আমি একা হওয়ার সুযোগ খুঁজে বেড়াই – জয়া আহসান

আজ বাংলাদেশ তো পরশু কলকাতা। এভাবেই ছুটে চলেছেন জয়া আহসান। শুটিং থাকলে তো কথাই নেই, শুটিং না থাকলেও একই। সেদিনই বসতে হয় হোম ওয়ার্ক নিয়ে। অবসর মেলা ভার। এতকিছুর ভিড়েও এক সকালে শুটিংয়ে যাওয়ার আগে বসলেন আমাদের সঙ্গে। শুরু হল প্রাণের বাংলাকে  দেওয়া জয়ার এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবিদা নাসরীন কলি।

joya 2প্রথমেই জানতে চাইলাম, সবকিছু ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যেতে কি কখনও ইচ্ছে হয়? হেসে বললেন, তাতো কখনো ভেবে দেখিনি। তবে কখনো মনে হতেও পারে।
কখনো একা হওয়ার সুযোগ মেলে? আমি তো একা হওয়ার সুযোগ খুঁজে বেড়াই। নিজের সঙ্গে নিজে একাকী কাটাতে আমি খুব ভালোবাসি। এনজয় করি।ভালো-মন্দ সবকিছু মিলিয়ে আমরা এত প্রেশারে থাকি যে এই নিঃসঙ্গতা আমাদের খুব প্রয়োজন। আমি মাঝে মাঝেই একা হতে চাই। এ আমার একান্তই নিজস্ব রাজ্য। এখানে নিজের সঙ্গে কথা বলা,গল্প করা, স্বপ্ন দেখা সে এক ভিন্ন পৃথিবী। আমার এ পৃথিবীটা শুধুই আমার একার।

অনেকেই হয়তো জানেন না জয়া একসময় খুব ভালো গান গাইতেন এবং ছবিও আঁকতেন। এমনকি অনেককে গান এবং আর্ট শেখাতেনও। সবকিছু কি খুব মিস করেন জানতে চাইলে জয়া বলেন, আসলে আমি মানুষটাই গান। অথচ কতদিন গান আর ছবি আঁকা থেকে কতদূরে। খুব খুব মিস করি।সময় হয়ে ওঠেনা। তবে কোথাও কোন ভালো গানের অনুষ্ঠান বা চিত্র প্রদর্শনী হলে আমি শুনতে যাই, দেখতে যাই।
নিজের ছবি প্রদর্শনীর কথা কখনও ভাবেন কি? তেমন করে ভাবিনি কখনো। তবে আমার জীবনে সময়ই সব ঠিক করে দেয়। যেমন ছেলেবেলা থেকে অন্যদের মতো নির্দিষ্ট কিছু হবো বলে নিজেকে তৈরি করিনি। তবে সামনে যা এসে দাঁড়িয়েছে তা-ই মনোযোগ দিয়ে লালন পালন করে এগিয়ে গেছি। নিজের কাজের ক্ষেত্রেও তাই।তবে এ ব্যাপারে আমি কখনও কিছু ছাড় দেই না। শতভাগ দিয়েই চ্যালেন্জটা নেই। কাজটাকে সব সমযই চ্যালেন্জ হিসেবেই গ্রহন করি।

বই পড়ার অভ্যেস জয়ার বরাবর। তবে এখন পড়ার সময় পান কিনা জানতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, এমনিতে আমার কাজের জন্য টুকটাক পড়াশোনা তো করতেই হয়।তাছাড়া চারিদিক থেকে সবকিছু যখন অক্টোপাশের মতো চেপে বসে তখন বই পড়াই আমার একমাত্র ভেন্টিলেশন। সে এক অন্য জগত।

নিজের জীবনের করা কোন ভুল নিযে কখনও আফসোস হয় কি? জানতে চাইলে জয়ার ঝটপট উত্তর,আমার জীবনের ভুল-ভ্রান্তি, রোগ-জ্বরা, দুঃখ-কস্ট,হাসি কান্না, অভাব, পাওয়া, না পাওয়া সব নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। আমার কোন আফসোস নেই। সব মিলিয়েই এই আমি বেশ আছি। ভালো আছি।12-jo

এই মুহুর্তে জয়া কাজ করছেন নুরুল আলম আতিকের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্ত্বিক ছবি ‘ লাল মোরগের ঝুটি’ আর হাসান আজিজুল হকের লেখা ১৯৪৭ এর কাহিনী নিয়ে ‘খাঁচা’ ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আকরাম খান। কলকাতায় শেষ করেছেন অরিন্দম শীল পরিচালিত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের শবর সিরিজের ‘ঈগলের চোখ’ ছবিটি। এ মাসের শেষেই আবার পাড়ি জমাচ্ছেন কলকাতায়। এবার মনজমিসিগানের ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন। ছবির নাম ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’। এ ছবিতে জয়ার বিপরীতে কাজ করবেন আবীর চাটার্জি।

তবে নতুন খবর হলো এই প্রথমবারের মতো জয়া কলকাতার একটা শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। ছবিটির নাম ‘ভালোবাসার শহর’ পরিচালক ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। জয়ার সঙ্গে এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছে ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহিনী সরকার, অরুন মুখোপাধ্যায়। ছবিটি মে মাসের শেষে মুক্তি পাবে। ছবিটি নিয়ে জয়া খুব আশাবাদী বলেন, কাজটা খুব ভালো হয়েছে।আর পরিচালক এবং অভিনেতা দুজনের ঝুড়িতেই পুরস্কারের  তো তকমা আছে, তাই ছবিটা ভালো হবে এ বিশ্বাস আমার আছে।

‘রাজকাহিনী’ ছবিতে জয়ার অভিনয় নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে অনেকেই বলেছেন,জয়ার চরিত্রটা এখানে তেমন গুরুত্ব পায়নি। জয়া বলেন,ছবিটাতে অনেক ভালো ভালো অভিনেত্রীই কাজ করেছেন সে তুলনায় আমার চরিত্রটা আমি মনে করি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।

আপনি তো দুই বাংলার ছবিতেই কাজ করছেন। আমাদের তুলনায় কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি তো অনেক এগিয়ে গেছে কিন্তু আমাদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না কেন এব্যপারে আপনার ধারনা কি?
আসলে ওদের ইন্ডস্ট্রিটা দাঁড়িয়ে গেছে। ওদের ভাবনা-চিন্তা অনেক প্র্যাকটিক্যাল। আমরা ভবি অনেক বড় করে কিন্তু সেই অর্থে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়ায়নি। শুধুমাত্র একজন পরিচালক বা শিল্পীর পক্ষে তো টেনে নেয়া সম্ভব নয়।

ছোটপর্দায কাজ করছেন না জয়া অনেকদিন। তবে কি সিনেমার জন্য নাটকে সময় দিতে পারছেন না। জয়ার বক্তব্য ভিন্ন। বলেন, সিনেমা নাটকের জন্য কোন বাঁধা নয় আসলে এখন আমাদের নাটকগুলো আর আগের মতো হচ্ছেনা তাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।

হঠাৎ কোন এক সকালে ওঠে যদি মনে হয় আর অভিনয় করবেন না সেদিন আপনার ফ্যান ফলোয়ারদের কি বলবেন?
এখনো আমি ভাবতে পারিনা পয়সা দিয়ে টিকেট কেটে কেউ আমার ছবি দেখছে বা টিভির সামনে কেউ বসে আছে আমার অভিনয় দেখার জন্য! সত্যি এটা আমার অনেক বড় পাওয়া। আর আমিও কখনো আমার কাজের সঙ্গে ব্যাক্তি আমিকে মেলাই না। আমিও দর্শক হয়ে আমার কাজটাকেই দেখি। কাজটা আমার একটা আইডেনটিটি। যতদিন দর্শকর চাইবে ততোদিন কাজ করে যেতে চাই।কি আর বলবো আমার ফ্যানদের জন্যই তো আজ আমি অভিনেত্রী জয়া।

1376406_191579617695143_871414245_n