তোমার আচলের নিচে লুকাই,
ইচ্ছে করে তোমার সেই আদর,স্নেহ,আর ভালোবাসায় আবার বাসা বাঁধি মা

কিন্তু শত ইচ্ছা থাকা সত্যেও পারি নারে মা,
অভাব নামের দৈত্যটা যে বড্ড পাষান,
পাষানটা আকরে বেধে রাখে বাস্তব নামের কর্কট শিকলের স্তুবে।

অত:পর
নির্বাক আর নিরুপায় হয়ে আরেকটা সু-সময়ের অপেক্ষায় হুমরে ধুমরে পরে থাকি, আর এভাবেই হাওয়ার ঠিকানায় প্রবিত্র ভালোবাসা পাঠাই তোমার জন্য…

মা
দুনিয়ার সব মা বাবারা
বেচে থাকুক হাজার বছর…

ছবি: লেখক