শতবর্ষে নেরুদার প্রেম ও নৈঃশব্দ

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 5 Dec 2024

2540 বার পড়া হয়েছে

Shoes

‘কুড়িটি প্রেমের কবিতা ও একটি হতাশার গান’ কবি রিকার্দো এলিয়েসর নেফতালি রেইয়েস বাসোয়ালতোর লেখা দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৪ এ এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলো সেই সময়েই যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিলো। এই তথ্য কবিতার একালের পাঠকদের মনে খুব বেশি তরঙ্গ তুলবে না। কারণ এমন দীর্ঘ নামের কোনো কবির সঙ্গে তাদের পরিচয় নেই। কে এই কবি? তিনি আসলে কবি পাবলো নেরুদা। তিনি নিজেই বাবার ভয়ে লেখালেখি করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ছদ্ম নাম…পাবলো নেরুদা।
পাবলো নেরুদা ১৯৭৫ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী কবি। চিলির বৃষ্টি, কর্দমাক্ত মাটি, পাহাড়, কুয়াশা আর মানুষের কথা তার কবিতাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কিন্তু তিনি কি শুধুই প্রকৃতি, মানুষ আর সাম্যবাদে বিশ্বাসী একজন কবি? তিনি যখন কবিতায় লেখেন-

‘‘এখানে তোমায় ভালোবাসি।
পাইনের অন্ধকারে বাতাস তার জট খুলে ফেলে।
ভবঘুরে জলের উপর ফসফরাসের মতো উজ্জ্বল চাঁদ’’

তখন সবুজ পত্রের মতো এক গভীর প্রেমিক কবির মুখ কবিতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত পাবলো নেরুদার দ্বিতীয় কবিতার বই ‘কুড়িটি প্রেমের কবিতা অথবা একটি হতাশার গান’ এ বছর প্রকাশনার শতবর্ষে পৌঁছালো।
নেরুদা এই বইয়ের প্রথম কবিতাটি পত্রিকায় পাঠান ছাপার জন্য। তখনকার‘জিগ-জ্যাগ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক নেরুদার কবিতা প্রকাশ করেননি। শেষে কবি সমালোচক এরনান দিয়াস আররিয়েতার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাকে তিনি অনুরোধ করেছিলেন সেই সম্পাদকের কাছে তার হয়ে ওকালতি করার জন্য। তারপর সেই অসহায় কবির কবিতা ছাপা হয়েছিলো কি না তা আর জানা যায় না। কিন্তু তারপর গোটা একটি শতাব্দী অতিক্রম করেও সমান জনপ্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক। বইটির প্রথম প্রকাশক ছিলো চিলির নাসিমেন্তো প্রকাশনী। অল টাইম বেস্টসেলার বইটি শুধু স্প্যানিশ ভাষাভাষীদের কাছেই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৫০ লক্ষ কপি।
সমালোচক এরনান দিয়াসের কাছে নেরুদের এক চিঠি থেকে জানা যায়, প্রথমে তিনি বইয়ের নাম দিয়েছিলেন, ‘‘এক মানব ও এক মানবীর গল্প’। পরে নাম পাল্টে রাখেন ‘বারোটি প্রেমের কবিতা ও একটি হতাশার গান’। কিন্তু কিছুদিন পরে নিজের কুড়ি বছরের জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে তিনি আবারও বইয়ের নাম পাল্টে দেন। এবার নতুন নাম হয় ‘কুড়িটি প্রেমের কবিতা ও একটি হতাশার গান’।
নেরেুদা এই বইয়ের কবিতাগুলো লিখেছিলেন ১৯২২ থেকে ১৯২৪ সালের মধ্যে। সেই সময়ে তার তিন নারী বন্ধু ছিলেন আলবেরতিনা রোসা, মারিয়া পারোদি এবং তেরেসা বাস্কেস। জানা যায়, এই তিনজন নারী এবং প্রেম নিয়েই তিনি কবিতাগুলো লিখেছিলেন। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে কুড়ি বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তিনি এ ধরণের কবিতা লিখেছিলেন।
পাবলো নেরুদার এই বইয়ের কবিতায় শুধু প্রেম নয়, বিচ্ছেদের গাঢ় রক্তপাতও গড়িয়ে পড়েছে। প্রেম, বিচ্ছেদ আর তার সঙ্গে প্রকৃতি যুক্ত হয়ে এই কাব্যগ্রন্থটি এক নির্জন প্রেমিক কবির হৃদয়কে উন্মোচিত করেছে কবিতার পাঠকের সামনে।

তথ্যসূত্রঃ অন্যস্বর, কলকাতা
ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199