গুডনাইট ভিভিয়েন, গুডনাইট

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 27 Oct 2022

2245 বার পড়া হয়েছে

Shoes

উন্মাদাশ্রমে তো শুধু রাত্রি, শুধু অন্ধকারই জমে থাকে কুণ্ডুলি পাকিয়ে। যন্ত্রণার স্রোত মাথার ভিতর থেকে গড়িয়ে বয়ে যায় সেই অন্ধকার, আরও অন্ধকারে। লন্ডনের এক মানসিক হাসপাতাল নরদামবারল্যান্ড হাউসে তাঁর কেটেছিলো অনেকগুলো বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হয়তো কোনো নিষ্প্রদীপ রাতে ট্রেসার শেলের বিষ্ফোরণে ঝলসে যাওয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে, বোমা পড়ার গম্ভীর শব্দ শুনে আর বিভিন্ন পরিচিত মানুষদের প্রলাপে পূর্ণ চিঠি পাঠিয়ে পাঠিয়ে ক্লান্ত হয়ে একদিন পৃথিবীকে চিরবিদায় বলেছিলেন ভিভিয়েন। পুরো নাম, ভিভিয়েন হে উড। কবি টি এস এলিয়টের প্রথম স্ত্রী ছিলেন তিনি।ভঙ্গুর স্বাস্থ্য আর হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত মারা যান স্বামী এলিয়টের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির এক বছর আগে, ১৯৪৭ সালে।

স্টিভেন ক্যারল

সময়ের গহীন কুয়ার অতলে তলিয়ে যাওয়া ভিভিয়েন। স্বামী এলিয়টকে আর ফিরে না-পাওয়ার যন্ত্রণায় মানসিক ভাবে ক্ষত বিক্ষত এক নারী। তাকে নিয়ে, তার জীবনের অস্থির প্রবাহকে উপাদান করে উপন্যাস লিখেছেন অষ্ট্রেলিয়ার কথা সাহিত্যিক স্টিভেন ক্যারল। প্রথমে তিনি এলিয়ট আর ভিভিয়ানের যৌথ জীবন নিয়ে নাটক লেখার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারলেন ‘টম অ্যান্ড ভিভ’ নামে একটি নাটক ইতিমধ্যে লেখা হয়ে গেছে। নাটক লেখার পরিকল্পনা তখনই বাতিল করলেন। কিন্তু প্লটটা রয়ে গেলো মাথায়। একটি উপন্যাস-ই লেখার কথা ভেবেছিলেন স্টিভেন।কিন্তু এক সাহিত্য সমালোচক বন্ধু নতুন ভাবনার পর্দা টেনে দিয়েছিলো তার ভাবনায়। বন্ধুর পরামর্শ ছিলো-টি এস এলিয়ট আর ভিভিয়েন হে উডের উন্মাতাল আর অস্থির জীবন আসলে চারটা উপন্যাসে মেলে ধরা উচিত। বন্ধুর পরামর্শ মনে ধরেছিলো ৭৩ বছর বয়সী কথা সাহিত্যিকের।

লেখার টেবিলে বসে অল্প সময়ে প্লট সাজিয়ে নিয়ে তিনি লিখে ফেলেন প্রথম উপন্যাস ‘লস্ট লাইফ’। এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘এ ওয়ার্লড অফ আদার পিপল’। এলিয়ট আর ভিভিয়েনের গল্প লেখার কাজ থামিয়ে দেননি স্টিভেন। ২০১৭ সালে এসে শেষ করেন তৃতীয় উপন্যাস ‘ নিউ ইংল্যান্ড অ্যাফেয়ার’। আর সর্বশেষ এ বছর প্রকাশিত হলো গুডনাইট ভিভিয়েন, গুডনাইট।

ভিভিয়ের মানসিক হাসপাতালের খাতায় নাম লেখান ১৯৩৭ সালে। সেই খাতা থেকে নাম কাটিয়ে পরপারে যাত্রা করেন ১৯৪৭ সালে। সেই হাসপাতালের চার দেয়ালের ঘেরাওয়ে বসে তিনি ভাবতেন এলিয়ট ফিরে আসবেন তার কাছে। কিন্তু এলিয়ট কখনো দেখতেও যাননি স্ত্রীকে। অথচ মৃত্যুর খবরটা শুনে এলিয়ট দু‘হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে বলেছিলেন : ‘হা ঈশ্বর! হা ইশ্বর!’ একা, নিঃসঙ্গ, ভিভিয়েন, মাথার ভিতরে বিশৃংখল ভাবনার মাতাল স্রোত নিয়ে বেঁচে থাকা ভিভিয়েন হাসপাতালেই চোখ বন্ধ করেন চিরতরে। শেষ উপন্যাসে এসে স্টিফেন ক্যারল অবশ্য একেবারেই পাল্টে দিয়েছেন বাস্তবের ভিভিয়েনকে। তার এই উপন্যাসে উন্মাদাশ্রম থেকে পালিয়ে যায় ভিভিয়েন চরিত্রটি।তার পলাতক জীবনই উপন্যাসের মূখ্য বিষয়।

স্টিফের তার চার উপন্যাসে্ এলিয়ট রয়ে গেছেন ছায়া হয়ে। সেখানে ভিভিয়েনই মূল চরিত্র। উপন্যাস লিখতে গিয়ে ভিভিয়েনের ডায়েরি এবং চিঠিপত্র পাঠ করে স্টিফেনের মনে হয়েছে টি এস এলিয়ট আর ভিভিয়ের হে উডের বিয়েটা না-হলেই ভালো হতো হয়তো।অবহেলা আর উপেক্ষার আঁধারে তাকে ডুবে যেতে হতো না।

তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্র্ডিয়ান, বিন্দু থেকে বিন্দুতে, চিন্ময় গুহ

ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199