পুজাতে পেট পুজা

 

পুজার বাদ্য বেজে গেছে। পোশাকের পাশাপাশি পেটপুজা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে সবার।নিরামিষ আমিষ সব ধরনের খাবারই চলে পুজাতে, তবে নিয়ম মেনে।কারো নিরামিষেই স্বস্তি, কারো আবার আমিষ ছাড়া মুখে রোচেনা। তাই নিরামিষ – আমিষ দুইপদ নিয়েই আমাদের এবারের পেট পুজার আয়োজন।ইচ্ছে হলে আপনিও এই রেসিপি দেখে যে কোন পদ আপনি তৈরী করে নিতে পারেন।

 

স্টাফড আলুর দম

উপকরণ:

চন্দ্রমুখী আলু: ১ কেজি, (এক সাইজের হলে ভাল হয়),সর্ষে, পোস্ত: ২ চামচ করে,নারকেল কুঁচি: ২ চামচ,নারকেল কোরা: ২ চামচ,ছানা: ৫০০ গ্রাম,বাদাম ভাজা (ক্রাশ করা): ২ চামচ, কাঁচা মরিচ কুঁচি: ২/৩ চামচ,সাদা তেল: ৩ চামচ,শা মরিচ: ১ চামচ,ঘি ও গরম মশলা – অল্প,কিসমিস: অল্প,লবন, চিনি: স্বাদ অনুযায়ী
গ্রেভির জন্যে:

স্টাফড আলুর দম

কোরানো চিজ: ৫০ গ্রাম,নারকেল ও পোস্ত বাটা – ২ চামচ করে,সর্ষে বাটা: ১ চামচ,জিরে, শুকনো মরিচ ও তেজপাতা: ফোড়নের জন্যে,সরষের তেল: ২ চামচ,মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া: দরকার মত,মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া: দরকার মত,মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া: দরকার মত,লবন ওচিনি: স্বাদ অনুযায়ী,ঘি, গরম মশলা গুঁড়া ও ক্রিম: সাজানোর জন্য।

প্রণালী:
আলুর খোসা ছাড়িয়ে অল্প গর্ত করে স্কুপ করে নিবেন। এবার আলুর কুরানো শাঁস ধুয়ে ঝাঝরিতে পানি ঝরিয়ে দিয়ে ভেজে রাখতে হবে।গোটা আলুগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। এবারে স্টাফিং এর জন্যে কড়াইতে তেল দিয়ে ছানা এবং কোরানো আলুভাজা-সহ সব মশলা দিয়ে ভালকরে কষিয়ে নিবেন। তারপর নারকেল, সরষে ও পোস্ত বাটা এর মধ্যে ছেড়ে কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করুন এবং বাদাম ভাজা, মরিচ গুঁড়া দিয়ে নুন, চিনি মেশান । ভাজা ভাজা হয়ে গেলে ঘি গরম মশলা ও কিশমিশ দিন।তারপর এই পুর ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে এই পুর আলুর মধ্যে ভরে নিন।
এবার গ্রেভীর জন্য কড়াইতে সর্ষে তেল দিয়ে জিরে, শুকনা মরিচ ও তেজ পাতা ফোড়ন দিন।তারপর সর্ষে, পোস্ত ও নারকেল বাটা দিয়ে কষিয়ে নিয়ে চিজ দিন। এবারে মরিচ ও হলুদ গুঁড়া দিয়ে কষিয়ে গরম পানি ঢেলে দিন।ঝোল ফুটে উঠলে পুর ভরা আলু দিয়ে নেড়ে চেড়ে চাপা দিন।এবং সাবধানে উল্টে পাল্টে সিদ্ধ হলে উপরে ঘি, গরম মশলা ও ক্রিম ছড়িয়ে নামিয়ে নিবেন।এবার পরোটা, লুচি বা পোলাও এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

