বিশাল কারাগারে অভিশপ্ত জীবন

মাসুদুল হাসান রনি

ভ্যাকেশান বা কোন কাজে ঘুরতে এসে এক দেড়মাস থাকা ভাল। কিন্তু আমার মতন যারা আড্ডাবাজ, বন্ধু-স্বজন ও মানুষদের নিয়ে থাকতে পছন্দ করেন , তাদের জন্য অনাবাসী জীবন যেন বিশাল কারাগারে এক অভিশপ্ত জীবন!
এখানে খুব মিস করি বই পড়া, সিনেমা দেখা। কাজের চাপে সুর্যোদয় বা সুর্যাস্ত দেখা হয় না। তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে!
এক সময় চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনের কারনে দেশী-বিদেশী প্রচুর সিনেমা দেখা হতো । অনেক ভালো ভালো চলচ্চিত্র দেখা হয়েছে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ।বড় পর্দায় সিনেমা দেখার আনন্দই ছিলো আলাদা। উৎসবের কারনেই বিশ্বের অনেক বড় বড় নির্মাতাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো । টেলিভিশনে যোগ দেয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে কমতে থাকে আমার সিনেমা দেখা । বলা চলে সময়ের অভাবে তখন আর সিনেমা দেখা হয়ে উঠতো না । এই না দেখতে পারার কি যে কস্ট বা যন্ত্রনা কাউকে বোঝানো মুশকিল ।কিন্তু এমন একটা সময় ছিলো দিনের বেশীরভাগটাই কেটে যেত ঢাকাস্থ বিদেশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে , দেখা হতো বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে বিশ্বের ধ্রুপদি সিনেমাগুলো । বিকেল বা সন্ধ্যার পুরো সময়টা কাটতো সিনেমা বিষয়ক আড্ডায় এলিফ্যান্ট রোডের বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের অফিসে বা শাহবাগের আজিজে । মাঝে বেশ কিছুদিন কেটেছে শর্ট ফিল্ম ফোরামেও । সারাদিন আধপেটা খাওয়া,ভাগাভাগির চা আর তিনজন মিলে এক সিগারেটে । এভাবেই বেড়ে উঠছিলো আমাদের আগামীর স্বপ্ন দেখার দিনগুলো !
সেই সময়টাতে ঢাকার এমন কোন অভিজাত শপিংমল ছিলো না, যেখানে সাপ্তাহে একবার ঢুঁ দিতাম নতুন নতুন চলচ্চিত্রের ডিভিডি‘র জন্য । বিদেশী চলচ্চিত্রের আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহ কম নয় । নিয়ম করে প্রায় রাতে ডিভিডি দেখা হতো ।টিভিতে কাজ করার সময় ব্যস্ততার কারনে সিনেমা দেখা হয়ে কমতে থাকে । নতুন ভালো কোন চলচ্চিত্র এলে প্রায়শ রাইফেল স্কয়ারের মুভিপ্লাস থেকে ফোন আসত ।যাবো বলে ফোন রাখতাম । কিন্তু আর যাওয়া হযে উঠতো না । তারপরও পার্সোনাল কালেকশানের বেশ কিছু নতুন চলচ্চিত্রের ডিভিডি অদেখাই রয়ে গেছে বাসায় । জানি না আর দেখা হবে কিনা!
শুধু চলচ্চিত্র দেখা নয় , চলচ্চিত্র পড়ারও বিষয় ।যখনই দেশের বাইরে গিয়েছি তখন খঁজে পেতে বের করেছি বইয়ের দোকান । খুঁজে খুঁজে কিনে এনেছি ফিল্মের উপর আলোচনা, সমালোচনা বিষয়ক প্রচুর বই । বইগুলোর বেশীরভাগই আমার পড়া হয়ে উঠেনি ।কিছু বই সঙ্গে এনেছিলাম কানাডায়।কিন্তু কর্মব্যস্তদিন শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত দেহ নিয়ে বই পড়তে ইচ্ছে করে না ।বইগুলি পড়ে আছে ল্যাগেজেই।খোলাও হয়নি।
হায় !অনাবাসী জীবন , এ যেন বই পড়তে না পারার অভিশাপ !