পার্সোনাল সার্ভিস পর্ব. ১২

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 22 Feb 2024

3715 বার পড়া হয়েছে

Shoes
দীপারুণ ভট্টাচার্য

বারো.

পরদিন সকালে নিশিকান্ত বাবুর ফোন এলো, “রঞ্জুর সঙ্গে তোমার কি কথা হয়েছে?”

-“গত সপ্তাহে হয়েছিলো কিন্তু তারপর… আমি আসলে কয়েকদিন একটা কাজ নিয়ে এতো ব্যস্ত ছিলাম যে… কি হয়েছে বলুন তো?”

-“রঞ্জু বলছিলো কাল ফিরবে। এলো না। ওর ফোনটাও বন্ধ”।

-“হ্যাঁ, ফোন আগেও আমি এমন দেখেছি। ফোনটা কেন বন্ধ করে রাখে বুঝি না। ও কোথায় গেছে জানেন?”

-“মুম্বাই”।

-“আপনি ওর অফিসের কাউকে চেনেন? কোন নাম্বার আছে?”

-“না, আমাকে তো কোনদিন দেয়নি। তুমি কিছু জানো না?”

-“না, আমি… আচ্ছা ফেরার টিকিট কি কেটে গেছিলো?”

নিশিকান্ত বাবু বললেন, “না, যাওয়ার টিকিটের একটা কপি দেখছি টেবিলের উপর রয়েছে। ফেরারটা তো নেই”।

টিকিটের ছবি মোবাইলে পাঠালেন নিশিকান্ত বাবু। সে ছবি দেখে সুজনের মাথা ঘুরে গেলো। টিকিট রঞ্জিতা সরকারের নামে। তাহলে প্রণতি নামটা কি মিথ্যে। রঞ্জিতাকেই কি ছোট করে নিশিকান্ত বাবু রঞ্জু বলেন। এই সব ভাবতে ভাবতেই ফোন এলো কাপুরের, “আর্জেন্ট কাজ। কাল বিকেলেই তোমাকে মুম্বাই যেতে হবে”। সম্পূর্ণ অন্য মুডে ছিলো সুজন। সে পরিষ্কার ‘না’ বলে দিলো কাপুরকে। যেমনটা আগে সে কোন দিন করেনি। কাপুর অনেক অনুরোধ করে শেষে রাজি করলো সুজনকে। বিনিময়ে সুজন চাইলো এক মাসের ছুটি। মনে মনে সে ঠিক করলো এই কাজটা করার পর এই লাইন সে ছেড়ে দেবে। এমন টাকা রোজগারের অর্থ কি, জীবন যদি এমন অর্থহীন হয়।

এবারের কাজটা সত্যি হাই প্রোফাইল। হাওড়া স্টেশনে পাঁচ কোটি পৌঁছে দিয়ে গেলো একজন। জুহু বিচের কাছে হোটেল দরবার। তার তিনশ নয় নং ঘরে এটা পৌঁছে দিতে হবে টাকাটা। এতো বেশি টাকা বিমানে নেওয়ার ভরসা নেই তাই ট্রেন। ফাস্ট ক্লাস কুপের দরজা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লো সুজন।

এতো গুলো টাকা একা বয়ে নিয়ে হোটেলের ঘরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ট্যাক্সিতে টাকাটা তোলা নিরাপদ মনে হয়নি সুজনের। তাই বেনামে একটা শেল্ফ ড্রাইভ গাড়ি সে আগে থেকেই ভাড়া করে রেখেছিলো। কাপুরকে এই বিষয়ে কিছু বলেনি। টাকা ভর্তি গাড়িটা হোটেলের পারকিংয়ে রেখে সুজন যখন তিনশ নয়ের বেল বাজাল তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে মুম্বাই শহরে। দরজা খুলতে একটু যেন দেরি হচ্ছে। একটু চঞ্চল লাগছে নিজেকে। দ্বিতীয়বার বেল বাজাতেই খুলে গেল দরজাটা। সুজন দেখলো দরজার ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে প্রণতি ওরফে রঞ্জু।

বন্ধ দরজার ভিতরে দুজনেই ভেঙ্গে পড়লো কান্নায়। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো পৃথিবী। তারপর রঞ্জিতা বললো, “বেশ কয়েকদিন ধরে এখানেই বসে আছি। আমার সঙ্গে আরও একজনকে দেওয়ার কথা ছিলো। সেই ছেলেটা মুম্বাই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এই কটা দিন প্রতিটা মুহূর্ত চরম আতঙ্কে কাটছে। তাই মোবাইল বন্ধ করে রেখেছি। কি বলবো বাবাকে!” একটু থেমে সে আবার বলল, “টাকাটা নিয়ে আমাকে এখন গোয়া যেতে হবে। এতগুলো টাকা নিয়ে কি করে যে কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না”। সুজন কয়েক মিনিট চুপচাপ ভাবল। তারপর বললো, “তুমি আমার সঙ্গে পালাতে রাজি আছো?”

-“পালাবো, কোথায়? কিভাবে?”

-“সে সব পরে বলছি। রাজি আছো কিনা বল। পালাতে না পারলে আমারা কোন দিন সুখী হতে পারবো না। একদিন না একদিন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেলে পচে মরবো। বাঁচেতে হলে পালাতে হবে”।

-“বাবার কি হবে?” রঞ্জিতার দুই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল।

সুজন ফোনের সিম কার্ডটা বদলে নিলো। তার এই নাম্বারটা কেউ জানে না। এখন ফোনের উল্টো দিকে নিশিকান্ত বাবু, “রঞ্জিতা আমার সঙ্গেই আছে। আপনার ফোনে এখুনি একটা ফ্লাইটের টিকিট পাঠাচ্ছি। আপনি পুনা চলে আসুন। আমরা এয়ারপোর্ট থেকে আপনাকে তুলে নেবো। বাড়িতে জরুরী কাগজপত্র যা আছে সব সঙ্গে নেবেন”।

রঞ্জিতা চোখ মুছতে মুছতে বললো, “তোমার প্ল্যানটা কি?”

-“আমার সঙ্গে একটা গাড়ি আর পাঁচ কোটি টাকাও রয়েছে। ঠিক ভাবে কিছু একটা করতে পারলে বাকি জীবনটা সুন্দর কেটে যাবে। এখন পুনা গিয়ে বাবাকে তুলবো। তারপর দেখি কি করা যায়। কাঞ্চন দা মাউন্ট শঙ্করকে যদি ভ্যানিস করে দিতে পারে তাহলে আমারা তিন জন ভ্যানিস হতে পারবো না কেন?”

রঞ্জিতা সুজনকে জড়িয়ে ধরলো। সুজনও অনুভব করলো, সে পারবে। পারতে তাকে হবেই। (শেষ ) 

ছবি: গুগল  

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199