#Me too আন্দোলনে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রিয়তি

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ খুলেছেন মিস আয়ারল্যান্ড খ্যাত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। ঘটনাটা ঘটেছিলো ২০১৫ সালে। তখন তিনি সবে মিস আয়ারল্যান্ড খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।সেই সময়ে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক গ্রুপের কর্ণধার রফিকুল ইসলাম তার অফিসে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেছেন প্রিয়তি। তিনি নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ হয়ে এসব অভিযোগ করেন। এর আগে নিজের অ্যাকাউন্টে তিনি এই অভিযোগ করে একটি খোলা পোস্ট দেন।

বাংলাদেশের প্রিয়ডটকম নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ আরো কয়েকটি পোর্টালে খবরটি ছাপা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে আলোচনার ঝড়।

বিষয়টি সম্পর্কে ৩০ অক্টোবর প্রিয়তি তার ফেইসবুকে দেয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘এই লোকটি তার অফিসে হঠাৎ করে টেবিল থেকে উঠে এসে আমার জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে আমার বক্ষে চাপ দেয়।’ প্রিয়তি ফেসবুকে তার লাইভে তিন বছর আগে তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের মোটামুটি বিশদ বিবরণও দেন।

প্রিয়তি তার ওই পোস্টে আরও লিখেন, ‘বাংলাদেশে #মি_টু এর মুভমেন্ট কীভাবে হবে? এই লোককে নিয়ে কেউ কোনো নিউজ করবে না, কারণ গণমাধ্যম তাদের ভয় পায়, সাংবাদিকদের চাকরি চলে যাবে। কারণ বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা তাদের হাতের মুঠোয়। কীভাবে খুলবে মেয়েরা মুখ? যেখানে জানবে তাদের কিছুই হবে না। প্রিয়তি বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা ততদিন মুখ খুলবে না, #মি_টু ও হবে না, ভারতের মতো যতদিন ওরা অনুভব করবে তাদের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন এবং তাদের পাশে থাকবে সে যত উপরের মানুষই হোক না কেন। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, পুরো ঘটনাটি লজ্জায় লিখতে পারিনি কারণ ঘটনা এর চেয়ে ভয়াবহ ছিল।

বিশ্বজুড়ে এই #মি টু আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে হলিউডের একাধিক খ্যাতিমান অভিনেত্রী ও তা্রকা মডেল সেখানকার চলচ্চিত্র প্রযোজক, অভিনেতা ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপন করেন। এরপর #মিটু আন্দোলনের হাওয়া লাগে অন্যান্য দেশেও। সেই হাওয়াতে উত্তাল ভারতের বলিউড ইন্ডাস্ট্রিও।

প্রিয়ডটকম নিউজ পোর্টালের খবর অনুযায়ী, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেই অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনার দিন উপস্থিত ছিলেন মডেল খালেদ হোসাইন সুজন, তার সঙ্গেও এ বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে নিউজ পোর্টালটিতে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রানের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র: প্রিয়তির ফেইসবুক ও প্রিয় ডটকম

ছবি: প্রিয়তির ফেইসবুক