কোমায় আমাদের সিনেমা

‘আয়নাবাজি’, ‘ডুব’ অথবা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ হলে মুক্তি পাবার পর ঢাকাই সিনেমার হৃদস্পন্দন বেশ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো। হলগুলোতে দর্শকের ভীড়। লাস্ট শো‘তেও আত্নীয়-পরিজন নিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দর্শকরা ভীড় করছেন, তরুণ প্রজন্ম দলবেঁধে ছবি দেখতে হলে গেছে, মিডিয়ায় চলেছে আলোচনা-সমালোচনা, হয়তো ব্যবসায়ে লাভের মুখও দেখেছেন প্রযোজকরা। অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন-যাক, ঢাকার সিনেমার সুদিন বোধ হয় ফিরলো।

কিন্তু তারপর? তারপর আবার বুকের বাঁদিকে একটু একটু ব্যথা, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ভালো চলছেনা সিনেমা।এই অবস্থাটাকে গ্যাসের ব্যথা বলে দূরে সরিয়ে রাখা যাচ্ছে না।

একদা পর্দা কাঁপানো অভিনেতা সোহেল রানা কিছুদিন আগে

মন্তব্য করেছেন, ‘ঢাকার সিনেমা কোমায় চলে গেছে।’ অবস্থাটা এখন অনেকটা সেরকমই। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নামকরা প্রযোজনা সংস্থা, সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের হাতে কাজ নেই, কাজ নেই কলাকুশলীদের। এক নম্বর নায়ক শাকিব খান ব্যস্ত টালিগঞ্জের ফিল্ম পাড়ায়, সিনেমা হলের অবস্থা তথৈবচ।পাঁচ বছর আগে যেখানে দেশে ৭০ থেকে ৮০ টি ছবি মুক্তি পেতো এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০-এ।

সংশ্লিষ্ট মানুষরা বলছেন, ঘোর দুঃসময় চলছে এখন ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। মুখ থুবড়ে পড়েছে সিনেমা।  ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছে হৃদযন্ত্র থেকে অন্যত্রও।

প্রাণের বাংলার এই সংখ্যার প্রচ্ছদ আয়োজনে ‘কোমায় আমাদের সিনেমা।’

শাকিব খান

ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর নায়ক বলা হয় শাকিব খানকে। ঢাকাই ছবির এই মুখ থুবড়ে পড়া পরিস্থিতি নিয়ে প্রাণের বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাকিব বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির খারাপ সময় আগে কখনও আসেনি তা নয়।এসেছে আবার সে মেঘ কেটেও গেছে।তবে গত এক দেড় বছর ধরে এখানে যে খারাপ সময় যাচ্ছে তা অকল্পনীয়।মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে ইন্ডাস্ট্রি জিম্মি হয়ে গেছে।অস্থির একটা সময় যাচ্ছে।এ অবস্থায় প্রযোজকরা টাকা লগ্নি করার সাহস পান না।ফলে বেকার হয়ে পড়ছেন শিল্পী, কলা-কুশলী সবাই।আইনের মারপ্যাচ এবং নজরদারী এতো বেশী যে ছবি বানানোর আগেই ভাবতে হচ্ছে, ঠিকঠাক ভাবে শ্যুটিং করা যাবে তো?ছবি সেন্সর থেকে পাশ করিয়ে আনা যাবে তো?সর্বোপরি হলের কি ব্যবস্থা হবে? এমন পরিস্থিতিতে কাজ করা খুব ডিফিকাল্ট।

বর্তমান অবস্থা নিয়ে বেশ অনেকটাই হাতাশার সুর এই অভিনেতার কন্ঠে।একটু ক্ষোভ প্রকাশ করে শাকিব খান বললেন, ‘এটা এমন একটা শিল্পক্ষেত্র যেখানে আলোচনার বিষয় হবে গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস নিয়ে।চর্চা হবে মুক্তবুদ্ধির।কিন্তু সেখানে হয় রাজনীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার।যেন ইন্ডাস্ট্রি একটা পদ্মার চর, কিভাবে এটাকে দখল করা যাবে এই নিয়ে চলে রাজনীতি।এতে ক্ষতি হচ্ছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির।ক্ষতি হচ্ছে দেশীয় সিনেমার।আর যারা এখানে নতুন কাজ করতে এসেছে তাদের।’

