নৃশংসতার সাক্ষ্য দেয় গ্রাসের টিন ড্রাম

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 21 Nov 2024

2030 বার পড়া হয়েছে

Shoes

জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসের আলোচিত উপন্যাস ‘টিন ড্রাম’ ৬৫ বছরে পড়লো। ১৯৫৯ সালে প্রথম প্রকাশ পেয়েই উপন্যাসটি হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীর ইতিহাসে বড় সংকটগুলোর একটি। বলা যায়, মানব সভ্যতার প্রবাহের ধারাটিই এই যুদ্ধে ছত্রখান হয়ে গিয়েছলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় আট কোটি মানুষের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে হিটলারের নাজিবাদের অবসান ঘটে। যুদ্ধের পর পূর্ব জার্মানী চলে যায় সোভিয়েত রাশিয়ার দখলে। আর পশ্চিমাংশ থাকে পশ্চিমা বিশ্বের আয়ত্বে। দুই জার্মানীতেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জার্মান জাতি ধীরে ধীরে ফিরে তাকাতে শুরু করলো তাদের ভয়ংকর নাজি অতীতের দিকে। তখনই জার্মান সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা হলো যুদ্ধোত্তর কালে জার্মান সাহিত্যের অন্যতম সেরা উপন্যাস টিন ড্রামের হাত ধরে। ১৯৫৯ সালে উপন্যাসটি প্রকাশ হবার পর বেশ সমালোচনার কবলে পড়ে। কেউ কেউ টিন ড্রাম উপন্যাসকে ‘ব্লাসফেমিয়াস’ বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু সেই সংকট বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। খুব দ্রুতই ট্রিন ড্রাম সাহিত্য বোদ্ধাদের কাছে ব্যাপক ভাবে সমাদৃত হলো। শুধু জার্মানীতে নয় টিন ড্রামের অনুবাদ ইউরোপ, আমেরিকাসহ গোটা বিশ্বের পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলো উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এর অনুবাদ বিক্রি হলো চার লক্ষেরও বেশি কপি। টিন ড্রাম নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলারের তালিকায় রয়ে গেলো টানা তিন সপ্তাহ। প্রকাশের কুড়ি বছর পর উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন হয়। আড়াই ঘন্টা সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।
তিনটি পর্বে বিভাযিত এই উপন্যাসে যে শহরটির কথা গুন্টার গ্রাসের উপন্যাসে উঠে এসেছে তার নাম ডানৎসিগ। বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাতে কীভাবে পাল্টে যাচ্ছে মানুষের জীবন, পরিবার, সমাজ আর একটা শহর তার গভীর বিবরণ আছে এই উপন্যাসে। সেই শহরটিতে একটা জার্মান, পোলিশ জাতির মানুষরা একসঙ্গে বসবাস করতো। হিটলারের স্বৈরশাসনের উত্থান পর্বে ইহুদী নির্যাতনের বিভীষিকাময় অন্ধকার পর্বের কাহিনী বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই উপন্যাসের।

তথ্যসূত্রঃ অন্যস্বর, কলকাতা
ছবিঃ গুগল

 

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199