রক্ষা পেয়েছে সাকিবের হাত

আহসান শামীম

গত সপ্তাহে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কথা হচ্ছিল বিসিসিবি’র অপারেশন কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খানের সঙ্গে। ক্রিকেটের মানুষ, গল্পচারিতায় ক্রিকেট নিয়ে কথা হবেই।সাকিবকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। জানালেন, আগামী বছরের আগে সাকিবের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা কম। দুবাইতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবারের এশিয়া কাপের সকালে তীব্র ব্যাথায় কাতর সাকিব। তখনই সাকিব আকরাম খানকে বলেছিলেন, দ্রুত জরুরী চিকিৎসা করাতে দুবাই ছেড়ে ফ্লোরিডায় যেতে চান তিনি। আকরাম খান খোঁজ নিলেন। দুবাই থেকে সেদিন ছিল না কোন আমেরিকার ফ্লাইট।মিললো ঢাকার টিকিট। পরিবার সহ সেই রাতেই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো ঢাকায়।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাতেই তীব্র ব্যাথা। সাকিবকে ভর্তি করা হলো এ্যাপোলো হাসপাতালে। পরদিন ৮০ মিলি পুঁজ বের করা হলো। সময় মত কাজটা না হলে হাতটা হয়তো কেটে বাদ দিতে হতো ডাক্তারদের।  এ্যাপোলো থেকে ছাড়া পেয়ে সাকিব চলে গেছেন বিদেশে পুরানো চিকিৎসকের কাছে। আকরাম খান জানালেন,  সাকিব আহত হওয়ার পর অপারেশনের আগেই আড়াই ঘন্টা সময় লেগেছিল শুধু তার আঙ্গুল থেকে ঘাস পরিস্কার করতে। আকরাম খানের ধারণা তখন হয়তবা কিছু জীবানু ভেতরে ছিল, পাশাপাশি ভাঙ্গা আঙ্গুল নিয়ে খেলায় বলের আঘাত। সাংঘাতিক এক বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন সাকিব।

এশিয়া কাপে লঙ্কানদের বিপক্ষে ইন্জুরীতে আক্রান্ত তামিম, দুবাইতে এক্স-রে রিপোর্টে ধরা পরে একটা আঙ্গুলের ফ্র্যাকচার। এশিয়া কাপে ৪ বল খেলেই তামিমকে দেশে ফিরতে হয়।তারপর বিসিসিবির ব্যাবস্থাপনায় তামিমকে পাঠানো হয় অস্ট্রেলিয়ায়। আকরাম খান জানালেন সেখানে গিয়ে ধরা পরে তামিমে একটা না দুইটা আঙ্গুলে ফ্র্যাকচার। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন তামিম। চলছে ফিজিও চিকিৎসা। আকরাম খানের ভাইয়ের ছেলে তামিম সম্ভাব্য নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেন।

দলের পঞ্চ পাণ্ডবের তিন পাণ্ডবই ইনজুরিতে। মুশফিক খেলেছেন পাঁজরে ব্যথা নিয়েই।ধরা পড়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির আঙ্গুলের আঘাত। এশিয়া কাপে শোয়েব মালিকের ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলেও চোট পেয়েছিলেন মাশরাফি। সেটি সারতে আরও দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন দেবাশীষ চৌধুরী। মাশরাফির ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে আঘাত ছিল। এটা সারতে তিন সপ্তাহের মতো সময় লেগে যাবে।  তারপরও মুশফিক, মাশরাফি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে চান।দেশের হয়ে বাংলাদেশর খেলোয়াড়রা খেলার সুযোগ কম পান, সেখান থেকেই তাঁরা সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ জানলেন আকরাম খান। যদিও তাঁর মতে বিসিসিবি তাঁদের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। সাকিবের জায়গায় জিম্বাবুয় আর ওয়েস্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে মাহামুদুল্লাহর অধিনায়কত্ব করা সম্ভবনা বেশি।মাশরাফি পরিপূর্ন সুস্থ না হলে সেখানে মাহামুদুল্লাহকে দিয়ে অধিনায়কত্ব করার চিন্তা বিসিসিবি’র। সেই ক্ষেত্রে তারুন্য নীর্ভরশীল দল নিয়েই একাদশ গঠনের চিন্তা করছে বিসিসিবি, সুযোগ হতে পারে আরশাফুলেরও।

ছবিঃ গুগল