প্রকৃত সারস

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 19 Sept 2024

2280 বার পড়া হয়েছে

Shoes

তিনি কবিতায় লিখেছিলেন এমন লাইন-শীতের পুরোভাগে মৃত্তিকাসংলগ্ন মেঘ এখনো কুয়াশারাশি বলে অভিহিত হয়। তিনি কবি, মানসিক অসুখে ভুগেছেন দীর্ঘকাল। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন একাধিকবার। আটবার তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখানে একত্রিশবার বৈদ্যুতিক শক দিয়ে তার চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ এসব ঘটনা নিয়ে বেশ কৌতুক করেই তাকে বলতে শোনা যেতো তিনি নাকি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পাগলাগারদের ইন্সপেক্টর জেনারেল।

এই কবির ননাম বিনয় মজুমদার। বাংলা কবিতায় এক গভীর অবচেতনাময় ব-দ্বীপ জাগিয়ে তুলেছিলেন যেখানে শুধু মানুষ কাছে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়।

মানুষের মানসিকতার ইতিহাসের গোপন গভীর প্রতিটি চূর্ণ কণার ওপর আলো ফেলতে চেয়েছেন কবি বিনয় মজুমদার। সফলও হয়েছেন। হেমন্তকালের মতো প্রায় বিচ্ছিন্ন ঋতুর সবটুকু বৈরাগ্য আর দিনের আলো মরে আসতে থাকলে আকাশে ছড়িয়ে পড়া এক ধরণের ম্লান হলদেটে আলোর মতো পিছু হটে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সত্যিই কি বিনয় মজুমদার পিছু হটে গিয়েছিলেন? বরং কবিতার সঙ্গে গণিতের অসীমতার ধারণাকে মিলিয়ে মানুষের জীবনের অসীমতার ব্যাখ্যা খুঁজেছেন কবিতায়। আর সেখানেই তিনি বাংলা কবিতার পৃথক পালঙ্ক। যেখানে তার শয়ানভঙ্গী, তার দৃষ্টিপাত, তার অনুভূতি সেই আলাদা শয্যাকে ম্যাজিক কার্পেটে পরিণত করেছে। সেই কার্পেট বাংলা কবিতার পাঠককে উড়িয়ে নিয়ে চলেছে ভিন্ন এক মহাকাশের দিকে আজও।

বিনয় মজুমদারের রচনায় জীবনানন্দ দাশের রচনারীতির প্রভাব ছিলো কি? কবি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে হেসে উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন,‘ওর মতো লিখতে পারলে ধন্য হয়ে যেতাম। তিনি বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ কবি।’

আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি পাঠকদের জানিয়েছেন, ‘তখন তো আমার কবিতার বই কেউ ছাপাতে চাইতো না। তো, কয়েকজন প্রকাশকের কাছে ঘুরে-টুরে শেষে গেলাম বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে। তাদের বললাম, ম্যানাসক্রিপ্টখানা রেখে দিন। বললো, না রাখবো না। তারপর গেলাম ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্কাইভে, ভবানী দত্ত লেনে। চেনো তো ভবানী দত্ত লেন? কলেজ স্কোয়্যারের কাছাকাছি। তারাও বললো — না। তখন আমার এই বত্রিশ বছর বয়েস। পাণ্ডুলিপিটি নিরুপায় হয়ে লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে দিলাম পাঠিয়ে। এই ঘটনার পঁচিশ বছর পরে একটা চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলাম পাণ্ডলিপির খবর। তাতে ওরা উত্তর দিলো, আপনার বইটি আমরা যত্ন করে সংরক্ষণ করেছি। এবং “অঘ্রাণের অনুভূতিমালা”ই আমাদের ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে রক্ষিত আধুনিক বাংলা কবিতার একমাত্র ম্যানাসক্রিপ্ট।’

কিন্তু তার কবিতা কি কোনো গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত হয়ে বাঁচতে পারে! বিনয় মজুমদারের কবিতা তো ধূমকেতুর মতো বাংলা কবিতার আকাশকে আলোকিত করেছিলো নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে যেতে যেতে। জীবনযাপনে কখনো তিনি ছিলেন ভগ্নমনস্ক। কখনো একাকী। ভালোবাসাহীন। অসংগত। মানসিক সংযমহীন। দারিদ্র্যে বিচলিত। এভাবেই তাঁর সুদীর্ঘ পথ চলা। হয়তো তাই কবিতায় লিখে গেছেন ‘রক্তাক্ত দু-পায় তোমার দুয়ারে এসে অনিশ্চিত, নির্বাক, চিন্তিত। তুমি কি আমাকে বক্ষে স্থান দিতে সক্ষম, মুকুর?’

এ বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ছিলো তার নব্বইতম জন্মদিন।

তথ্যসূত্রঃ প্রহর, ইরাবতী পত্রিকা

ছবিঃগুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199