হারানো শহরে হেমিংওয়ে

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 10 Oct 2024

2090 বার পড়া হয়েছে

Shoes

গত ২১ জুলাই পেরিয়ে গিয়েছে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ১২৫তম জন্মবর্ষ। কী ছিলেন না হেমিংওয়ে? পৃথিবী বিখ্যাত কথাশিল্পী, পর্যটক,ভয়ংকর ভাবে সুরাসক্ত, যোদ্ধা এবং প্রেমিক। এই অসাধারণ মানুষটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্পেনের ছোট্ট এক শহর পাম্পলনার নাম।

উত্তর-পূর্ব স্পেনের নাভারা প্রদেশের একটা ছোট্ট শহর এই পাম্পলোনা। এই শহরটা স্পেনের আর পাঁচটা ছোট শহরের মতোই। পাম্পলোনা নামটার অবশ্য একটা জবরদস্ত ইতিহাস আছে।

‘টরন্টো স্টার’ কাগজের ২৪ বছর বয়সি রিপোর্টার হেমিংওয়ে পাম্পলোনাতে প্রথম আসেন ১৯২৩ সালে। সঙ্গে তাঁর তৎকালীন স্ত্রী হ্যাডলি রিচার্ডসন। তখন থেকেই এই শহরর কাফে ইরুনার সঙ্গে হেমিংওয়ের নিবিড় যোগসূত্র। তাঁর ভীষণ প্রিয় ছিলো এই কাফে। সেখানে বসে পান করে আর আড্ডা দিয়ে বহু সময় কাটিয়েছেন তিনি। এই শহরে পরেও যতবার ফিরে গেছেন হেমিংওয়ে কাফে ইরুনা ছিলো তার একান্ত বাতিঘর। উপন্যাস লিখে এই কাফেকে অমরত্ব দিয়েছেন তিনি। তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য সান অলসো রাইজ়েস’-এ ইরুনার কথা ঠাঁই পেয়েছে। উপন্যাসটা লেখা হয় ১৯২৫ সালে তার তৃতীয় পাম্পলোনা সফরকালে।

এই কাফের পরিবেশ খুব একটা বদলায়নি গত একশো বছরে। পাম্পলোনাতে এলে হেমিংওয়ের থাকার জায়গা ছিলো প্লাজ়া দেল ক্যাসিলো-র উত্তর-পূর্ব কোণে গ্রান হোটেল লা পেরলা-তে। হোটেলের এক দিকে এস্টাফেটা স্ট্রিট, যা ষাঁড়ের দৌড়ের একটা প্রধান রাস্তা। যে ঘরে থাকতেন হেমিংওয়ে, তার এখন নামকরণ হয়েছে তাঁর নামেই।

জুলাইয়ের প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় পাম্পলোনার বাৎসরিক ষাঁড়ের দৌড়ের ‘সান ফার্মিন’ উৎসব। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ ৯৩০ গজ রাস্তার মধ্যে। সেই ছোট্ট শহরের চমৎকার আলো-ছায়ার মাঝে  স্যান্টো ডোমিনগো স্ট্রিট থেকে প্লাজ়া ডে টোরস পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে রাস্তাটা।  ষাড়ের দৌড়ের সময় উপচে পড়ে মানুষের ভিড় সেখানে। কেউ কেউ উন্মত্ত ষাড়ের সঙ্গে ছুটতে থাকেন। এই উৎসব দেখার জন্য পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এসে ভিড় জমান পাম্পলোনায়।

১৯৫৯ সালে হেমিংওয়ে নবম এবং শেষ বারের মতো আসেন পাম্পলোনায়। তাঁর এই স্পেন সফর ছিলো ‘লাইফ ম্যাগাজ়িন’-এর হয়ে বুলফাইটিং-এর উপর লেখা তৈরির জন্য। তিনি তখন নোবেল এবং পুলিৎজ়ার পুরস্কার বিজয়ী কিংবদন্তি লেখক। হেমিংওয়ে কিন্তু আশ্চর্য হন পাম্পলোনা শহরে উৎসবের সময় চল্লিশ হাজার পর্যটকের ভিড় দেখে। খানিক বিরক্ত হয়েছিলেন মানুষের ভিড় দেখে।

হেমিংওয়ের স্মৃতিচারণা ‘দ্য ডেঞ্জারাস সামার’ ছাপা হয় ১৯৮৫ সালে, তাঁর মৃত্যুর ২৪ বছর পরে। তাতে তিনি লিখছেন, পাম্পলোনাতে জনা কুড়ি টুরিস্ট এসেছিলো ১৯২৩ সালে, তাঁর সেই প্রথম পাম্পলোনা সফরের সময়। ১৯৫৯ সালে হেমিংওয়ের শেষ দর্শন মোটেই সুখের ছিলো না। তাঁর শরীর এবং মন-মেজাজ ভেঙে পড়ছিলো ক্রমেই। তার মধ্যে তিনি এমন একটি শহরকে দেখতে পেলেন তিনি যার কোথাও সেই আগেকার সুন্দর সময়ের কোনো ছোঁয়া নেই। এমনিতেই তখন জেনারেল ফ্রাঙ্কোর ফ্যাসিবাদী মুঠিতে দু’দশক আটকে থাকা সেই দেশের সঙ্গে ১৯২০ দশকের প্রাণোচ্ছল স্পেনের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই স্পেনে হেমিংওয়ের বইও নিষিদ্ধ! ঘটনাচক্রে এর দু’বছর পর, ১৯৬১-তে, যখন আইডাহো রাজ্যের কেচুম-এ তাঁর বাড়ির বারান্দায় নিজের মুখে শটগান রেখে ট্রিগার টেনেছিলেন হেমিংওয়ে, সেও কিন্তু ছিলো সান ফার্মিনের সপ্তাহ।

পাম্পলোনার সর্বত্র ছড়িয়ে আছে হেমিংওয়ের স্মৃতি। তাঁর স্ট্যাচু রয়েছে প্লাজ়া দেল ক্যাসিলোতে, কাফে ইরুনার কাঠের প্যানেলযুক্ত ঘরের দেওয়ালের পাশে, পাম্পলোনা বুল রিংয়ে। শহরের নানা দোকানে, পাব-এ ব্যবহৃত হয়ে চলেছে হেমিংওয়ের নাম।

তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199