পাগল হাওয়ার অ্যানিয়াস নিন

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 31 Oct 2024

1945 বার পড়া হয়েছে

Shoes

ছোট্ট মেয়েটি জাহাজে চড়ে আমেরিকা চলে যাওয়ার পথে বাবাকে চিঠিতে লিখেছিলো, ‘বাবা ফিরে এসো তুমি। আমাদের সংসারে ফিরে এসো। আমার কাছে ফিরে এসো।’
কন্যার সেই আকুল আবেদন মাখা দীর্ঘ চিঠির শব্দগুলো হয়তো সেদিন আটলান্টিক মহাসাগরের নোনা বাতাস গায়ে মেখে এক ধরণের আত্মহত্যাই করেছিলো। সেই চিঠি আর কখনোই তার বাবার কাছে পৌঁছেনি। ছোট্ট মেয়েটির ৬২ বছরের জীবনেও না। তার বাবাও কোনোদিন তার কাছে ফিরে আসেনি। কিন্তু সেই চিঠিটাই বালিকাকে পৌঁছে দিয়েছিল পেশাদার রোজনামচা বা ডায়েরি লেখার দিকে। অ্যানিয়াস নিন পৃথিবীর সাহিত্যের ইতিহাসে ডায়েরি লেখক, কথাশিল্পী এবং এরোটিকা রচয়িতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে রীতিমত বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।

অ্যানিয়াস নিনের ডায়েরি সাতটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। তার নিজের ভাষায় তার সমস্ত লেখাই অন্তরাত্মার যন্ত্রণাদগ্ধ স্বপ্নের পৃথিবী। নিন তার লেখায় একজন নারীর নিষিদ্ধ জীবনযাপনের ভয়ংকর কাহিনি তুলে এনেছেন যা আগে কখনোই প্রকাশিত হয়নি। নারীর একান্ত কথার গ্রন্থনা অ্যানিয়ান নিনকে আলোচিত করে তুলেছিল। স্প্যানিশ বংশোদভূত নিন তার গরল রচনার জন্য আজও সাহিত্যে আলোচিত।

অসহায় মা আর দুই ভাইয়ের সঙ্গে নিন চলে গিয়েছিলেন আমেরিকায়। বড় হওয়ার পরেও হারানো পিতার জন্য তার আকুলতা বেঁচে ছিলো মনে। বাবা জ্যাকুইন নিন ছিলেন একজন বিখ্যাত স্পেনীয় সুরকার। এক ধণাড্য তরুণী ছাত্রীর সঙ্গে তিনি সংসার ত্যাগ করে পালিয়ে যান ইউরোপে। অ্যানিয়াস নিনের বয়স তখন এগারো। পিতার এই উপেক্ষা নিনকে আচ্ছাদিত করেছিলো গভীর এক পরিত্যক্ত অনুভূতিতে। সেই অনুভূতি কাটতে সময় লেগেছিলো। বড় হয়ে পলাতক পিতার সঙ্গে দেখা হয়েছিলো নিনের। আর  সে দেখাতেই তিনি বুঝেছিলেন তার বাবা একজন স্বার্থপর মানুষ। প্রতিভাবান হলেও মানুষটার ভিতরে নিজের সন্তানদের জন্য কোনো ভালোবাসা ছিলো না। এই উপলব্ধির আঘাত নিনকে কিন্তু পিছিয়ে দেয়নি। বরং নিজের অনিয়ন্ত্রিত, পীড়িত জীবনের ডায়েরি লেখার কাজ চলতে থাকে দ্বিগুন উৎসাহে। কিন্তু তার মন নানান আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হতে থাকে। ১৯৩১ সালে তার সঙ্গে দেখা হয় আলোচিত ‘ট্রপিক অফ ক্যান্সার’ উপন্যানের লেখক হেনরি মিলারের সঙ্গে। প্রেমে পড়েন তারা। কিন্তু অনেকের দাবি নিন যৌনতার ক্ষেত্রে নিজেই ছিলেন উভগামী। সেই সময়ে হেনরি মিলারের বান্ধবী জুনের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিলো বলে তার লেখাতেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।   নিনের ডায়েরিতে সেই প্রেম কাহিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

বিয়ে করেছিলেন তিনি। স্বামী হিউগো ছিলেন ব্যাংকার।  কিন্তু সংসার তাকে সেভাবে টানেনি। ১৯৩৯ সালে আমেরিকায় সন্ধান পেয়েছিলেন ভালোবাসার মানুষের। তার আগের সময়টা ছিলো উৎক্ষিপ্ত, অস্থির আর মানসিক যন্ত্রণারসঅন্ধকারে ঢাকা। নিজেই ডায়েরিতে লিখেছেন, ‘তোমার চোখ বন্ধ রাখো কুৎসিত সব দৃশ্যমান থেকে।’ আসলে গোটা জীবনটাই তো নিজস্ব আলো দিয়ে আঁধার কেটে এগিয়ে গেছেন অ্যানিয়াস নিন।
আমেরিকায় ১৯৭৭ সালের ১৪ জানুয়ারী তার মৃত্যু হয়। জন্মগত ভাবে স্পেনীয় হলেও তার জন্ম ১৯০৩ সালে ফ্রান্সে। ‘ডেল্টা অফ ভেনাস’ ‘দ্য ডায়েরি অফ অ্যানিয়াস নিন’,‘হেনরি অ্যান্ড জুন’ তার আলোচিত বই।

তথ্যসূত্রঃ লিটারেরি হাব
ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199