শো-অফ করা আমার একেবারেই পছন্দ না

ফেuntitled-1ইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ।

এইতো সেদিন সকালের ঘটনা। ক্লায়েন্ট মিটিং-এর জন্যে রেডী হচ্ছি।
আমি আমার সুইজারল্যান্ড থেকে আনা ROLEX ঘড়িটা পড়তে পড়তে স্যান্ডউইচ গিলছি।
তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আমার Raymond এর স্যুটটাতে এক ফোঁটা সস টপ করে পড়লো।
শো-অফ করা আমার একেবারেই পছন্দ না, তাই ভাবলাম স্যুটটা খুলেই বের হবো।
কিন্তু ভালো করে খেয়াল করে দেখি, অল্পের জন্যে স্যুটে লাগেনি, লেগেছে আমার ALFRED DUNHILL বেল্টে। ভাগ্যিস!
যাইহোক, কোনোমতে টিস্যু দিয়ে বেল্টটা মুছে Gucci জুতো জোড়া পায়ে গলিয়ে নিচে নামলাম।
ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলো, ‘স্যার, আজকে কোন গাড়ীটা নিয়ে বের হবেন?
একবার ভাবলাম সদ্য কেনা মার্সিডিজটা বের করি।
কিন্তু শো-অফ করা আমার একেবারেই পছন্দ না। তাই ছয় মাসের পুরোনো BMW টাই বের করতে বললাম।
গাড়ীতে বসে iPad-এ কাজ করা আমার প্রতিদিনের রুটিন।
মিটিং Radisson এ।
কাছাকাছি আসার পর iPad টা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললাম, কারণ শো-অফ করা আমার একেবারেই পছdownload-1ন্দ না।
লবিতে ঢুকতেই খেয়াল করলাম ক্লায়েন্ট উল্টো দিকে ফিরে কফিতে চুমুক দিচ্ছে।
জিন্সের প্যান্টের ওপর দিয়ে তার আন্ডারওয়্যারের খানিকটা দৃশ্যমান – Calvin Klein! বুঝলাম, ব্যাটা শো-অফ করছে।
ইউরোপে যেবার প্রথম গেলাম, সেবারই উনার সাথে পরিচয়। সেই থেকে উনার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক। উনার সবকিছুই ভালো, কিন্তু একটু শো-অফ করার টেন্ডেন্সি।
আমি ‘Hi’ বলে ক্লায়েন্টের দিয়ে এগিয়ে গেলাম। বুঝলাম উনিও আমার মতোই Hugo Boss পারফিউম লাগিয়েছেন।
ব্যবসায়িক আলাপ ভালোই এগুলো।
উনি বেশ মাথা ঝাঁকিয়ে পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা বলেন।
শো-অফ করা পছন্দ করি না দেখে iPhoneটা পকেটেই রেখেছিলাম, না হলে উনার পায়ে লেগে টেবিল থেকে পড়ে গিয়ে স্ক্রীনটা ঠিকই যেতো!
লাঞ্চের আগ পর্যন্ত উনি এক নাগাড়ে কথা বলেই গেলেন তো বলেই গেলেন।
কথাচ্ছলে জানালেন তার লেটেস্ট মডেলের গাড়ীর কথা, ক্যালিফর্নিয়াতে বীচের ধারে কেনা বাড়ীর কথা, তার সদ্য কেনা বেলজিয়াম আয়নার কথা।
শো-অফ করা আমার একেবারেই পছন্দ না, তাই এক পর্যায়ে আমি আর শান্ত থাকতে পারলাম না।
বলে উঠলাম, ‘আমাকে আবার উঠতে হবে। আসুন, আমাদের renewal agreement টা সাইন করে ফেলি।’
উনি বললেন, ‘আমি আসলে ঠিক করেছি, এশিয়া region-এ আর বিজনেস কন্টিনিউ করবো না। ডিসিশন ইজ ফাইনাল। তাই renewal agreement টা আর হচ্ছে না।’
আমি রাগতঃ স্বরে বললাম, ‘এটা এতক্ষনে কেনো বলছেন! প্রথমে বলে নিলেই পারতেন!’
উনি হেসে বললেন, ‘আমার গাড়ী-বাড়ীর কথা তাহলে কাকে শোনাতাম?’
মনের দুঃখে বাসায় ফিরে কয়েক পেগ মদ গিলেছি।
মদের ব্র্যান্ড?
থাক, বাদ দেন। আর জেনে কি হবে?
এই শো-অফ জিনিষটা আমার একেবারেই পছন্দ না।