গার্লিক বাটার প্রন

গার্লিক বাটার প্রন

উপকরণ:
২৫০ গ্রাম বড় চিংড়ি, এক চিমটে সাদা গোলমরিচ, লেবুর রস, ৭৫ গ্রাম মাখন,৩ চামচ কুচনো রসুন, লবন।

প্রণালী:
চুলায় একটি পাত্র বসিয়ে এতে মাখন দিয়ে গলিয়ে নিন। তারপর এতে কুচনো রসুন ছেড়ে কড়া করে ভেজে একটি পাত্রে তুলে রাখুন। খুব হালকা করে মাখনে নেড়েচেড়ে নিন চিংড়ি মাছও। তারপর এতে একটু সাদা গোলমরিচ যোগ করুন এতে। স্বাদ অনুযায়ী লবন দিন।তারপর নাড়তে থাকুন ততক্ষণ যতক্ষণ মাখন ও রসুনের চলে না যায়। নামানোর আগে লেবুর রস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

পটেটো টর্নেডো

পটেটো টর্নেডো

উপকরণ:
আলু, কর্ন ফ্লাওয়ার, রাইস পাউডার, গোলমরিচ, গরম মশলা, মরিচ গুঁড়া, চিজ, টম্যাটো সস, পরিমান মতো লবন।

প্রণালী:
আলু খোসা ছাড়িয়ে স্পাইরাল কাটার দিয়ে গোলাকার করে কেটে ধুয়ে নিন।তারপর পানি ঝরিয়ে ১/২ টেবল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার, এক চামচ রাইস পাউডার, পরিমান মতো মরিচ গুঁড়ো, গরম মশলা, গোলমরিচ ও স্বাদ অনুযায়ী লবন মেশান। এবার ৬ ইঞ্চি লম্বা কাঠিতে আলু সুন্দর করে ভরে ডিপ ফ্রাই করুন। গলানো চিজ বা টম্যাটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

চিংড়ি-সরিষা-নারিকেল

চিংড়ি-সরিষা-নারিকেল

উপকরণ:
বাগদা চিংড়ি, সাদা সরিষা, নারকেলের দুধ, নারকেল কোড়া, ফ্রেস ক্রিম,সরষের তেল,কাঁচা মরিচ,দারচিনি,
হলুদ ও লবন পরিমান মতো।

প্রণালী:
অনেকেই চিংড়ির এই পদ না ভেজে সরাসরি রান্না করতে পছন্দ করেন। মাছ পরিস্কার করে ধুয়ে মাছের ভিতরের কালো সরু সুতোর মতো অংশ বাদ দিন। এবার একটা পাত্রে তেল দিয়ে চিংড়ি চেড়ে হালকা নেড়েচেড়ে নিন। তারপর মিক্সিতে সাদা সরষে ও নারকেল কোড়ানো এক সঙ্গে দিয়ে ভাল করে মিক্স করে নিন। এবার একটা পাত্রে সরষের তেল গরম করে তাতে কাঁচা মরিচ ও দারচিনি ফোড়ন দিন। ঝাল খেতে না চাইলে কাঁচা মরিচ বেশি দেবেন না। এ বার সাদা সরষে ও নারকেল কোড়ানো বাটা তেলে ছেড়ে দিন। সোনালি হয়ে ভাজা ভাজা হয়ে এলে তাতে পরিমাণ মতো নুন ও হলুদ দিয়ে দিন। ঝাল বেশি খেতে চাইলে সরষে-নারকেল কোড়ার সঙ্গে কাঁচা মরিচও পেস্ট করে নেবেন। এবার এতে ধিরে ধিরে চিংড়িগুলো ছেড়ে দিয়ে একটু কষিয়ে নিন।তারপর অল্প পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিন । মাখো মাখো হয়ে এলে ফ্রেস ক্রিম ও নারকেলের দুধ দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ ফোটান। নামানোর আগে উপর থেকে সরষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। ব্যস! গরম ভাত বা পোলাও এর সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।