এলিয়ট দ্বিতীয় স্ত্রী‘র জন্য লিখেছিলেন যৌন কবিতা

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 6 Jun 2024

3280 বার পড়া হয়েছে

Shoes

 

Valerie Eliot
দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে

প্রথম স্ত্রী ভিভিয়ান হে-উড। ১৯১৫ সালে তরুণ কবি টি.এস এলিয়টের সঙ্গে ঘর বাঁধেন ইংল্যান্ডে। তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায় ১৯৪৭ সালে এক মানসিক হাসপাতালের বিছানায়। তখন তার পাশে এলিয়ট নেই। দু’জনের সম্পর্কের মাঝে বিচ্ছেদের সুর বেজে গেছে ১৯৩৩ সালেই। এলিয়ট গবেষকরা বলেন, দুঃসহ মানসিক অশান্তিই আর বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নিঃসঙ্গ ভিভিয়ানকে ঠেলে দিয়েছিলো মানসিক হাসপাতালের অসুখী বিছানায়।

আর এই সম্পর্কের সব দায় মুছে ফেলে এলিয়ট নিজের ব্যক্তিগত নোটে লিখলেন, ‘এই সম্পর্ক আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে ওয়েস্ট ল্যান্ড’’। ভিভিয়ানের স্মৃতি মুছে যাওয়ার দশ বছর পর আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন কবি। এবার ৩০ বছর বয়সী কনের নাম ভ্যালেরি ফ্লেচার। এলিয়ট তখন পৌঁছে গেছেন ৬৮-এর ঘরে। ওই বয়েসে স্ত্রীকে নিবেদন করে ওয়েস্ট ল্যান্ডের কবি টি. এস এলিয়ট লিখলেন যৌনতা নির্ভর কবিতা। যেখানে নিজের কোলের উপর বসা দীর্ঘাঙ্গী স্ত্রী‘র স্তনের সঙ্গে তিনি তুলনা দিলেন টসটসে নাশপাতির সঙ্গে।

প্রথম স্ত্রী ভিভিয়ান উড
প্রথম স্ত্রী ভিভিয়ান উড

এলিয়টের লেখা ‘হাও দ্য টল গার্লস ব্রেস্টস আর’ অথবা ‘প্লে টুগেদার’ কবিতা ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয় তাঁর একটি বইতে। নড়েচড়ে বসেন এলিয়টের পাঠক এবং গবেষকেরা। কারণ এ ধরণের কবিতা এর আগে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই কবি লেখেননি। লেখেননি ‘মিরাকেল অফ স্লিপিং টুগেদার’-এর মতো কবিতা যেখানে এলিয়ট বিশদ বিবরণ দিয়েছেন এক নারীর নাভির।গবেষকরা বলছেন, এলিয়টের কবিতায় এই রুদ্ধশ্বাস শরীরী বিবরণ নিবেদিত হয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রী ভ্যালেরি ফ্লেচারের উদ্দেশ্যে-ই।

ভ্যালেরি ফ্লেচার িছিলেন এলিয়টের ব্যক্তিগত সচিব। ১৯৪৮ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর গণমাধ্যম আর সাহিত্যের পৃথিবীর সকল আলো, সকল মনযোগ আছড়ে পড়ে এলিয়টের উপকূলে। এই জনসংযোগের চাপ সামলাতে না-পেরে তাঁর আগের সচিব উধাও হয় একদিন। পরের বছর এলিয়ট ব্যক্তিগত সচিবের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। মঞ্চে আবির্ভূত হন তরুণী ভ্যালেরি। টি. এস এলিয়টের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন ভ্যালেরি। হয়তো সেই মুগ্ধতা থেকেই তৈরি হয় ভালোবাসা। তবে সেই ভালোবাসা সম্পর্কের দরজায় পৌঁছাতে সময় লেগেছিলো প্রায় ৮ বছর। ১৯৫৬ সাল ফুরিয়ে আসছে। এলিয়ট এই দীর্ঘ সময়ে একটু একটু করে উপলব্ধি করেছিলেন ভ্যালেরির ভালোবাসা। একদিন দূরত্বের আড়াল থেকে বের হয়ে আসেন দুজনই। তার আগে এলিয়টের ভাষায়,‘‘আমরা দুজনেই এই ভালোবাসার বিন্দু বিসর্গ  আগে অনুমান করতে পারিনি।’

১৯৫৭ সালের ১০ জানুয়ারী একেবারে ছোট্ট এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলিয়ট বিয়ে করেন ভ্যালেরিকে। টি. এস এলিয়ট মারা যাওয়ার পর ভ্যালেরি বিবিসি‘র সঙ্গে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, ‘‘এলিয়টের জন্য সুখী বিবাহিত জীবন খুব প্রয়োজন ছিলো। আমাদের বিয়ে না-হলে এলিয়টের মনের মধ্যে থেকে যাওয়া এক বালক কখনোই মুক্তি পেতো না’’।

তথ্যসূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199