মুখ থুবড়ে পড়লো টাইগাররা

আহসান শামীম

মাত্র ১৭ ঘন্টার ব্যাবধানে বাংলাদেশের দুটি বড় ধরনের হার সহজে মানতে পারছেন না বাংলাদেশের সমর্থকরা। আলোচনা হচ্ছে দেশী-বিদেশী ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্রিকেটারাদের মাঝেও। সবার একটাই প্রশ্ন এ কোন বাংলাদেশ? ক্রিকেট বিশ্বের বড় বড় দলগুলোর ব্যাকআপ খেলোয়াড়রা এতটাই যোগ্য যে একবার কারো ইনজুরিতে দলে সুযোগ পেলে তাকে পরে বাদ দেওয়া কঠিন হয়ে পরে। দীর্ঘদিন পর ভারতীয় ওয়ান্-ডে দলে বদলী খেলোয়াড় হিসাবে সুযোগ পাওয়ার পর জাদেজা একাই তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট।অথচ ওপেনার তামিমের ইন্জুরীর পর ১৬ রানে মধ্যেই দুই ম্যাচেই দুই ওপেনার ফিরে গেছেন সাজঘরে।

বার বার চেষ্টার পরেও ওপেনিংয়ে সৌম্য, ইমরুল, বিজয়, লিটন থেকে বর্তমানে শান্ত পর্যন্ত সবাই ব্যর্থ। মিডল বা লেট মিডিল অর্ডারে সাব্বির, নাসির, মোসাদ্দেক বা মমিনুল কেউই নিজেকে উজাড় করে দিয়ে মেলে ধরতে পারেননি। পারেন নি বিশেষ কোন দৃষ্টিনন্দন পার্ফরমেন্স দিয়ে দলকে জয় এনে দিতে। নির্বাচকরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চেষ্টা করছেন, তারপরও সাফল্য পাচ্ছেন না। বাড়ছে হতাশা।

১৭ ম্যাচে সৌম্য সরকার তিরিশ গজের মধ্যেই আউট হচ্ছেন বারবার।তারপরও সৌম্যকে টেকনিকাল সাইডে প্রশিক্ষিত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের পুরো দলটাই, মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ নির্ভরা।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রান করতে পারলো না বাংলাদেশ।১৭৩ রান করতে বাংলাদেশ ১৯০ টা ডটবল খেলেছে ভারতের বিপক্ষে।উইকেট বিলিয়ে আসার মহাউৎসবে বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের শুধুই সাজঘরে আসা যাওয়া। সহজেই হেরে গেল ভারতের কাছে বাংলাদেশ।আর এই হারে গ্রুপ ফোরের তলানিতে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফির জানালেন, ‘এমন উইকেটে ২৫০ থেকে ২৭০ রান করা উচিত ছিল।’ ম্যাচ শেষে হতাশ মাশরাফি  বলেন,  ‘৬৫ রানের মধ্যে পাঁচ আর ১০১ রানের মধ্যে সাত উইকেট হারিয়ে এই ম্যাচে কখনোই সম্ভাবনাময় রানের পথে ছিল না বাংলাদেশ।’ এত অল্প রানের পুঁজিতে ব্যাটিং উইকেটে বোলারদের কিছুই করার ছিলো না।

পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক মুখথ থুবড়ে পড়া বাংলাদেশের পারফরমেন্স প্রতিনিয়ত হতাশার কথাই জানালেন। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে চলমান এশিয়া কাপের মঞ্চে বাংলাদেশ দলকে আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে দেখে অতীতের ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ দলকে  স্মরণ করেছিলেন পাকিস্তানের হয়ে ২৬৫ ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডার।এরপর অফগানদের আর  ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে তিনি ২০০১ এর পুরানো বাংলাদেশকেই দেখলেন বলে মিডিয়ার কাছে জানালেন আব্দুল রাজ্জাক।গতকাল পিটিভিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে লজ্জাজনক ভাবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ ।বাংলাদেশের এমন হারের দিন বল হাতে দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারেন নি অধিনায়ক মাশরাফি। আর এজন্যই মাশরাফির পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাবেক ভারতীয় পেসার অজিত আগারকার।শেষ দশ ওভারে বোলিং আর ফিল্ডার সাজানোর পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অধিনায়ক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেন নি বলেও মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানরা নিশ্চিত পরাজিত হওয়ার পথে চলে যাওয়ার মুহূর্তে বাংলাদেশের অধিনায়কের ভুলে আবার ঘুরে দাড়ায়।শুধু তাই নয় বড় ব্যাবধানেই জয় নিয়ে আফগানরা মাঠ ছেড়েছে বলে মন্তব্য সাবেক ভারতীয় পেসার অজিত আগারকারের।

অধিনায়ক মাশরাফির ইচ্ছায় ওপেনিং এ লিটন দাশ আর নতুন কোচ স্টিভ রোডর্সে পছন্দে শান্ত, তামিমের অবর্তমানে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যার্থ দুইজনে-ই। চলমান এশিয়া কাপে এখনও শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন অধিনায়ক মাশরাফি।বিসিবি হঠাৎ করেই গতরাতের সিদ্ধান্তে আজ আবুধাবির উদ্দেশ্যে রাতে রওনা হচ্ছেন ইমরুল আর সৌম্য। রোববার আবুধাবি পৌঁছে ওখানকার কন্ডিশনে আফগানদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁরা কি করতে পারবেন এক বিসিবির কর্তাব্যক্তিরাই জানেন।তামিম ইন্জুরিতে পরার পরই বিসিবি চেয়েছিলেন ওদের পাঠাতে, রাজী হননি সুজন তাই বিলম্বে পাঠানো হলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ বিষয়ে মিাশরাফি একেবারেই অন্ধকারে। এমন গোঁজামিল দিয়ে কতটুকু পথ চলা যাবে সেটা ভাববার যথেষ্ট কারন রয়েছে।সব কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে উল্টো রথে যাত্রা আবার শুরু হয়ে গেছে।

ছবিঃ গুগল