বিদেশী কবিতা

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 21 Mar 2024

2570 বার পড়া হয়েছে

Shoes
 কাজী জাওয়াদ

ঝিরাপি

জর্জ রোদোস্থেনাস

অনুবাদঃ কাজী জাওয়াদ

 

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

সেদিন পহেলা জুন। বছরের সবচেয়ে গরম দিন। যে লোকটি আমার দেখাশোনা

করে সে নতুন। সপ্তাহ দু’য়েক আগে কাজে যোগ দিয়েছে। খাওয়ার জন্য আমাকে

কিছু বাবলা গাছের ডাল আর কয়েকটা গাজর দিয়ে গিয়েছিল। খড়ের চেয়ে গাজর

খেতে আমার ভালো লাগে। তিবিলিসি চিড়িয়াখানায় আমিই সবচেয়ে লম্বা বলে

আমার খুব ভালো লাগে … আগে যে ঝিরাপি ছিল সে গতবছর মারা গেছে।

আমার খালা, বয়স হয়েছিল ২৬।

যাহোক, শনিবার ছিল সেদিন। চিড়িয়াখানা মানুষে ভরে গেছে। পরিবার নিয়ে

অনেকে বেড়াতে এসেছিল। কমবয়েসী বাবারা এসেছিল ছেলেদের নিয়ে। অনেক

পরিবারের যমজ বাচ্চা ছিল। মজার ব্যাপার হলো দিনটি ছিল যমজ বাচ্চাদের

জন্য।

অনেকেই আমাকে দেখতে এসেছিল। তাই কিছুটা ক্লান্ত ছিলাম। ঠিক তখনই দেখলাম

লম্বা মহিলাটিকে। চমৎকার পোশাক পরা, ছোট একটা বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে এসেছে।

বাচ্চাটার বয়স আর কত হবে! বছর চারেক।

আমি মহিলার কথা পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছিলাম।

‘গিওর্গি বাবু, তুমি জিরাফ পছন্দ করো?’

‘হ্যাঁ, মা।’

‘জন্মদিনে তুমি এটাই দেখতে চেয়েছিলে?’

‘হ্যাঁ, মা’

আমি মাথাটা বাচ্চাটার দিকে নোয়ালাম। ওরা আমাকে একটা গাজর দিল। আমি

একটু জোরে ঘরর করে ডাক দিয়ে ধন্যবাদ জানালাম যাতে তারা শুনতে পায়।

‘গিওর্গি, দেখেছ ওর গলাটা কত লম্বা?’

‘হ্যাঁ এ্যা এ্যা এ্যা’

‘কথা দাও, যা বলবো তুমি তা শুনবে?’

‘হ্যাঁ, মা’

‘তুমি ওর গলাটার দিকে তাকাও, মুখটার দিকে তাকাও, আর কখনও নিচের দিকে

তাকাবে না।’

‘হ্যাঁ, মা’। ছেলেটা অদ্ভুত কথাটা শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। আমিও।

 

ছেলেটা মুখ উঁচু করে তাকালো। চোখে তার বিস্ময়। তখন খুব অদ্ভুত একটা

ঘটনা ঘটলো। ছেলেটার মা হাঁটতে শুরু করলো। প্রথমে ধীর পায়ে, পিছনের

দিকে। তারপর সে দৌঁড়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল। আমার খুব ভয় হতে

লাগলো। বাচ্চাটা আমার দিকে তাকিয়েই ছিল, তাকিয়েই ছিল। আর তার মা চলে

গিয়েছিল।

ছেলেটা ততক্ষনে হয়তো কিছু একটা বুঝেছিল। সে মুখ নামায়। দেখে তার মা

নেই। সে ডাকলো, ‘মা’। কোথায় মা? ঘাবড়ে যেয়ে চীৎকার করে ডাকলো ‘মা,

মা, মা।’

এই সময় অত্যন্ত সুন্দর ছাই রঙ্গা পোশাক পরা এক মহিলা এসে ছেলেটির সঙ্গে

কথা বললো। সে নিচু হয়ে ছেলেটার কানে ফিস ফিস করে কী যেন বললো।

শুনতে পাইনি। গিওর্গি বলতে থাকলো, ‘মার কাছে যাবো’।

‘আমার সঙ্গে আস’।

‘না, মার কাছে যাবো’।

একটু পর ছাই রঙা পোশাক পরা গিওর্গিকে নিয়ে চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়ার

পথের দিকে এগিয়ে গেল।

আমি নির্বাক তাকিয়ে থাকলাম। কী ঘটে গেল! বেচারা গিওর্গি! ওর এখন কী

হবে?

তখন আমার মনে পড়ল।

মনে পড়লো মহিলাকে চিনি।

সে এখানকার এতিমখানার সুপার। মাসে একদিন সে বাচ্চাদের এখানে নিয়ে আসে

আমাদের পশুদের দেখাতে। কিন্তু সে গিওর্গিকে কোথায় নিয়ে গেল?

এমন ঘটনা তিবিলিসি চিড়িয়াখানায় ঘটে। কিন্তু মানুষ বা আমরা জানোয়াররা

অদ্ভুত সব ঘটনার কোনো কারণ জানি না …

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199