পূজার গল্প…

পূজা এসে গেলো। উৎসবের ছোঁয়া লাগলো বাঙালির প্রাণে। যে কোনো উৎসব মানে যেমন অনেকটা হৈ হুল্লোড় তেমনি খানিটা অবসরও। সেই ছুটির অবসরে জনপ্রিয় ‘পোস্টবক্স’-এর পূজার গল্প এবার প্রাণের বাংলায়। গল্প লিখেছেন  পলাশ পুরকায়স্থ, ফারহানা নীলা ও নাজমুল হুদা।

পলাশ পুরকায়স্থ

 বিসর্জন

রাই এখানটাতে এসেই নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে পড়ে৷ ওরা বহুদিন গ্রামে থাকে না৷ তবু একটা বিশেষ কারণে, কালীগঙ্গা নদীর তীর তাকে টানে৷ ছোট বেলা বাবার সঙ্গে বেশ কিছুটা হাঁটতে হতো নদীর পাড় পেতে৷ আর এখন, ঘর ছাড়িয়ে দু’চার পা! বিশাল জায়গা জুড়ে তাদের পুরনো  দালান বাড়ীটা রাক্ষুসী কালীগঙ্গা লহমায় গিলে খেয়েছিল যুগ আগে৷ স্পষ্ট মনে আছে সেবার প্রতীমা দেখতে গিয়েছিল রাই, বাবার হাত ধরে৷ গাঁয়ের পথ ধরে যেতে যেতে সাদাটে কাশবনের দোল, এর সরসর শব্দ, সেদিন মনের ভেতর কোন প্রলয় তুলেনি? যতটা তুলেছিল ফিরতি পথে দাদার বন্ধু নিশির ঠোঁটের স্পর্শ, তার ঠোঁটে! 

কতই বা বয়স তখন, দু’দেড় যুগ আগে? তের হয়তো৷ রাই বলেছিলো দাদা ছাড়! ছাড় বলছি! তবুও নিশির ঠোঁট তার ঠোঁট স্পর্শ করেছিলো৷ বুকের ধূকপুকানি বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েকগুণ৷ সহসা কারও পদ শব্দ শুনে নিশি রাই কে ছেড়ে দেয়৷ দূ’জনেই লোকদুটো চলে যাওয়া পর্যন্ত লুকিয়ে থাকে৷ কাশফুল ,বাতাস, নদী, ছেঁড়া মেঘ, দোলা নীল আকাশ সবকিছুই সেদিন হারিয়ে যায় ভয় নামক স্বত্তার আড়ালে৷ কাশবন থেকে বের হতে হতে রাই নিশিকে তর্জনী তুলে শাসায়, নীপেন কাকুকে বলে দিব দেখিস! নিশি কিছু বলে না৷ মাথা নুঁইয়ে কাশবনের আরও ভেতরে চলে যায় সে৷

বিসর্জন দেখতে যাবার পথে বাবার কাছে খবর আসে, নদী ভাঙনের৷ উত্তর পাড়া নাকি রাক্ষুসী কালিগঙ্গা… বাবা তাই নিশিকে হাতের কাছে পেয়ে বলাছিলো, যা তো রাইকে বাড়ী রেখে আয়৷ এর পাঁচ দিনের ভেতরেই ওদের দালান বাড়ী রাক্ষুসীর পেটে চলে যায় সেটা ছিল দশমীর দিন বাবা কাকারা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন মা’কে বিসর্জন দিলাম৷ ঠাকুর দেখো…

এরপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় এই যৌথ পরিবার৷৷ বাবা পরে বহু কষ্ট করে নদীর পাড়েই একটা ঘর দাঁড় করিয়েছিলেন৷ তার কাছে তার নাড়ীর টানটুকুই বড় ছিলো৷ সময় পেলেই এখানে চলে আসতেন৷ অদশ্য পুরোনো দালান বাড়ী গ্রাস করবার পরে কালিগঙ্গা থেমে যায়৷ কেউ আসতো না৷ শুধু বাবা আসতেন৷ রাই প্রশ্ন করেছিল এই ভূতের দেশে আসার কোন কারণই তো দেখিনা! রাই এর বাবা রজতাভ মুচকি হেসে কবিতার লাইন আউড়েছিলেন, বলেছিলেন সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া!

