চার ছবিতে মুখোমুখি তিন নায়ক

ইমরুল শাহেদ

অধরা খান

শাকিব খানের পর যে তিন জন নায়ক বাজার চলতি আছেন, তারা ১২ অক্টোবর শুক্রবার চারটি ছবিতে মুখোমুখি হচ্ছেন। ওইদিন ফেরদৌস অভিনীত মেঘকন্যা, বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত নায়ক ও আসমানী এবং সায়মন অভিনীত মাতাল মুক্তি পাচ্ছে। এ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পে একটা হতাশা বিরাজ করছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্ধারিত দুটি ছবি মেঘকন্যা ও আসমানী মুক্তি পেতে পারতো। নায়ক ও মাতাল আগেই রিলিজ ডেট নিয়েছে এবং সীমিত ভাবে মুক্তিও দেওয়া হয়েছে। তাদের পাওয়া ডেট অনুসারে তারা ছবিগুলো মুক্তি দিতে পারতো। ১২ অক্টোবর সপ্তাহের জন্য অপেক্ষায় থাকাটা হলো উদ্দেশ্যমূলক। উল্লেখ করার বিষয় হলো, মেঘকন্যা এবং আসমানী – এ দুটি ছবির প্রযোজক, পরিচালক, নায়িকা – সবাই প্রায় নতুন। এ দুটি ছবিতে পুরনো বলতে আছেন ফেরদৌস ও বাপ্পি। আসমানী ছবির নায়িকা সুস্মি রহমান যেমন নবাগত তেমনি নিঝুম রুবিনাও বলতে গেলে প্রায় নবাগত। তার আগে তার দুটি ছবি মুক্তি পেলেও মেঘকন্যা হচ্ছে তার জন্য বড় ধরনের একটা সুযোগ। নায়ক এবং মাতাল ছবির নায়িকা অধরা খানও নবাগত। নায়ক দুজনই পুরনো। কিন্তু ছবি দুটির পরিচালকরা হলেন বাণিজ্যিক ছবির সফল নির্মাতা। চলচ্চিত্র শিল্পের হতাশার কারণ হলো চারটি ছবিই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মেঘকন্যা ছবির নায়ক ফেরদৌস জানান, গত সপ্তাহে তার পবিত্র ভালোবাসা মুক্তি পেয়েছে। এ সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে মেঘকন্যা। তার আগে ঢাকার পর্দায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় দু’মাস। ফেরদৌস বলেন, ‘এই অসম প্রতিযোগিতা চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি এই অসম প্রতিযোগিতার নিন্দা জানাই।’ নায়ক বাপ্পি চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিষয়টা মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছি না। তবুও দুটি ছবিই আমার এবং দুটি ছবির জন্যই রইলো আমার শুভ কামনা।’ সায়মনের ফোন বন্ধ থাকার কারণে তার কোনো মতামত এখানে দেওয়া গেল না।

সুস্মি রহমান

মাতাল ছবিটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক শাহীন সুমন। তিনি বর্তমানে শাকিব খান ও বুবলিকে নিয়ে একটু ভালোবাসা দরকার নামে একটি ছবি নির্মাণ করছেন। এ ছবিতে তিনি অধরা খানকে নেননি। শাহিন সুমন বলেন, তিনি শুনেছেন ছবিটি ১২ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে। এর অর্থ হলো এই তারিখটিকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। আসমানী ছবির পরিচালক এম সাখাওয়াৎ বলেছেন, গ্রামীণ পটভূমিকায় ছবিটি যতোটা সম্ভব সুন্দরভাবে বানানোর চেষ্টা করেছি। নায়ক ছবির পরিচালক ইস্পাহানি বলেছেন, ‘আমি একটি উৎসবকে সামনে নিয়ে ছবিটি মুক্তি দিচ্ছি। এর বেশি আর কিছু বলার নেই আমার।’ মেঘকন্যা পক্ষ থেকে নিঝুম রুবিনা বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংস করে দেওয়াটাই যেন আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। প্রযোজক যদি তার বিনিয়োগ ফিরে না পান তাহলে তিনি কি আর বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবেন?’
সর্বশেষ, নায়ক ছবির পরিচালক আরিফ ইস্পাহানি জানিয়েছেন, তারা ছবির মুক্তি স্থগিত বিষয়ক একটি উকিল নোটিশ পেয়েছেন। কিন্তু মেঘকন্যা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সেটা হলো আদালতের স্থগিতাদেশ।

ছবি: গুগল