পরীমণি

অনেকে সমালোচনা করে বলেন, শাকিব একদা দেশীয় চলচ্চিত্রের কথা বলে এখন নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কলকাতার সিনেমায় অভিনয় নিয়ে। তাকে  এ বিষয়ে প্রশ্ন করাতে বললেন, ‘শুধু আমি কেন আমার আগে আরো অনেকে কলকাতার সিনেমায় কাজ করতে গেছেন। তারা হয়তো সেখানে যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেননি বলে টিকে থাকেননি। আমি যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে টিকে গেছি। তাই কাজ করছি। বিষয়টাকে আমি অপরাধ ভাবি না।দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে তারপরও পড়াশোনা করতে ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে যায়।অনেক হাসপাতাল আছে তারপর ডাক্তার দেখাতে মানুষ বাইরে যায়।আমিও ডাক ‍পেয়েছি তাই গিয়েছি।আমি ওখানকার যা কিছু ভালো তা দেখে এবং শিখে এসে আমার দেশে তা প্রয়োগ করতে চাই।’

চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের সিনেমার অসময় নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু কোনো সমাধানের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না কেউ। দু’একটি ছবি এর মধ্যে দর্শকদের মাঝে আলোড়ন তুলে আবার ডুব দিয়েছে। নিস্তরঙ্গ পুকুর আগের মতোই। গত কয়েক বছরে সনি কথাচিত্র, গ্রামীণ কথাচিত্র, শুভ ইন্টারন্যাশনাল, আশা প্রোডাকশন্স, সজনী ফিল্মস আর মা কথাচিত্রের মতো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে ব্যবসা থেকে। ফলে এই সময়ের অনেক নতুন তারকার হাতে এখন নতুন কাজ নেই। একটি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণের হার কমে গেছে আশংকাজনক ভাবে। আগে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ টা ছবি মুক্তি পেতো সে সংখ্যা এখন বাঁধা পড়েছে ৪০-এর ঘরে। গত ছয় মাসে নতুন কোনো ছবির কাজে চুক্তিবদ্ধ হননি এমন নায়ক-নায়িকার মিছিলও বেশ লম্বা। নতুন কোনো প্রকল্পে নেই বাপ্পী, সাইমন, জায়েদ খান, আরিফিন শুভ,নীরব, পরীমণি, মাহি, আঁচল, বিদ্যা সিনহা মিম, মিষ্টি জান্নাতসহ অনেকেই।

জায়েদ খান

তাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে যাচ্ছেন বিভিন্ন শো-তে অংশ নিতে। আবার অন্যরা ব্যস্ত অভিনীত সিনেমার কাজ শেষ করতে। আর শুধু নায়ক-নায়িকাদের দিকে আঙুল তোলাটাও বেশ অযৌক্তিক। কারণ অনেক পরিচালকও তাদের ওয়ার্ক-বুক বন্ধ করেই রেখেছেন। কেউ নতুন কাজের ঘোষণা দিয়েও ক্যামেরা ওপেন করছেন না।

মাহি

আমদের ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ভালো সিনেমা হচ্ছেনা বলে এই পরিণতি এমন কথাও অনেকে বলেন।এ প্রসঙ্গে শাকিব খান মনে করেন, এখানে ভালো সিনেমা হচ্ছে না অভিযোগটি অনেকাংশে ঠিক। তিনি বলেন, ‘এখন যারা অভিনয়ে আসছে তারা মঞ্চ, টেলিভিশন বা বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপ থেকে আসছে।তাদের কিছুটু হলেও গ্রুমিং করা থাকে ।কিন্তু আমাদের কলা-কুশলী? তাদের জন্য তো কোন প্রতিষ্ঠান নেই, তাদের গ্রুমিংটা কোথায় হবে? এই অবস্থা থেকে ইন্ডস্ট্রিকে বাচাঁতে হলে সরকারের ভূমিকাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাদের দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির ভালো হবে, কাদের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে এই ‍শিল্পকে এগিয়ে নেয়া যাবে তেমন শিল্পমনস্ক ব্যক্তিদেরই এর দায়িত্বে দিতে হবে।’

অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান সিনেমা শিল্পের এই রুগ্ন দশার জন্য অবশ্য সিনেমা হলের অপ্রতুলতাকে বেশী দায়ী করতে চান। দায়ী করতে চান ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত হলগুলোকে। বেশ স্পষ্ট করেই বললেন জায়েদ, ‘জাজ মিডিয়া হলগুলোতে মেশিন বসিয়ে সব নিয়ন্ত্রন করছে।ওরা এখানে কলকাতার বাজার বানাতে চায়।এ সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা বার বার বসেছি।সরকারের দৃস্টিগোচরে আনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।আমাদের ফাইলগুলো কোন ভাবেই জায়গা মতো পৌছে না।নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন অদৃশ্য হাত আছে।এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ খুবই প্রয়োজন।ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হলে আমাদের মাথার উপর শিল্পমনা ও সিনেমাবান্ধব গার্জিয়ান দিতে হবে।’

পপি

সম্ভবত ৯০‘এর দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রকে কেউ আদর করে হলিউড, বলিউডের অনুকরণে নাম দিয়েছিলো ঢালিউড। তারপর প্রিন্ট মিডিয়ায় এই নামটা-ই লেখালেখি হতে হতে স্থায়ী হয়ে যায়। নামের তখমা এঁটে ফেললেও কাজের দিক থেকে এই শিল্পটি গত কুড়ি বছরে কতদূর এগিয়েছে সেটা ভাববার বিষয়। যে ইন্ডাস্ট্রিতে একদা রাজ্জাক, কবরী, ববিতা, ফারুখ, শাবানা, আলগীর, জসিম, রোজিনার মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীরা দাপটে অভিনয় করেছেন, তাদের সিনেমা দিনের পর দিন হিট হয়েছে সেখানে ভাবতে হচ্ছে এই চলচ্চিত্র পাড়ার দুঃসময়ের কথা।

জাকির হোসেন রাজু

শামিমুল ইসলাম শামীম

পরিচালক জাকির হোসেন রাজু প্রাণের বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সিনেমার বাজার পড়ে যাওয়ার প্রধান একটি কারণ হলের সংখ্যা কমে যাওয়া। এখন হল ভেঙ্গে শপিং মল হচ্ছে, বহুতল ভবন উঠছে।এ দেশে বেশীরভাগ হল ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো। হলের ভেতরের পরিবেশও আর আগের মতো নেই। ফলে মানুষ আর সিনেমা হলে ছবি দেখতে যাচ্ছে না। পুঁজির নিয়ম হচ্ছে যেখানে লাভ পাবে সেদিকেই যাবে। যেখানে লাভ নেই পুঁজিও সেখানে অনুপস্থিত।সিনেমায় যারা পুঁজি লগ্নি করেছিলেন তাদের আস্থার সংকট যে তৈরী হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

জাকির হোসেন রাজুর কথার প্রতিধ্বনী করে আরেকজন পরিচালক শামিমুল ইসলাম শামীম প্রাণের বাংলাকে বলেন, ‘আজকে ভালো প্রযোজকরা তাদের টাকা লগ্নি করতে চাচ্ছেন না। কারণ তারা ভরসা রাখতে পারছেন না। তারা নিশ্চিত নন অনেক টাকা খাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবেন কি না।আবার কেউ কেউ সিনেমা বানাতে এসে বিনোদন খুঁজছেন বেশী। ফলে দুঃসময়ের মুখোমুখি আমাদের এই শিল্প।’

