কাজেকর্মে কমলকুমার

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 9 Jan 2025

3625 বার পড়া হয়েছে

Shoes

  

কথাসাহিত্যিক কমলকুমার মজুমদার ঘন ঘন বাড়ি বদল করতেন। কখনো কাজের সূত্রে আবার কখনো অর্থকষ্ট ছিলো তার ঠিকানা বদলের কারণ। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা তিনি সহজে কাউকে জানাতেন না। কবি ও কথাশিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী বইতে এই গল্প বিশদ ভাবে আছে। এই ঘন ঘন ঠিকানা বদল এবং একরকম লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার প্রবণতা থাকার পরেও কমলকুমার মজুমদার কিন্তু অনেক ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন সারা জীবন।

কমলকুমার মজুমদার

তিনি ১৯৩৪ সালে বসবাস করতেন কলকাতার ভবানীপুরে। চার বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘বনীকন’ নামে একটি সাহিত্যগোষ্ঠী। ওই বছর ভারতের মুঙ্গেরে ভয়বহ ভূমিকম্প হয়। কমলকুমার রিলিফের দলের সঙ্গে মুঙ্গের যান বিপন্ন মানুষের মধ্যে রিলিফ বিতরণ করতে। একই বছর তাদের চার বন্ধুর সাহিত্য গোষ্ঠী থেকে ‘উষ্ণীষ’ নামে একটি সাহিত্যের কাগজ প্রকাশ করেন। এই পত্রিকাতেই কমলকুমারের লেখার সূচনাকালের গল্প, লাল জুতো, প্রিনসেস আর মধু প্রকাশিত হয়। ১৯৩৯ সালে আবার ঠিকানা বদল করেন কমলকুমার। কলকাতা শহরের সীতারাম রোড এলাকায় নতুন বাড়িতে ওঠেন। সেখানে গিয়েও নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকেননি। নাচ, গান আর ছবি আঁকার স্কুল খুলে বসেন। তবে সেই স্কুল খুব বেশিদিন আয়ু লাভ করেনি। জানা যায়, ওই সময়ে বিভিন্ন সাহিত্যের আড্ডায় তার আনাগোনা শুরু হয়।

কমলকুমার মজুমদারের লেখার বিষয়ে অধিকাংশ পাঠকই দুর্বোধ্যতার অভিযোগ তোলেন। কথাসাহিত্যিক নিজেও আমজনতার জন্য লেখেন না বলে প্রকাশ্যে ঘোষণাও দিয়েছেন। ব্যক্তি মানুষ হিসেবে কমলকুমার মজুমদার কিছুটা খামখেয়ালীও ছিলেন। ১৯৪৩-৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানী আক্রমণের ভয়ে তিনি আবারও ঠিকানা বদলে নেন। কলকাতা ছেড়ে চলে যান প্রকৃতিঘেরা অঞ্চল রিখিয়ায়। রিখিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তার বিভিন্ন লেখায় ঘুরেফিরে এসেছে। বেশ পরে কিছুদিন অর্থকষ্টে ভুগে তিনি আবারও রিখিয়া ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। মহীশূর রোডের এক রুমের একটি বাড়ি হয় তার নতুন ঠিকানা।
সময়টা ১৯৪৬ সাল। কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গার সময় কমলকুমার আক্রান্ত মানুষদের নিজের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সহায়তা করেন নানান ভাবে। ওই সময়ে তিনি শুরু করেন ব্যবসা। ডিডিটি, মাছের ঘের আর আমদানী-রপ্তানী ব্যবসায় তাকে সফলতা এনে দেয়। তার জীবন নিয়ে রাধাপ্রসাদ গুপ্তর লেখা বই থেকে জানা যায়, ওই সময়ে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ফরাসী পারফিউমের প্রতি তার অনুরাগ ছিলো গভীর।

কমলকুমার ১৯৪৮ সালে দয়াময়ী রায়কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আবারও তিনি স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান সেই রিখিয়ায়। কিছুদিন সেখানে কাটিয়ে কলকাতায় ফিরে আবারও বাসা বদল। তার নতুন ঠিকানা হয়েছিলো আনন্দ পালিত লেনে।

কমলকুমার মজুমদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭৯ সালে মারা যান কলকাতা শহরের হাজরা রোডের বাড়িতে। অবশ্যই সেই ঠিকানাও ছিলো নতুন। তার আগে নাটকের দল করেছিলেন। লিখেছিলেন বাংলা কথা সাহিত্যের অসাধারণ সব গল্প আর উপন্যাস।

তথ্যসূত্রঃ অন্য স্বর, রাধাপ্রসাদ গুপ্তর বই
ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199