রাই এরপর দেশের বাইরে চলে যায়৷ ফিল্ম মেকিং আর ডাইরেকশান সম্পর্কে উচচতর পড়াশোনা করতে৷ নিজের জীবনে এত বুঁদ  হয়ে গেছিল যে বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েও আসতে পারেনি৷ এসেছিল সপ্তাহ পরে! মৃত্যুর পূর্বে তার বাবা একটা চিঠি লিখে যান৷ সেটার কারণেই আজ আবার রাক্ষুসি কালীগঙ্গার পাড়ে ছুটে আসা! বাবা লিখেছিলেন, মা জননী, এই চিঠিটি যখন পড়বে বা আদৌ যদি পড়ো বুঝে নিও আমি বেঁচে নেই৷ সৎকারের পর আমার অস্থি ভষ্ম কালী গঙ্গাতেই ফেলো৷ যা হোক পারলে অনুরোধটা রাখিও৷ না রাখিলেও ঈশ্বর এর কাছে তোমার খারাপ কখনই চাইবো না! শোনার পুর্বে মন শক্ত করিয়া লও সংগ্রামের সময় আমি এই দেশে আটকা পড়িয়া যাই৷ ভারত যাইতে পারিনাই৷ বাকি সবাই চলিয়া যায়৷ তোমার মাকে আমি নৌকায় তুলিয়াও দিয়াছিলাম৷ শেষ মুহুর্তে তিনি নামিয়া যান৷ পাক হানাদার বাহিনীর এক বড় অফিসার তাকে দীর্ঘ দেড় মাস আটকাইয়া রাখে৷ তুমি সেই সময়ে … আমি বুঝতে দেই নাই৷ তোমার মা কে আমি পরে ঘরে ঠাঁই দেই নাই৷ তোনার মা তোমাকে লইয়া পানিতে ঝাঁপাইয়া পড়ে৷ ঠিক সেই সময় তুমি পূর্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাইয়া ছিলে৷ আমার হঠাৎ করিয়া কি হইল, আমি ঝাঁপাইয়া পড়িয়া…. তোমাকে বুঝতে দেই নাই৷

রাই আর পড়লো না৷ টুকরো টুকরো করে ওটা ছিঁড়ে কালিগঙ্গার জলে বিসর্জন দিল বাবার ছাই এর সঙ্গে৷ দূরে নদীতীর ছাড়িয়ে লম্বা কাশবন বাতাসে দুলছে৷ ঢাকের বাদ্য আর উলু শোনা যাচ্ছে, হঠাৎ মনে মনে রাই বললো কি আশ্চর্য ৷ আজ বিসর্জনের দিন৷ আর আজই কি না একজন নতুন রাই জন্ম নিলো! পরক্ষণেই বললো না থাক, নতুনটাকে বিসর্জন দিলাম৷

সে মুগ্ধ দৃষ্টিতে কাশবনের দিকে তাকিয়ে থাকলো।

ফারহানা নীলা

নোনা বালিশ

প্রতিদিন সকালে বালিশটার ওজন বাড়ে। সুতপা অবাক হয়ে ভাবে আর ভাবে… সারারাতের নোনাজল দাগ হয়ে থাকে রোদ্দুর ছোঁয়া দিনে।

সাত পাঁকে ঘোরার সময় একবার মূর্ছা গিয়েছিল সুতপা। আর সম্প্রদানের সময় মূর্ছা গিয়েছিল মুদীর দোকানদার বাবা হরিভজন।

বাড়ী ফেলে চলে এলো সুতপা। এরপর সুতপার জীবনের নতুন অধ্যায়। কিংশুকের পরিবার আর কিংশুক… সুতপার মত কালো মেয়েকে হজম করেছিল ঠিকই কিন্তু তার বিনিময় মূল্য অনেক বেশী। কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেয় তাদের পাওনা।

লম্বা চুলে আর গাঁথা হয়নি বিনুনি। সুতপার সুঠাম দেহের বাঁকে বাঁকে টেরাকোটার আলপনা। কেউ জানে না তার চেয়েও গভীর সুতপার মনের চোরাদাগ। ওখানে নিত্য সাজে নতুন কোনো দাগ!

কিংশুক ভবঘুরে জীবনে তুলে আনে নতুনত্ব। গান বাজনা,আড্ডা আর রাতের পর রাত বাড়ী না ফেরা…

সুতপা একেই ভবিতব্য মেনে নিয়েছে কিন্তু মনে কি নিতে পেরেছে। বাবা হরিভজন সেই কবেই ইহলোক ছেড়ে গেছে।

এবার দেবী এসেছে আগেভাগে। কি সুন্দর প্রতিমা। চারিদিকে পুজোর মৌ মৌ গন্ধ। মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ভীড়। সুতপা ছেলেবেলার পূজোর ঘ্রাণ নিতে চায়। বাবা,মা, জ্যাঠা, দিদিমা…সবার কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে ইন্দিরাপট্টির রায়বাড়ীর মাসীমার পটলের দোলমা, পাথরতলা চাকী বাড়ীর গানের আসর।

