সেই শিল্পী

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 5 Feb 2026

970 বার পড়া হয়েছে

Shoes
প্রতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

শিল্পীর নাম প্রতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় । বাংলাদেশের তৎকালীন 'মেহেরপুর' সাব-ডিভিসনে 'হৃদয়পুর' নামে এক গ্রামে ১৯০২ সালের ১১ নভেম্বর তাঁর জন্ম। বইপত্র এবং শিশু সাহিত্য নিয়ে যারা নাড়াচাড়া করেন তাদের নিশ্চই মনে আছে দেবসাহিত্য কুটির নামে পশ্চিম বাংলার একটি বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার নাম? সেই প্রকাশনীর অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকিয়ে ছিলেন এই প্রতুলচন্দ্র।

তিন বোন ও তিন ভাই এর মধ্যে চতুর্থ সন্তান। বাবা নাগেন্দ্রনাথ রেলের কর্মী ছিলেন। যুবক বয়সটা বাংলাদেশের তখনকার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় কাটে প্রতুলের। প্রতুলচন্দ্র ছোটদের জন্য প্রকাশিত অজস্র বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন। ছোটদের জন্য লেখালিখি করেছেন, এঁকেছেন কমিকস।

প্রতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় পরে পশ্চিম বাংলার নবদ্বীপে পাকাপাকি ভাবে বাসবাস করতে শুরু করেন।

ছোটবেলা থেকে আঁকার প্রতি তার খুব ঝোঁক ছিল। রংপুরের সৈয়দপূর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার (১৯১৫) জীবনে শিল্প ভিত্তি প্রথম পত্তন হয়।বিদেশী ম্যাগাজিনে বড় বড় শিল্পীদের তেল রং, জল রং বা পেস্টেল এর কাজ বার হত যা তিনি গভির আগ্রহ নিয়ে লক্ষ করতেন, এবং দিনের পর দিন নকল করতেন। এই সময় তিনি তার মাস্টার মশাই পরেশচন্দ্র মজুমদার এর সংস্পর্শে আসেন। এই মানুষটি ছিলেন তাঁর প্রথম শিক্ষা গুরু। 'পরেশচন্দ্র' তখনকার কালের আর্ট স্কুলের একজন নামকরা ছাত্র এবং জল রং ছবির জন্য পদক পান।তাঁর এর পর 'দিনাজপুর' জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করবার পর কলকাতায় আসেন এবং পরেশচন্দ্রর সঙ্গে আর্ট স্কুলের সহকারী অধ্যক্ষ‘র সারকুলার রোড এর বাসভাবনে দেখা করতে যান। সেই ভদ্রলোক পরেশচন্দ্রের আঁকা ছাবি দেখে মুগ্ধ হন, এবং আর্ট কলেজে ভর্তি হতে বলেন। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রতুলচন্দ্রকে প্রথমেই দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি করে নেয়া হয়। আর্ট কলেজের ৬ বছরের পাঠক্রম তিনি ৩ বছরে শেষ করেন ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি প্রখ্যাত শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংস্পর্শে আসেন।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর একটাই চেষ্টা ছিলো শিল্পকে নিখুঁত করে তোলা। কর্ম জীবনে প্রচ্ছদ আঁকিয়ে হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন তিনি। দেব সাহিত্য কুটির এবং শিশু সাহিত্য সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটদের জন্য তাঁর লেখা গল্প শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। কিছু লেখা বই আকারেও প্রকাশিতও হয়। তিনি প্রচার বিমুখ ছিলেন,তাই যতটা সমাদর পাওয়া উছিত ছিল তিনি তা পাননি। জ্যোতিষ শাস্ত্র নিয়েও তিনি এক সময়ে প্রচুর পড়াশোনা করেন।
প্রতুলচন্দ্র ১৯৭৪ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199