র‌্যাবিট ক্যাচার ও অপ্রকাশিত চিঠি

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 23 Nov 2023

2650 বার পড়া হয়েছে

Shoes

দুই কবির বিবাহিত জীবনের সমাপ্তি ঘটে ১৯৬২ সালে। সিলভিয়া প্লাথ আর টেড হিউজের ঘর ভাঙার ঘটনা ষাটের দশকের গোড়ায় পত্রপত্রিকাতে ছিলো প্রবল সংবাদ।আর সিলভিয়া প্লাথ ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর মানসিক চিকিৎসক বুশারকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, তার অসময়ে গর্ভপাতের কয়েকদিন আগে টেড তার গায়ে হাত তুলেছিলেন।সিলভিয়া প্লাথের চিকিৎসককে লেখা এই চিঠিগুলো কয়েক বছর আগে নিলামে ওঠে। বহু বছর এগুলো সাহিত্যের গবেষকদের চোখের আড়ালেই ছিলো।

১৯৬১ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দিকে বিবিসি‘র সাংবাদিক মরিয়া ডুলান সিলভিয়া প্লাথকে ফোন করেছিলেন তাঁর এভনের বাড়িতে। ফোনের অপরপ্রান্তে তিনি টেডের ক্ষিপ্ত কন্ঠে কথা বলা শুনে ফেলেন। প্লাথের অভিযোগ, সেই ফেব্রুয়ারী মাসেই টেড তাকে একাধিকবার পিটিয়েছিলেন। তখন প্লাথ চার মাসের গর্ভবতী। সিলভিয়া প্লাথের অসময়ে গর্ভপাতের ঘটনাটাও ঘটে ১৯৬১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী।

দাম্পত্য সংকটের সেই বিষন্ন দিনগুলোর মেঘরাশিকে বেশি দূর ভেসে যেতে দেননি প্লাথ। তাঁর ‘এরিয়াল’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে অস্থির মানসিক অবস্থার স্পষ্ট চিহ্ন আছে। তখনই হয়তো মনে মনে নিজের হাতে জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছিলেন কবি। জীবনে বিস্বাদের যে হিম জমে উঠেছিলো সিলভিয়া প্লাথ যেনো তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলেন রান্নাঘরের ইলেকট্রিক আভেনে মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করে। তারিখটা ১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রয়ারী।

সিলভিয়া প্লাথ মারা যাওয়ার বছর দুই পর তাঁর ‘এরিয়াল’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। আলোচকদের মত হচ্ছে, এই কবি তাঁর কাব্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কবিতাগুলো এই বইতে সন্নিবেশিত করেছেন। বিশেষ করে ‘র‌্যাবিট ক্যাটার’ কবিতাটির ওপর বিশেষ আলো ফেলে আলোচকরা বলছেন, তখন ইংল্যান্ডে গর্ভপাত বিষয়ে একটি পরীক্ষা চালানো হচ্ছিলো খরগোশদের ওপরে।প্লিাথ নিজের জীবনের বিপরযয় আর গবেষণায় খরগোশদের করুণ পরিণতিকে মিলিয়েই হয়তো কবিতাটি লিখেছিলেন। এই বইয়ের সব কবিতাই সিলভিয়া প্লাথ লিখে শেষ করেছিলেন মৃত্যুর ছয় মাস আগে।

তথ্যসূত্রঃ কনভার্সেশন

ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199