রেখা ৬২

কী বলা যায় তার সম্পর্কে? বলিউডের এভারগ্রিন বিউটি তিনি? সেক্স সিম্বল? শুধু বিউটি বলেই তো তার সম্পর্কে মন্তব্যের খাতা বন্ধ করে দেয়া যায় না। শুধু কামনার আগুনের উজ্জ্বল শিখায় তাকে বিচার করা যায় না। তিনি তো অভিনেত্রীও। সৌন্দর্যের পাশাপাশি অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতা তাকে প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলিউডের সিনেমা পৃথিবীর পাদপ্রদীপের আলোয়। অভিনেত্রী রেখার কথা বলছি। বলিউডের ফিল্ম আইকন রেখা। গতকাল ৬২ বছরে পা রাখলেই এই অ্যাপিলিং অভিনেত্রী। rekha-1
রেখায় আচ্ছন্ন প্রজন্ম। সিনেমার পর্দায় নাঢিকার আগমন ঘটে, আবার ঘটে বিসর্জন। বদলে গেছে বলিউড ছবির ফর্ম, ঢং। কিন্তু রেখার সময় যেন ফুরায় না। আজও তিনি প্রক্ষেপিত আলোর মূল রেখা থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়েও সমান উজ্জ্বল।
ভানু গনেশন থেকে বলিউডে রেখা হয়ে ওঠার পথটা খুব সহজ ছিল না তাঁর জন্য। এর পেছনে আছে, অনেক লড়াইয়ের গল্প। আছে ক্ষরণ আর বেদনার গল্প। রেখার ব্যক্তি জীবনের সেইসব গল্প এখন তো প্রায় কিংবদন্তীসম। লড়াইয়ের শুরুতে দ্বিতীয় সারির সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। দর্শক সেসব সিনেমার নামও ভুলে গেছে। কিন্তু একরোখা জেদ আর অধ্যাবসায় নিয়ে রেখা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। বাধ্য করেছেন সবাইকে ঘুরে তাকাতে। বি-গ্রেড ছবি থেকে শিল্পসম্মত ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে প্রমাণ করেছেন নিজেরে যোগ্যতা। আর এ কারণেই তিনি অনন্যা।
শুধু নায়িকার ওপর নির্ভর করেই যে একটি ছবি সাফল্যের মুখ দেখতে পারে সে কথাটা তো প্রমাণ করেছেন রেখা। ‘উমরাওজান থেকে শুরু করে উৎসব, উৎসব থেকে মুকাদ্দার কী সিকান্দার, খুনভরি মাং, ইজাজত, সিলসিলা-কত ধরণের ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বক্স অফিস কিন্তু তাকেই দেখেছে।সিনেমা হয়েছে সুপার হিট।
গসিপ, সম্পর্কের ভাঙা-গড়া সব মিলিয়ে ছবির মতোই তাঁর জীবন বর্ণময়৷ বলা বাহুল্য তিনি নিজেই এক প্রতিষ্ঠান৷ পুরস্কার বা সিনেমার সংখ্যায় তাই রেখার পরিমাপ হয় না৷ সংগ্রামের যে সৌন্দর্য, লালিত্যা-কমনীয়তার সঙ্গে ব্যক্তিত্বের কাঠিন্য মিশলে যে অনমনীয় আভিজাত্য ফুটে ওঠে তার নামই রেখা৷
৪০ বছরের অভিনয় জীবনে রেখা ১৮০টির উপরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। রেখা তিনবার ১৯৮১ সালে উমরাহ জানচলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ করেন।এছাড়া অসংখ্যবার বিভিন্ন চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদন
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া