রসুইঘর যখন ছোট

আধুনিক নাগরিক জীবনে মনের মত খোলামেলা একটি রান্নাঘর পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। প্রতিটি ইঞ্চি যখন মূল্য দিয়ে কিনতে হয় তখন রান্নাঘরটির সঙ্গে আপোস করা হয় সবচেয়ে বেশি । আবার অন্যদিকে কিছু পরিকল্পনা, পরিবর্তন ছোট রান্নাঘরকেও উপযোগী করে তুলতে পারে। তাই আমরা আজ হাজির রান্নাঘরের ছোট পরিসরের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন কীভাবে  সেই পরামর্শ নিয়ে।

দেয়ালের ব্যবহারঃ

দেয়ালের ব্যবহারঃ

রান্নাঘরের কেবিনেটগুলো ভর্তি করার পরেও যখন আরও জিনিস বাকী পরে থাকে তখন কিছু জিনিস হুক দিয়ে ঝুলিয়ে দিন দেয়ালের উপর।কাজেই হুক, খোলা তাক লাগিয়ে কিছু জিনিসের বন্দোবস্ত করতে পারেন। ছুরি, কাঁচিগুলো দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন। এজন্য আকর্ষনীয় ও চুম্বক লাগানো র‍্যাক খুঁজে দেখতে পারেন।

কৌটা, বয়াম রাখার জন্যঃ

কৌটা, বয়াম রাখার জন্যঃ

গাদাগাদি করে রাখার চাইতে র‍্যাক ব্যবহার করা উচিত আর র‍্যাকটা হওয়া উচিত দেয়ালের সাথে লাগান অথবা উপরের ছাদ থেকে ঝুলিয়ে দেয়া। তাহলে পা রাখার আর নড়ে চড়ে কাজ করার জায়গা পাবেন বেশি।

 রসুই ঘরেই খাবার ব্যবস্থাঃ

রসুই ঘরেই খাবার ব্যবস্থাঃ

আপনি যদি ভাগ্যগুণে রান্নাঘরটা একটু বড় পেয়ে যান, তো রান্নাঘরেই একটা কোণে ছোট খাবার টেবিল পেতে দিন।ডাইনিং রুমটাকে ব্যবহার করুন অন্য কাজে। ছোট বাসার বাসিন্দাদের জন্য এটিই উৎকৃষ্ট সমাধান।

ভাঁজ করে রাখা যায় এমন টেবিলঃ

ভাঁজ করে রাখা যায় এমন টেবিলঃ

চলমান টেবিল, ভাঁজ করে রাখা যায় এমন টেবিল অনেক স্থায়ীভাবে জায়গা দখল হয়ে যাওয়া থেকে গৃহকে রক্ষা করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী একে টেনে নিয়ে আসতে পারেন আবার কাজ ফুরিয়ে গেলে তুলে রাখতে পারবেন।

জিনিসপত্রের ধরনের দিকে নজর দিনঃ

 জিনিসপত্রের ধরনের দিকে নজর দিনঃ

বাসনপত্র ধোয়ার জন্য সিঙ্কটি যদি বেশি ছোট আকৃতির হয়ে যায়, তখন এর আকৃতি না বাড়িয়ে বরং এর গভীরতা বাড়িয়ে দিন। পানির প্রবাহের জন্য এমন কল ব্যবহার করুন যেটি উঁচু থেকে পানির ধারা নিশ্চিত করে, এতে আপনি সিঙ্কের ভিতর বড় পাত্রও বসাতে পারবেন। কলটি সিঙ্কের সাথে সংযুক্ত না রেখে দেয়ালের একটু উপর থেকে সংযোগ দিলে সিঙ্কের ভিতর বড়, লম্বা জিনিসও আঁটাতে পারবেন।

ঘরের কোনাগুলোর দিকে নজর দিনঃ

ঘরের কোনাগুলোর দিকে নজর দিনঃ

রান্নাঘরের কম জায়গা নিয়ে আমরা ভাবতে ভাবতে এর কোনাগুলোর দিকে তাকাতে ভুলে যাই। কোনাগুলোর জন্য আকৃতি অনুযায়ী তাক বা দেরাজ বা আলমারি লাগিয়ে নিন, দেখবেন রান্নাঘরটি কেমন প্রশস্ত লাগছে। নিজেই অবাক হয়ে যাবেন এই দেখে যে, এই কোনার দিকের তাকগুলোও আপনার কত জিনিসের সঙ্কুলান করেছে।  এইভাবে কোনার দিকেও ফেলতে পারেন রান্নার চুলা, এতেও অনেকটা জায়গা খোলা পেয়ে যাবেন আপনি। বিশ্বাস হচ্ছে না? পরীক্ষামূলকভাবে কোনা গুলোর যে কোন একটাতে সিঙ্কটা সরিয়েই দেখুন না, আমার সাথে আপনিও একমত হতে পারবেন। শুধু জায়গাটা বেছে নেওয়ার আগে দেখে নিবেন, ব্যবহারের দিক দিয়ে তা বাস্তব সম্মত হচ্ছে কিনা। আর বাকীটা সম্পূর্ণই আপনার সৃজনশীলতা।

ব্যবহার্য জিনিসগুলোর আকৃতি কমিয়ে ফেলুনঃ

ব্যবহার্য জিনিসগুলোর আকৃতি কমিয়ে ফেলুনঃ

ছোট আকৃতির সামগ্রীতেই যদি কাজ চলে যায় তাহলে অযথা কেন আকৃতি বাড়িয়ে জায়গা দখল করবেন? তেমনি আপনার ঘরের সদস্য সংখ্যাও যদি কম থাকে তাহলে ছোট আকৃতির ফ্রিজ, ওভেন, আলমিরা, র‍্যাকই কিন্তু যথেষ্ট।এক্ষেত্রে বড় জিনিস কেনার লোভটা সংবরণ একটু করতেই হবে।

রান্নাঘর যদি একটু ছোট হয় তাহলে আপনাকে একটু ভেবে চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি আপনার চিন্তা ঠিকঠাক থাকে দেখবেন ছোট রান্নাঘরটিও সাজসজ্জার জন্য আর নতুনভাবে জিনিসপত্র স্থাপন করার জন্য কেমন খোলামেলা আর গোছানো মনে হচ্ছে। আসলে সবটাই কিন্তু আপনার সৃজনশীলতা আর বুদ্ধিমত্বার ফল। অফিসে, বাড়িতে দুই জায়গাইতেই এমনিভাবে আপনার পরিচয়–আপনি হয়ে ওঠেন অনন্য।

-ইভা আফরোজ খান