নির্মোহ ভালোবাসার ফেরিওয়ালা হেলাল হাফিজ

লুৎফুল কবির রনি

‘এটা এমনই এক  আকালের দেশ যেখানে নান্দনিক বেদনা দেয়ার লোকেরও বড্ড অভাব!’

– হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজ বাংলা কবিতার অবিনাশী রাজকুমার।ভালবাসাহীন বেজান নগরে আজও বিপ্লবে , আন্দোলনে বেজে উঠে তারুণ্যের কণ্ঠে হেলাল হাফিজ, আত্মভোলা প্রেমিক যুবক বুক পকেটে হেলাল হাফিজ নিয়ে ঘোরে, প্রত্যাখ্যাত প্রেম হেলাল হাফিজের কবিতার শব্দে সান্ত্বনা খোজে ।

৫৬টি কবিতা এই নিদারুণ নাগরিক জীবনে মানুষকে ভালবাসতে , রুখে দাঁড়াতে নিরন্তর ডেকে যাচ্ছে ।

”একসময় হেলাল হাফিজের সঙ্গে আমার সখ্য ছিল খুব। আমার নির্ভেজাল শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। খুব স্নেহ করতেন। খুব ভালোবাসতেন আমাকে। ময়মনসিংহ থেকে আমি ঢাকায় বেড়াতে এলে প্রায়ই প্রেসক্লাবে ডাকতেন, দুপুরে খাওয়াতেন, গল্প করতেন। উজাড় করে দিতেন, শুধু দিতেনই। কিছু নিতেন না। এত নির্লোভ আর নিঃস্বার্থ মানুষ আমি খুব কম দেখেছি জীবনে।’

‘এত আলোকিত মানুষের চোখে এত অন্ধকার মানায় না।’

গ্লুকোমায় আক্রান্ত কবিকে মন না দিলে ছোবল দিও তুলে বিষের ফণা বলে কবিতা লিখেছেন সেই তসলিমা নাসরিন এভাবেই বলেছেন এই অভিমানি প্রেমিককে নিয়ে ।

হেলাল হাফিজ এই শহরে, যন্ত্রণার শহরে , প্রেমহীন শহরে নির্মোহ ভালোবাসার ফেরিওয়ালার নাম ।যদি হেলাল হাফিজের চোখের আলো নিভে যায় , অন্ধ হয়ে যাবে এ নগর।

কবি বেদনাকে ভালোবাসেন। জীবনে যতটুক সুখস্মৃতি আছে, সেটুকু ভুলে যেতে চান। বেদনার নীল চাদরে জুড়িয়ে ধরে ভালোবেসে বাঁচতে চান সহস্র বছর। তাই কবি উচ্চারণ করেছেন-

‘কী দারুণ বেদনা আমাকে তড়িতাহতের মতো কাঁপালো তুমুল
ক্ষরণের লাল স্রোত আজন্ম পুরোটা ভেতর উল্টে পাল্টে খেলো,
নাকি অলক্ষ্যে এভাবেই
এলোমেলো আমাকে পাল্টালো, নিপুণ নিষ্ঠায়
বেদনার নাম করে বোন তার শুশ্রূষায়
যেন আমাকেই সংগোপনে যোগ্য করে গেলো। ’

হেলাল হাফিজ প্রেমের কবি , দ্রোহের কবি , জীবনের কবি ।নিঃসঙ্গ , নিভৃতচারী প্রচারবিমুখ একটি কাব্যগ্রন্থ দিয়ে কবিতার আকাশের সব থেকে উজ্জ্বল তারকা । তাঁর কবিতার পঙতিতে পঙতিতে নিজের অস্থিত্তকে খুঁজে পায় পাঠক নিজেকে । কবির স্বপ্ন , প্রেম ,দ্রোহ , বেদনা মিশে যায় পাঠকের জীবনের নিবিড়তায় ।
হেলাল হাফিজ ভালোবাসা , প্রেমের আকাশে একমাত্র প্রেমিক পুরুষ ।

চিরসবুজ কবির জন্মদিনে এই প্রত্যাশা রইল তুমি বেঁচে থাকবে তোমার কবিতায় ,সৃষ্টিশীলতায় ।

শুভ জন্মদিন কবি।

ছবি: কবির ফেইসবুক থেকে