বৃষ্টি, বিষন্ন দুপুর ও ডালপুরি

মাসুদুল হাসান রনি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এখানে একটু বৃষ্টি হলে মন কেমন কেমন করে। ছিচকাদুনে বৃষ্টি। দেশের বৃষ্টির সঙ্গে মিল খুজে পাই না।রিমঝিম ছন্দ নেই।টাপুর টুপুর শব্দ নেই।আমার দেশের সোদামাটির গন্ধ নেই।আছে ছিচকাদুনে মেয়ের মতন হুটহাট একপশলা বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয়ার বিড়ম্বনা। তিনতলার জানালা দিয়ে বাহিরের বৃষ্টি দেখতে দেখতে মন উদাস হয়ে যায়।নিমিষেই মন চলে যায় ছেলেবেলার সেইদিনগুলোতে।অনাবাসি জীবনে স্মৃতির ডালা খুলে বসা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেল!
ছুটিরদিনের বৃষ্টিময় সকালে আমরা দলবেধে চর আকসিরে( আউটার স্টেডিয়াম) ফুটবল খেলতে যেতাম।জাজিরাভবনে আমাদের সমবয়সী অনেক বন্ধু থাকতো।মাসুদ, মাসুম,জুয়েল,দীপন,নেসার,স্বপন,মামুন,আনিস,মানিক, উজ্জ্বল,টিক্কা,জাহিদ সহ বৃষ্টিতে ভিজে কাদামাটি মেখে ফুটবল খেলার উৎসবে মেতে থাকতাম। আমাদের সঙ্গে খেলতে যেতো প্রিয় ছোটভাইগুলো।জাতীয়দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ,আরিফুল হক সজল, রাজ, মুন্না,মামুন,সোহাগ,সুমনসহ আরো অনেকে।আহা সেই কৈশোরের দিনগুলো কত না মধুর ছিলো!
খেলা শেষে কাদামাটি মেখে ঝাপিয়ে পড়তাম ঈদগা মাঠের পাশের পুকুরে।ঘন্টাখানেক লাফিয়ে ঝাপিয়ে যখন উঠতাম তখন ক্ষুধায় পেটে রীতিমতন ইদুর দৌড় শুরু হয়ে গেছে।বৃষ্টি ও জলে ভিজে লাল দু’চোখ নিয়ে সবাই ছুটতাম পাড়ার টি-স্টলে।বাচ্চুভাইয়ের গরম গরম ডাল পুরি,আলু পুরি খেতে।আমরা সবাই যখন ৩/৪টা খেয়ে বাসায় ছুটতাম তখনও মাসুদ,দীপন,জুয়েল রীতিমতন পাল্লা দিয়ে ২০/২৫ টা পুরি খাওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকতো! 
দেশের অনেক প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে চা,পুরি খেয়েছি। কিন্তু বাচ্চুভাইয়ের বানানো পুরি’র স্বাদ কোথাও পাইনি।এখনো মনে হয় সেই স্বাদ মুখে লেগে আছে।এখনো বাচ্চুভাইয়ের দোকান আছে কিন্তু তিনি আর পুরি বানান না।
আমার সেই ছেলেবেলার বন্ধুরা,ছোটভাইরা বেশীরভাগই ইউরোপ,আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।অনেকের সঙ্গে যখন কথা হয় ঘুরেফিরে জামতলার আড্ডা,দীপনের রুম দখল করে দিন কাটানো কিংবা সন্ধ্যায় জাজিরাভবনের ছাদে আড্ডার কথাই আসে।বৃষ্টিরদিনে দীপনের রুমে আব্দুল হাইয়ের মুড়ি মাখানো, চা আর ভিসিপিতে সিনেমা দেখার সেইদিনগুলি খুব বেশী মনে পড়ে।আমাদের অনাবাসী বন্ধুরা এবং দেশে থাকা বন্ধু দিপন,জুয়েল,লাম্বু শাহীন, নেসার,মাসুমদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগে এসব কথাই বারবার উঠে আসায় নস্টালজিয়ায় ভেসে যাই।
বৃষ্টি একটু থেমে আসতেই রোদ উঠেছে। বৃষ্টিস্নাত দুপুর।ঝকঝকে চারপাশ।হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোর গায়ে আলো পড়ে চকমক করছে।কিন্তু আমার মন এখানে নেই। দেশের মোটাচালের মুড়ি, সরিষা তেলে কাচা মরিচ,পেয়াজের কুচি ও চানাচুরের মৌ মৌ ঘ্রান খুজে ফিরছে।গরম চায়ের সঙ্গে পুরি।আহা…!

ছবি: গুগল