পাত্তাই পেলো না পাকিস্তান: সামনে ভারত

আহসান শামীম

পাত্তাই পেলো না পাকিস্তান। সেমিতে মুখ থুবড়ে পড়লো পাকিস্তান। এই নিয়ে চার বারের এশিয়া কাপের তিনবারই ফাইনালে বাংলাদেশ। আগামীকাল শুক্রবার ফাইনালে আবারো প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত।ব্যাটিং ব্যার্থতা, সংযুক্ত আমিরাতে গরম সেই সঙ্গে ইনজুরিতে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে ফাইনালের পথ দেখালো অসাধারন বোলিং, ফিল্ডিং।

মুশফিক- মিথুন, মাহমুদুল্লাহ-ইমরুল জুটিই মুখ থুবড়ে পরা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপকে আশার আলো দেখিয়েছে। ব্যাট হাতে মুশফিক দুটো আসাধারণ ইনিংস খেলেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১১৬ বল ৯৯ রানের আউটা ছিল বেদনাদায়ক।বিশ্ব ক্রিকেটে এমন বেদনাদায়ক আউটের তালিকার ৩৩ নাম্বার ব্যাটসম্যান হলেন মুশফিক।পাকিস্তানের বিপক্ষে অঘোষিত সেমিফাইনালে , রুবেল ও অধিনায়ক মাশরাফির দুটো ক্যাচই টেলিভিশনের ধারাভাষ্যকারদের মতে এবার এশিয়া কাপের সেরা দুই ক্যাচ।

গতকালের ম্যাচের আগেই সাকিবের না থাকার দু:সংবাদ পেয়েছিলো বাংলাদেশ।খেলা চলাকালিন সময় আঙ্গুলের ক্ষতে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্লেনে ওঠেন সাকিব। মুশফিকও ইনজুরিতে থাকায় ব্যাটিং শেষ করে আর কিপিং করতে পারেন নি। তামিম -মুশফিক ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নেমে ১২ রানেই ৪.৩ ওভারে বাংলাদেশের তিন উইকেটের পতন। চাপে থাকা বাংলাদেশের হয়ে মুশফিক- মিথুনের অসাধারন ১৪৪ রানের জুটি সাধারন মানের একটা জয়ের টার্গেট

ছিল পাকিস্তানের সামনে। মিরাজসহ পুরানো ফর্মে ফেরা মুস্তাফিজ, মাহমুদুল্লাহ, রুবেল, মাশরাফি আর সৌম্য সরকার বল হাতে সেই সহজ টার্গেটটাকে পাকিস্তানের জন্য কঠিন করে দিলো। জয় হলো ৩৭ রানে।

এর আগে ৩ নভেম্বর, ২০১৩ সালে ফতুল্লার মাঠে সাকিব তামিম ছাড়াই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩০৭ রান তাড়া করে জিতেছিল।

ম্যাচ সেরা মুশফিক জানান,‘সবাই মিলে একটাই কথা বলেছি। মাশরাফি ভাই যেমন বলেছেন, যুদ্ধে নামলে পেছনে তাকিয়ে থাকার উপায় নেই।যুদ্ধে নেমে গা বাঁচিয়ে চলারও উপায় নেই। হয় মারো, নয়তো মরো। আমরা ফল নিয়ে চিন্তা না করে আমাদের ১০০ ভাগ দেওয়ার চিন্তা করেছি।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা জয়ের জন্য তিনি দলে জুনিয়র সদস্যদের কৃতিত্ব দেন।

অধিনায়ক মাশরাফি বল হাতে সুবিধা করতে না পরলেও ২.৩ মিটার দূরে সোয়েব মালিকের মারা উড়ন্ত বলটা ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরতে সময় নেন মাত্র .০৮ সেকেন্ড।এরপর এক হাতে বল উচিয়ে ধরলেন তিনি। দৃশ্যটা যেন ফ্লোরোন্স নাইটেঙ্গেলের আলোকবর্তিকা উচিয়ে ধরার মতো। ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ-হাতের আঙুলে ব্যথাও পেয়েছেন।ওই ক্যাচটাই যেন ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ঘুরে দাঁড়ালো ম্যাচে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেন, ‘ভ্যাগিস ক্যাচটা ধরতে পেরেছিলাম না হলে ম্যাচটা হয়তোবা আমাদের নাগালের বাইরে চলে যেতো।’

মুশফিক, মিথুন ব্যাটিং জুটি , বিশেষ করে ভাঙ্গা কোমর নিয়ে মুশফিকের ৯৯ রানের প্রশংসার পাশাপাশি বোলিং আর ফিল্ডিং-এ প্রশংসা ছিল অধিনায়কের কণ্ঠে।

এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মাশরাফি। সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিতে বোঝা যায় ভারতের বিপক্ষে আলরাউন্ডার আরিফের অভিষেক হতে পারে, আর বাদ পরে যেতে পারেন মুমিনুল।কাটার মাষ্টার মুস্তফিজ ফিরেছেন পুরানো ফর্মে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ৩৭ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।মুস্তাফিজের বলে বদলী উইকেট রক্ষক লিটন দাসের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া না হলে মুস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা বাড়তে পারতো, পাকিস্তানও পরাজিত হতো আরও বিশাল ব্যাবধানে।

ভারতে সমীহ-ই করছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি।ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী দল তাই বলে ফাইনালে হাল ছেড়ে দিতে নারাজ মাশরাফি।তিনি জানান জয়ের জন্য ফাইনালের দলের খেলোয়াড়দের মাঠে শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে।

পাকিস্তানের পরাজয়ের পরও পাক অধিনায়ক বাংলাদেশকে নুন্যতম অভিনন্দনটুকুও জানালেন না, শুধু দলীয় ব্যার্থতার কথা বলেই সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।পাকিস্তানের ধারাভাষ্যকর রমিজ রাজা ২৪০ রানের টার্গেট দেখে উৎফুল্ল হয়ে ধারাভাষ্য শুরু করেন।ম্যাচের শেষ দিকে তাঁর কন্ঠস্বরের মলিনতা আর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন না জানানোটা দৃষ্টিকটু হলেও টুইটারে পাকিস্তানের আলরাউন্ডার শাহেদ আফ্রিদী বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে অভিনন্দন জানান টিম বাংলাদেশে কে। পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার স্যাকলাইন মুশতাকও বাংলাদেশ কে অভিনন্দন জানিয়ে , ভারতকে ফাইনালে সর্তকবার্তা দেন।

এছাড়াও টুইটার বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফির অধিনায়কত্ব, মুশফিক আর মিরাজ আর মুস্তাফিজের বন্দনায় মেতে ওঠেন বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার ও ক্রীড়া ভাষ্যকাররা।বুধবারের এই ম্যাচে পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করেছিলেন টাইগার দলের পাঁচ ‘এম’। অর্থাৎ মুশফিক, মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজ এবং মিরাজের পারফর্মেন্সের সুনাম করেছেন ভারতের সাবেক মারকুটে ওপেনার বীরেন্দ্র শেওবাগ।

ভারতের দৈনিক আনন্দ বাজার পত্রিকায় মাশরাফির ক্যাচ ধরার বিশাল ছবি আর বাংলাদেশ খেলার প্রশংসা করে রিপোর্টও ছাপা হয়েছে।

ছবি: গুগল