দশমীর সকালটা বেশ ঝলমলে। সকালে স্নান সেরে যত্নের ছোঁয়ায় সিঁদুর পরে সুতপা। বিয়ের লালশাড়ীটা পরে আর আলতা আঁকে গভীর বিষাদে।

মগ্ন চৈতন্যে জাগে নিভৃতে…. সুতপা, সুতপা বড়াল।

গত কয়রাত কিংশুক বাড়ী আসেনি। পূজোর সময় এমনই হয়। মন্ডপে মন্ডপে কত মেয়ে, কত ছেলে আসে! কিংশুক স্বাদ পরিবর্তন করে দফায় দফায়।

আজ মা’র বিসর্জন। আকুল কেঁদে বিদায় জানায় সবাই।

রাত গভীর। কিংশুক এলো বুঝি। সুতপা ব্যঞ্জন সাজিয়ে বসে আছে। লাল শাড়ী আর হ্যারিকেনের আলোয় অদ্ভুত দেখাচ্ছে সুতপাকে।

কিংশুক এবার পাওনাদার। সুতপার সুঠাম শরীরে তখন দাবানল ছেয়ে যায়। দুর্গাদেবী ভর করে…সুতপা অসুর বধে হাতে নেয় বটি।

কিংশুক কিছু বুঝে উঠবার আগেই সুতপার লাল শাড়ী চুঁইয়ে নামে আরো অনেক লাল।

প্রতিরাতে ভেজা বালিশটা হয়ে ওঠে শ্মশানের চিতার মত লাল।

সুতপা হা হা হাসিতে ফেটে পড়ে। বালিশের তুলোগুলো দিয়ে ঢেকে দেয় কিংশুকের মুখ। উড়ছে তুলো… সুতপার খুব ইচ্ছা হয় তুলোর স্বাদ দেখতে! কত নোনা এই তুলো? কত নোনা ধরেছে প্রতিরাতে?

নাজমুল হুদা

অন্য ঘরে বসবাস

বত্রিশ বাই দুই পার্কস্ট্রিট। আগারওয়াল হাইটসের পনেরো তলায় বসে অফিস করছে মৃন্ময়ী আগারওয়াল। আজ ষষ্ঠী পূজো। দূরাগত  ঢাকের বাজনা তার উৎকর্ণ দুকানে মৃদু আঘাত করছে। প্রতিটি আঘাতই মনের ঘরে এক একটা স্মৃতির জানালা খুলে দিচ্ছে মৃন্ময়ীর। এসি চালু আছে, তারপরও, চার ডানার ইলেক্ট্রিক পাখা তার মাথার ওপর সন্তর্পণে ঘুরছে। তখনও চলছিল শারদীয় দুর্গা পূজোর উৎসব। তার বয়স কতই বা তখন! এই চৌদ্দ-পনেরো। সবে দশম শ্রেণির ছাত্রী। প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হবার পরপরই এল দুর্গাপূজা।

সেবারই শেষবার। হ্যাঁ, সেবারই শেষবারের মতো সবার সঙ্গে মিলে পূজোর আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছিল মৃন্ময়ী বাছাড়। তাহলে এখন কী একাকী পূজোর সময়টা কাটাতে হয় মৃন্ময়ী আগারওয়ালকে! ঠিক একা নয়। অনেক লোকজন, অনেক অভ্যাগত এবং অনেক আশ্রিত এখন তার চারপাশ ঘিরে থাকে। তাহলে মৃন্ময়ী কী মিঃ ভগত আগারওয়াল, তার পতিদেবতা, যিনি তাকে এক বিশাল সম্পদের পাহাড়ের শীর্ষে বসিয়ে এ ধরাধামের মায়া কাটিয়ে স্বর্গারোহণ করেছেন, দেবীর বোধন এবং অধিবাস গ্রহণের দিন তাঁর অভাব বোধ করছে! তাঁর অভাব মৃন্ময়ী অবশ্যই বোধ করছে। বালিকা বধূ হিসেবে যখন সে তাঁর বাড়িতে আসে, তখন মিঃ আগারওয়ালের বয়স ষাট বছর। তিনি মৃন্ময়ীকে ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে কিভাবে খাপ খাইয়ে নিতে হয়, তা শিখিয়েছেন যত্ন করে। সেই ভদ্রলোকের কারণেই মৃন্ময়ী বাছাড় আজ মৃন্ময়ী আগারওয়াল। আগারওয়াল এন্টারপ্রাইজের একমাত্র স্বত্ত্বাধিকারী। না, মৃন্ময়ীর কোন সন্তান এ পৃথিবীর আলোর মুখ দেখতে পারেনি। সে নিঃসন্তান! অবশ্য মিঃ আগারওয়ালের আগের স্ত্রী, যিনি মৃত্যু বরণ করার পর মৃন্ময়ী এ বাড়িতে এসেছিল, তাঁরও কোন সন্তান জন্ম গ্রহণ করেনি।

