কিভাবে ভাল কভার লেটার লিখবেন

অনেক এক্সপার্টের মতে, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে রিজ্যুমির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কভার লেটার। এর মাধ্যমে আপনার সফলতাসহ ব্যক্তিত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করা যায়। আর কর্মীর সেই বিষয়টিই জানতে চায় প্রতিষ্ঠান। কর্মপ্রেরণা বুঝতে পারলেই আপনার সম্পর্কে ধারণা করতে পারবেন চাকরিদাতারা। তিন থেকে পাঁচটি অনুচ্ছেদ লাগবে একটি গ্রহনযোগ্য কভার লেটার তৈরী করতে। আপনার কভার লেটারটি অর্থবহ রাখুন। আপনি স্পষ্টতই এবং কার্যকরভাবে আপনার যোগ্যতা বোঝাতে যতোটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত করে আপনার কভার লেটার এর মাধ্যমে উপস্থাপন করুন।

ভূমিকা
অভিবাদন প্রথমত আপনার সম্বোধনটি হতে পারে “Dear Sir or Madam” । যদিও “Dear Sir or Madam”  সম্বোধনটি অনেক পুরাতন তবুও এখনো আমাদের দেশে এর ভাল ব্যবহার আছে। বরাবর আবেদন করতে হবে সে বিষয়ে যদি আপনি স্পষ্ট তথ্য না পান তাহলে একটি শিরোনাম ব্যাবহার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ: “Dear Human Resource Manager or Dear Marketing Manager”  নিশ্চিত করুন আপনার কভার লেটারে এবং আপনার খামে লিখা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা যেন একই হয়।

আপনার পরিচয় দিন
আপনার কভার চিঠির প্রথম অনুচ্ছেদে লিখুন আপনি কোন পদে আবেদন করছেন এবং এই চাকরি সম্পর্কে আপনি কোথায় জেনেছেন তা বলুন। এরপর, এই অনুচ্ছেদের বাকি সব  নিজের সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে বর্তমান মৌলিক তথ্য গুলো দিন। যেমন, ডিগ্রী, দক্ষতার, অভিজ্ঞতা,  ক্যারিয়ার গোল, এবং কিভাবে ঐ  কোম্পানির লক্ষ্যের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করতে পারবেন তা উল্লেখ করুন। Modern-CV

নিজেকে বিক্রি করুন
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে এমন একটি বাক্য দিয়ে শুরু করবেন যা প্রথমেই নিয়োগকরতার মনোযোগ আকর্ষণ করে নেয় ও সরাসরি সাড়া দেওয়া উচিত আপনার পূর্ববর্তী কাজ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা,  পেশাগত অর্জনসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা এবং ক্ষমতা যা আপনি এই কোম্পানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এখানে কিছু আক্ষরিক শব্দ ও শব্দসমষ্টি ব্যবহার করা উচিত তাতে আপনার ইংরেজির দক্ষতা প্রকাশ করবে। বলুন কিভাবে আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে পারবেন । আপনার দক্ষতার জন্য কেন আপনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। আপনি প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্কে জানেন তা বোঝানোর জন্য আপনি বলতে পারে কিভাবে আপনি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে পৌছতে ভূমিকা পালন করতে পারেন । আপনার ব্যবহারিক জ্ঞান বিষয়ে বলুন (তবে তা চাকরির সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে হবে) । আপনি কোন কাজে সবচে বেশি আত্মবিশ্বাসী বলুন (বুলেট আকারে)।

উপসংহার
চূড়ান্ত অনুচ্ছেদ এই অংশ কে বলা হয় ” কল টু অ্যাকশান ” অর্থাৎ আপনি তাদের সাক্ষাত্কার পেতে উৎসাহী , অবশ্যই বেতনের একটি পরিসর ব্যক্ত করবেন তবে সাবধান, পরিসরটি বড় হতে হবে অথবা লিখতে হবে “negotiable”  এবং আপনার চিঠি পড়ত সময় কাটানোর জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। এখানে আরও উল্লেখ করা উচিত আপনি কি কি “ডকুমেন্ট” এই চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।

অন্যান্য
# ১”- ১. ৫” মার্জিন সবসময় নিরাপদ
# ফন্ট সাইজ কোন মতে যেন ১২ নিচে না যায়
# ফন্ট অবশ্যয় সহজ এবং পরিষ্কার হবে
# সর্বত্র একটি অভিন্ন প্রান্তিককরণ বজায় রাখা (Justify-Align)
# মনে করে অবশ্যই সাক্ষর করবেন এবং তা অবশ্যই কালো বা নীল কালিতে
# আপনার নামের নীচে আপনার ফোন নম্বর ও ইমেইল অ্যাড্রেস উল্লেখ করুন
# যদি ডাকযোগে আপনার সিভি পাঠান তবে কভার লেটার আলাদা একটি এফোর সাইজ পেপার এ প্রিন্ট করুন আর যদি ইমেইল এ সিভি পাঠান তবে ইমেইল এর মূল অংশে কভার লেটার টি লিখুন।

কভার লেটার তৈরির ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলটি করে সেটি হলো একই কভার লেটার বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যা মোটেই ঠিক নয় এবং সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ কভার লেটার এমন একটি জিনিস যেখানে আপনি প্রমান করবেন আপনি এই চাকরির জন্য কেন একজন আদর্শ আবেদনকারী। সেই পদের জন্য কি কি গুন আপনার আছে তা উঠে আসবে আপনার কভার লেটার এ। কভার লেটার এ লিখুন আপনার যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা ও আপনার চারিত্রিক দৃঢ়তা। এমন ভাবে জিনিসগুলো ফুটিয়ে তুলুন যেন মনে হয় আপনি যোগ্যতম প্রার্থী। তাই বলে মিথ্যা বা এমন কিছু লিখেন না যা আপনার নেই বা আপনি করেন নি। প্রকারভেদে কভার লেটার ধরন ভিন্ন হতে পারে ।