বিভূতিভূষণের বন্ধুরা

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 7 Nov 2024

2740 বার পড়া হয়েছে

Shoes

পুজা আসার কিছুদিন আগে ঘাটশিলা চলে যেতেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরতেন মাঘের শেষে অথবা ফাল্গুনের গোড়ায়। তিরিশের দশকের শুরু থেকেই ঘাটশিলা আর গালুডির সঙ্গে একটা সংযোগ সেতু তৈরি হয় তার। পরে ঘাটশিলায় একটি বাড়ি কিনে ফেলেন তিনি। গৌরীদেবীর নামে বাড়ির নাম রাখেন ‘গৌরীকুঞ্জ’। ১৯৪২ সালে ব্যারাকপুরে পুরোদস্তুর সংসারি হওয়ার পরেও ঘাটশিলায় গিয়ে মাসকয়েকের অবসর যাপন চলত বিভূতিভূষণের। বছরের এই সময়ে সেখানে যেতেন তাঁর সাহিত্যিক বন্ধুরা। প্রমথনাথ বিশী, বিশ্বপতি চৌধুরী, গজেন্দ্রকুমার মিত্র, প্রবোধকুমার সান্যাল, বাণী রায়, সুমথনাথ ঘোষ। নীরদরঞ্জন দাশগুপ্তদেরও ছুটির সময়টা কাটতো ঘাটশিলাতেই  সেখানেই তাদের জমতো আড্ডা। আর চলতো প্রকৃতি দেখা। তবে বন্ধুদের কলরোল কাটিয়ে নির্জন এলাকায় একা একা বেড়াতেন বিভূতিভূষণ। এঁদেলবেড়ের জঙ্গল, সুবর্ণরেখা নদী, পাণ্ডবশীলা, কাছিমদহ রাত-মোহনা ছিলো তাঁর প্রিয় ভ্রমণের জায়গা। শোনা যায়, ফুলডুংরি পাহাড়ের পিছনে একটি পাথরের উপরে বসে উপাসনা করতেন তিনি। ঘাটশিলা তাঁর এতই পছন্দ হয়েছিলো যে গজেন্দ্রকুমার মিত্র সুমথনাথ ঘোষ এবং বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়কে সেখানে বাড়ি কিনিয়েছিলেন।
বিভূতিভূষণ তখন হরিনাভিতে। বন্ধু ‘বালক-কবি’ পাঁচুগোপাল ওরফে যতীন্দ্রমোহন রায় এক দিন তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনার সঙ্গে ঘুরতে হলে, পা-দু’খানি লোহার করতে হবে।’ স্কুল থেকে ফিরে খানিক বিশ্রাম নিয়েই বেরিয়ে পড়তেন বিভূতিভূষণ। কখনও বসতেন ছ’আনি চৌধুরীদের ভাঙাবাড়ির দোলমাচার সামনে, কখনও ময়রা পাড়ার খোঁড়া গুরুর পাঠশালে। সেখানে ছাত্ররা সুর করে ধারাপাত পড়তো। শুনতে ভালবাসতেন বিভূতিভূষণ। এক এক দিন যতীন্দ্রনাথের আসতে দেরি হলে একাই বেরিয়ে পড়তেন। তখন সন্ধে হলে বোসপুকুর কিংবা নিশ্চিন্দিপুরের ফাঁকা, মেঠো রাস্তায় তাঁকে খুঁজতে বেরোতে হতো। প্রায়ই খগেন বোসের বাড়ির সামনে কাঁঠালিচাঁপা বনের ধারে খুঁজে পাওয়া যেতো বিভূতিভূষণকে।
বন্ধুত্বের এক অপূর্ব এক ছবি দেখি আমরা তার ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে। আপু আর দূর্গা ভাইবোন হয়েও ছাপিয়ে গিয়েছিলো তাদের বন্ধুত্বের সেতু। দু‘জনের মাঝে কত কী ভাবের বিনিময়! কত অভিজ্ঞতার বিনিময়। ঘাটশিলার বাড়িতে বন্ধুদের আড্ডায় সাহিত্যিক বন্ধুদের মাঝে নানান গল্পে হারিয়ে গিয়েও বিভূতিভূষণ কখনো একা হয়ে যেতেন। সেই একা সময়টাই ছিলো তার বোধের আশ্রয় হয়তো। কখনো মাছ ধরা, কখনো নিছক আড্ডার মাঝে বিভূতিভূষণ হয়ে উঠতেন একা। সৃষ্টির আনন্দে হয়তো ভরে উঠতো নিজের ভিতরে সেই একা হয়ে যাবার অনুভূতিটুকু।

তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা    
ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199