যাক সে কথা। সদাই এক অনাগতের জন্য মৃন্ময়ীর অন্তরাত্মা অনবরত কেঁদে কেঁদে হয়রান। একটা হাহাকার হৃদয়ে জেগে তার সারা দেহ-মনে ছড়িয়ে পড়ে। শূণ্য করে দেয় তার সকল অস্তিত্ব। ঢাকের এক একটা বাজনা তাকে মনে করিয়ে দেয়, তার ফেলে আসা শৈশব আর তার কিশোরী বেলার কথা। তখন কত ঘটা করে পূজো হতো, তার ছেড়ে আসা গ্রামে। সবাই সন্ধ্যে বেলায় দল বেঁধে পূজো দেখতে যেতো। পাশাপাশি মন্ডপগুলো ঘুরে ঘুরে দেখে, সব চেয়ে ভাল আরতি যে মন্ডপে হয়, সেখানে আরতি দেখতে বসে যাওয়া, তারপর রাতে যাত্রা পালা, আরও কত কী!

সবচেয়ে মজা হত লক্ষ্মী পূজোর দিন। পূজোর দিন শুরু হয়ে মোট সাত দিন ধরে মেলা চলতো। মেলায় কত কী যে হত! নাগর দোলায় চড়া, পুতুল নাচ দেখা, কাচের চুড়ি কেনা, সুবাসিত মিষ্টি পান খাওয়া, ষাঁড়ের লড়াই আর লাঠি খেলা দেখা, ভৈরব নদে বাইচের নৌকো ছোপ, নৌকোর গলুইয়ে দাঁড়িয়ে সেরাজ কাকার নাচানাচি, আচ্ছা তিনি কী বেঁচে আছেন!

কত জনের কথা যে মনে পড়ে মৃন্ময়ীর! তার কথাও মনে পড়ে। সেই যে বাঁশের বাঁশির সুর তুলতো, সন্ধ্যে বেলায়, তার কথা। কোঁকড়া চুলের ফর্সা ছেলেটা। ইকবাল, দোকানওয়ালা। কত কী বিক্রি করতো দোকানে! তার একটা টুইনওয়ান ছিল। পূজোর সময় নতুন নতুন গান। সতীনাথ, হেমন্ত, মান্না, লতা-আশা, সন্ধ্যা, আরতী, হৈমন্তী- কত নাম, কত সুর আর কত গান! পূজোর গান, প্রেম-বিরহের গান আর ভালোবাসার গান। পূজো এলেই ইকবাল তাদের সঙ্গে সারাক্ষণ সেঁটে থাকতো। মৃন্ময়ীদের প্রতিবেশী ইকবাল, ওর চেয়ে বয়সে দুতিন বছর বড়, সেই তাদের সব যায়গায় নিয়ে যেত।

দৃশ্যের পর দৃশ্য মনের পর্দায় ভেসে উঠছে মৃন্ময়ী আগারওয়ালের, নাকি মৃন্ময়ী বাছাড়ের। আচ্ছা, সেতো মৃন্ময়ী বাছাড়ই, তাই না! ইকবালদের প্রতিবেশী। একদম পাশাপাশি লাগোয়া ঘর। তার তো এখানে থাকার কথা নয়। পশ্চিমবঙ্গে, কোলকাতায়, এই বিশাল অট্টালিয়ায়। সেতো ইকবালের ঘরে, তার বাহুডোরে বাঁধা পড়তে পারতো! তবে কেন আজ এখানে সে! ইকবাল প্রতি সন্ধ্যে বেলায় মুয়াজ্জিনের আজান শুনে মসজিদে নামাজ পড়তে যেত, আর মৃন্ময়ী সেঁজুতি জ্বেলে, ধুপ-ধুনো দিয়ে সন্ধ্যা আরতি করতো! কী ক্ষতি হতো! হয়তো সে এতো বিত্ত-বৈভবের মালিক হত না। তার একটা কুঁড়ে ঘর তো থাকতো। সেখানে হয়তো খেলা করতো সেই দেবশিশু,  যাকে নিঃশেষ করতে মৃন্ময়ীকে স্বজনহারা বেদনা বুকে নিয়ে দেশ ছেড়ে এই বিভুঁইয়ে আসতে হতো না। কী ক্ষতি হত তোমাদের! কী ক্ষতি হত সমাজের!

অলংকরণ: স্মরণীয়া