আমাদের সিনেমার বাজার চাঙ্গা করতে কয়েক বছর আগে শুরু হয় যৌথ প্রযোজনার হিড়িক। কিন্তু গোটা প্রক্রিয়াটি সুবিধার বদলে অনেকটা আপদ হিসেবেই দেখা দিলো। তার সঙ্গে যুক্ত হলো সাফটা চুক্তিতে আমদানি করে আনা সিনেমা। এই দুইমুখী সিনেমার স্রোতে কেটে গেছে দেশীয় সিনেমা নির্মাণের তাল। তাই সিনেমা কমছে, বিপরীতে বাড়ছে এই শিল্পের কর্মীদের বেকারত্ব। যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নিয়ে কতো কাণ্ডই না ঘটে গেল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। অভিযোগ উঠেছে, অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে যৌথ প্রযোজনার নামে কলকাতার চলচ্চিত্র ও তারকাদের বাজার বাংলাদেশে তৈরি করে দেয়ার চেষ্টা চলেছিলো। ঢাকাই সিনেমা উপেক্ষিত এই অভিযোগে তথাকথিত যৌথ প্রযোজনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন দেশীয় অনেক তারকা, নির্মাতা ও প্রযোজকেরা। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় দেশের অন্যতম সফল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়াকে। যৌথ প্রযোজনা ঠেকাতে আন্দোলনমুখী হয় এফডিসি ঘরানার মানুষেরা। এফডিসিতে গঠিত হয় চলচ্চিত্র পরিবার। একের পর এক কর্মসূচি, মামলা ও হামলার ঘটনায় মেঘ জমে চলচ্চিত্রের আকাশে।  যৌথ প্রযোজনার ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় আরও নানামাত্রিক দাবি ও ভাবনা। একটা সময় সরকার যৌথ প্রযোজনা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। আসে নীতিমালায় বেশকিছু পরিবর্তন।এই প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘ভালো ছবির বিকল্প নেই। যদি আপনি ভালো ছবি না বানাতে পারেন তবে দর্শক সেখানেই ছুটে যাবে যেখানে তার বিনোদনের ভালো ব্যবস্থা আছে। দেশীয় সিনেমার আবেগ থাকবে। তার সঙ্গে ভালো সিনেমা নির্মাণের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার প্রাণের বাংলাকে বলেন, ‘সাফটা একটি সরকারি ব্যবস্থাপনা। যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ছবি আনা-নেয়া করা হয়। তবে এর তদারিকর ঘাটতি আছে। সেটারই ফায়দা নিচ্ছেন অসাধু সিনেমা ব্যবসায়ীরা। তবে সত্যি কথা বলতে কি মানের দিক থেকে কোনো আপোষ করলে আমরা টিকে থাকতে পারবো না।’

অধরা খান

আমাদের সিনেমা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ভালো গল্প, ভালো পরিচালক আর কুশলী টেকনিশিয়ানদের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রায় সবাই। কারণ গোটা পৃথিবী জুড়ে পাল্টে যাচ্ছে সিনেমার মানচিত্র। আইনের বেড়াজালে জোনালা বন্ধ করে রাখলেই যে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প বিকশিত হবে তার নিশ্চয়তা কে দেবে? দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জানালা তো বন্ধই ছিলো।ভালো সিনেমার যুগ ফুরিয়ে আমরা তো সেই পতনের পথে যাত্রা করেছি। সংশ্লিষ্ট সবাই কি নিজেদের কাজের মান বাড়ানোর ব্যাপারে ভাবছেন?

আমাদের সিনেমার মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাকির হোসেন রাজু সিনেমার প্রতিপক্ষের প্রসঙ্গ তুললেন। তার ভাষায়, ‘এখন সিনেমার প্রতিপক্ষ অনেক। আছে ইউটিউব, ধারাবাহিক নির্মাণের জন্য ইন্টারনেট ভিত্তিক চ্যানেল।যান্ত্রিক কৌশলের দিক থেকে এগুলো মারাত্নক উন্নত।এবং সবগুলো মাধ্যমই শক্তিশালী এবং সহজলভ্য। তাই আমাদের সিনেমাকেও লড়তে হবে এইসব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।’

দলবাজি, কলহ, সিনেমা আমদানী-রপ্তানী আর অসৎ লগ্নিকারকদের ভীড় ঠেলে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোথায় আমাদের মূল সমস্যা? আর সেই সমস্যার সমাধান করে আমাদের সিনেমাকে নিয়ে যেতে হবে একেবারে নিজস্ব শিল্প এবং সংস্কৃতির কাছে।আমাদের সিনেমা হবে একেবারেই বাংলাদেশী সিনেমা। তেজী গল্প, ভালো পরিচালক আর দক্ষ কলাকুশলীদের কাজে লাগিয়ে নির্মাণ করতে হবে নতুন সময়ের চালচিত্র।এক্ষেত্রে সরকারের যেমন ভূমিকা আছে,তেমনি ভূমিকা আছে ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিস্ট সবার।আর সেখানে ব্যর্থ হলে সত্যিই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প কোমা থেকে চিরকালের জন্য প্রাণহীন হয়ে যাবে।

ইরাজ আহমেদ

সহযোগিতায় : লিমন আহমেদ

ছবি: গুগল