বোতলে ভালোবাসার কান্না

সমুদ্রের পানিতে ভাসছিলো কাচের বোতলটা। ঢেউয়ের ধাক্কায় বারবার তীরে এসে আবার ফিরে যাচ্ছিলো। সমুদ্রতট ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ বোতলটা চোখে পড়ে পর্যটক কেট আর ড্যানিয়েলের। কৌতুহলে বোতলের ছিপি খুলে তারা দেখেন ভেতরে একটা কাগজ। তাতে চিনা ভাষায় কিছু একটা লেখা আছে।

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড। যার পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর আর প্রবাল সাগর। সেখানেই, টঙ্গে বে-র সমুদ্র সৈকতে বোতলটা খুঁজে পান কেট চ্যালেঞ্জার নামে এক মহিলা। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পার্টনার ড্যানিয়েল ম্যাকনেলি।

গত আগস্ট মাসে তারা অস্ট্রেলিয়া বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর বেড়াতে গিয়েই সেই বোতল পান এই যুগল। চিনা ভাষা তারা জানেন না। তাই কাগজে কী লেখা আছে জানা সম্ভব হলো না।

কিন্তু লেখাটার অর্থ উদ্ধারের চেষ্টায় বিরতি দিলেন না তারা। ড্যানিয়েল ম্যাকনেলি, তাঁর ফেইসবুক পেজে চিঠিটি পোস্ট করে তা অনুবাদ করে দিতে সবাইকে অনুরোধ জানান। সাহায্যও পান তারা। তারপর উদ্ধার করা গেলো বোতলের ভেতরে চিঠির অর্থ। তারা জানতে পারেন যে, চিনের এক নাবিক এই চিঠি লিখেছেন তার প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে। তাদের বাগদানের পরে পরেই কাজের জন্য ভারত মহাসাগরে ভেসে পড়তে হয় সেই চৈনিক নাবিককে। প্রিয়তমাকে ছেড়ে থাকার বেদনাই তিনি লিখে ভাসিয়ে দেন সাগরের জলে। চৈনিক নাবিক এ-ও লেখেন যে, ফিরে গিয়ে তিনি এক সুখের জীবন কাটাতে চান তার সেই ফেলে আসা প্রিয়তমার সঙ্গে।

চিঠিটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবং এক সময়ে তা পৌঁছে যায় নাবিকের কাছে। নাবিকের বন্ধুরা যোগাযোগ করেন কেট চ্যালেঞ্জারের সঙ্গে। তারা কেটকে জানান সেই নাবিকের জীবনের দুঃখের কথা। দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকায় প্রিয়তমার সঙ্গে সেই নাবিকের বাগদান ভেঙ্গে গেছে। সে এখনো রয়ে গেছে অবিবাহিত। তবে তার প্রিয়তমা এখন চুটিয়ে সংসার করছে। সেই নাবিক তাই সবার কাছে অনুরোধ করেছে তাদের দুজনের নাম প্রকাশ না-করতে।

খবরটা বিভিন্ন পত্রিকায়ও সংবাদের বিষয় হয়ে ওঠে। ‘ব্রিসবেন টাইমস’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কেট চ্যালেঞ্জার অবশ্য বলেছেন, তিনি চান সেই নাবিকটি যেন তার জীবনে নতুন এক ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে পায়।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ব্রিসবেন টাইমস

ছবিঃ গুগল