তেহেরান ট্যাবু

আলী শেহজাদে

ইরানের প্রয়াত চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়েরোস্তামির ছবি কখনোই সেখানকার প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়নি। ইরানের আরেক চলচ্চিত্র পরিচালক আলী শেহজাদের ছবিও কখনোই তার নিজের দেশের দর্শকরা দেখতে পাবে না।কিন্তু তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের কথা ভেবেই সিনেমা তৈরী করতে চান।

আলী শেহজাদে মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন ১৯৯৫ সালে। এখন বসবাস করছেন জার্মানিতে। আর সেখানে বসেই তৈরী করেছেন তার প্রথম সিনেমা ‘তেহেরান ট্যাবু’। পরিচালকের ভাষায়, ‘ ইরানের সমাজ ব্যবস্থার একটি ভুলে যাওয়া অংশকেই সেলুলয়েডে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। ইতিমধ্যে প্রসংশার মালা আর সমালোচনার কাঁটা দুই-ই তার কপালে জুটেছে। ‘তেহেরান ট্যাবু’ ঘুরে এসেছে গেলো বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসব। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে এখন লন্ডনের বিভিন্ন হলে দেখানো হচ্ছে আলী শেহজাদের সিনেমা।

ইরানের সিনেমা বেশ অনেক বছর ধরেই সিনেমার দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছে।ইরানে ধর্মের ঘেরাটোপে আবদ্ধ সমাজে বসে অনেক পরিচালকই সিনেমা নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে।হয়েছেন সংবাদের শিরোনামও।আলী শেহজাদের ছবিও ইতিমধ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কী নেই তার ‘তেহেরান ট্যাবু’ সিনেমায়? নেশা, পরকীয়া, দুর্নীতি, আত্নহত্যা, অবৈধ গর্ভপাত-একের পর এক দৃশ্য, একের পর এক জীবনের গল্প। আলী শেহজাদের ভাষায়, এইসব ঘটনা ইরানের সমাজব্যবস্থা অংশ। তবে শেষে এ কথাও যোগ করেছেন, এমন চিত্র গোটা ইরানের নয় ।

বেশ কয়েক বছর ধরে প্রবাসে বসে ব্লগ আর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত আছেন এই পরিচালক। ইউরোপে আসা ইরানের ব্যবসায়ী আর উদ্বাস্তু মানুষদের জীবনকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর সেই দেখাটাই উঠে এসেছে নিজের সিনেমায় এই ছবির পুরোটাই আলী শেহজাদে শ্যুটিং করেছেন ইউরোপে। তবে তার ছবির চরিত্রদের অভিনয় করতে হয়েছে ইরানের আবহে আঁকা কিছু ব্যাকড্রপের সামনে। পরে সম্পাদনার টেবিলে চলচ্চিত্রের বেশীরভাগ অংশেই এক ধরণের অ্যানিমেশন নির্মান কৌশল প্রয়োগ করেছেন এই মেধাবী পরিচালক। আর তাতে ছবিটিতে যুক্ত হয়েছে নতুন স্বাদ। এই ছবিতে ইরানের সমাজে হেরোইনের নেশার প্রকোপকেও তুলে ধরেছেন পরিচালক। জাতিসংঘের ‘মাদক ও অপরাধ’ বিভাগের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে এখন ইরানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর বেশীরভাগ-ই হেরোইনে অভ্যস্ত।

অনেকে আলী শেহজাদের সিনেমাকে রাজনৈতিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। পরিচালক নিজেও মনে করেন, তার ছবিতে অবশ্যেই রাজনীতি আছে। এখানে গল্প তিনি এমন ভাবে বলেছেন যা অন্য যে কোনো দেশের সমাজের গল্প হয়ে উঠতে পারে।

আলী শেহজাদে চান তার দেশের মানুষ সিনেমাটি দেখুক। অবৈধ পন্থায় হলেও তাদের এটা দেখা প্রয়োজন। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এটি একটি সময়ের দলিল হয়ে উঠবে বলে তার ধারণা।

বিনোদন ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন